×

শেষের পাতা

দিনভর ভারি বর্ষণে সিলেট-সুনামগঞ্জে ফের বন্যার আশঙ্কা

Icon

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

খালেদ আহমদ, সিলেট ও মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, সুনামগঞ্জ থেকে : আরেক দফা বন্যার মুখে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জ। গত শুক্রবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এমন তথ্য জানিয়েছে। বৃষ্টি কমায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদনদীর পানি কমছিল গত কিছুদিন ধরে। কিন্তু গতকাল শনিবার সিলেট-সুনামগঞ্জে দিনভর বৃষ্টি হয়। ফলে ফের বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে এ অঞ্চলে।

পাউবো বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বন্যা তথ্য কেন্দ্র থেকে গত শুক্রবার বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও সংলগ্ন উজানে আগামীকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির হতে পারে। ফলে এ সময় এ অঞ্চলের নদনদীর পানি বাড়তে পারে। এ সময় সুরমা, কুশিয়ারা, পুরাতন সুরমা ও সারিগোয়াইন নদনদীর পানি দ্রুত বেড়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নি¤œাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে আগামী তিনদিনে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে এ সময় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীসমূহের পানির সমতল বাড়তে পারে। এ সময়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা, কুশিয়ারা, পুরাতন-সুরমা, সারিগোয়াইন নদীর পানির সমতল দ্রুত বেড়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কতিপয় নি¤œাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের তথ্যানুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। নদীর অন্যান্য পয়ন্টে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী ঘরবাড়িগুলোতে এখনো পানি থাকায় ভোগান্তিতে রয়েছেন মানুষ। সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে শনিবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার।

এদিকে গত ১৬ জুন থেকে সৃষ্ট বন্যায় বিপাকে পড়েছিল সুনামগঞ্জের মানুষ। হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে উজানের পাহাড়ি ঢল আর ভারি বৃষ্টিপাতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল প্রায় ১০ লাখ মানুষ। বন্যার পানি এখন কমে গেলেও নতুন করে আবারো বন্যার পূর্বাভাসে জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বন্যার মধ্যমেয়াদি পূর্বাভাস সম্পর্কিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরে এবং তৎসংলগ্ন পদ্মা-মেঘনা-যমুনা অববাহিকার উজানের কিছু স্থানে বিভিন্ন সময়ে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মাঝারি থেকে ভারী এবং সময় বিশেষে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রধান নদনদীগুলোর ২৮ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত আগামী ১০ দিনের নদী-অববাহিকা ও অঞ্চলভিত্তিক বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাব্য অবস্থা নিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদনদীগুলোর পানি কমছে জানিয়ে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে আগামী সাত দিন মাঝারি থেকে ভারি এবং কখনো কখনো ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ফলে এ সময়ে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীর পানি বাড়তে পারে। চলতি মাসের শেষভাগ থেকে আগামী মাসের প্রথমভাগ নাগাদ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুনামগঞ্জ জেলার নদীগুলোর (সুরমা, কুশিয়ারা, পুরাতন-সুরমা) পানি দ্রুত বেড়ে নি¤œাঞ্চলে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

গতকাল শনিবার বিকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার ভোরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ৬ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের প্রধান নদী সুরমাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নদীগুলোর পানি ৬ সে.মি. বেড়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App