×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

শেষের পাতা

সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হলে সোনার মানুষ দরকার

৩০ শিক্ষার্থী পেল ‘আলী যাকের মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থপাঠ’ পুরস্কার

Icon

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হলে সোনার মানুষ দরকার

কাগজ প্রতিবেদক : আষাঢ়ের পড়ন্ত দুপুরে প্রকৃতির আপন খেয়ালেই প্রিয় বিরহে কাতর হয় হৃদয়। এমনই পড়ন্ত বেলায় আলো নিভে যাওয়া স্টেজ থেকে ভেসে আসে বাদ্যযন্ত্রহীন খালি গলায় কবিগুরুর বিখ্যাত গানের লাইন- ‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।/ তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে।/ তবু প্রাণ নিত্যধারা, হাসে সূর্য চন্দ্র তারা,/ বসন্ত নিকুঞ্জে আসে বিচিত্র রাগে।’ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কর্মী প্রমিলা বিশ্বাসের মায়াবী কণ্ঠে আরো আর্দ্র হয়ে ওঠে সবার হৃদয়। গান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূরের মোহনীয় কণ্ঠের আবৃত্তি, ‘কুনঠি চলে যাও বাহে।’ কামাল উদ্দিন নিরু রচিত এই কবিতার সঙ্গে ভিডিওচিত্রে আলী যাকেরের বর্ণাঢ্য জীবনের কিছু দৃশ্য। প্রিয় নাট্যজন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী যাকের স্মরণে গ্রন্থপাঠের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এভাবেই গানে-কবিতায়, আলোচনায় শ্রদ্ধা জানানো হয় এই গুণীজনকে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘আলী যাকের মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থপাঠ’ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মোট ৩০ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের চার ট্রাস্টি আসাদুজ্জামান নূর, ডা. সারওয়ার আলী, মফিদুল হক ও সারা যাকের, জুরি বোর্ডের সদস্য জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক মিনার মনসুর, পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার, আলী যাকেরের পুত্র নাট্যঅভিনেতা ইরেশ যাকের, গ্রন্থপাঠ উদ্যোগের সমন্বয়ক মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ এবং সিলেকশন কমিটির পক্ষে সাংবাদিক ঝর্ণা মনি।

শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, বই পড়ার মধ্য দিয়ে আমরা আলোর দিকে ধাবিত হই। সমাজে ধর্মান্ধতা এত বেশি গেড়ে বসেছে, সেখানে সংস্কৃতিচর্চা হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা নিয়ে একটা হতাশা কাজ করে। পাড়ায় পাড়ায় ওয়াজ-মাহফিল হয়। সেখানে নারীদের কুৎসা গাওয়া হয়। খুব কষ্ট লাগে। এ থেকে উত্তরণের জন্য ব?ই পড়তে হবে।

সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য সোনার মানুষ প্রয়োজন মন্তব্য করে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, পড়াশোনা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চায় না থাকলে ছেলেরা করছে কী? পরিবারগুলো কি খোঁজ নিচ্ছে? জিপিএ ফাইভ নির্যাতন চলছে। আমরা কী পণ্ডিত বানাচ্ছি ভেবে দেখা দরকার। এত বড় বিজ্ঞানী হয়েও আইনস্টাইন বেহালা বাজাতেন। আমরা কি ছেলেমেয়েদের একটু গান শেখাতে পারি না। জ্ঞান অর্জন করাটাই বড় কথা। সেজন্য পড়তে হবে।

ডা. সারওয়ার আলী বলেন, আলী যাকের বহু পরিচয়ে পরিচিত। তিনি মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয় অবদান রেখেছেন। তার প্রতিটি কাজে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা ছিল। এটি তার সবচেয়ে বড় গুণ। তাকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর গৌরবান্বিত। এজন্যই জাদুঘরের উদ্যোগে তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে গ্রন্থপাঠের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে বই

পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। নয়তো সমাজ যে অধোগতির দিকে যাচ্ছে তা রোধ করা যাবে না। শুধু পাঠ্যপুস্তক পড়ে ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, রক্ষণশীলতার মূলোৎপাটন করা সম্ভব নয়।

মফিদুল হক বলেন, তরুণ প্রজন্ম বইবিমুখ হয়ে যাচ্ছে- এমন একটি হাহাকার রয়েছে। সেখান থেকে আমরা শিক্ষার্থীদের বই পড়ায় অভ্যস্ত করতে চেষ্টা করছি। এরই আলোকে ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রন্থপাঠ ছড়িয়ে দিতে উদ্যাগ বাস্তবায়ন করছে। তরুণদের হাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মশাল ছড়িয়ে দেয়াই এর লক্ষ্য। এই আলোর মশাল এগিয়ে নিয়ে যাবে তরুণ প্রজন্ম।

সারা যাকের বলেন, ফেসবুক-ইউটিউবের সময়েও কেউ কেউ ব?ই পড়ছে। এজন্য পরিবারের উৎসাহ সবচেয়ে বড়। পরিবারের উৎসাহ ছাড়া সেটা সম্ভব নয়। মিনার মনসুর বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার আকুলতা আছে। কিন্তু তার পরিবার যে কোনো কারণে সেই (বই) জোগান দিচ্ছে না বা উদ্বুদ্ধ করছে না। এ ব্যাপারে পরিবার থেকেই উদ্যোগী হতে হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঢাকা মহানগরীর দনিয়া পাঠাগারের মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজকে প্রধান করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে তৃতীয়বারের মতো ‘আলী যাকের মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থপাঠ’ পরিচালিত হয়। এ উদ্যোগে সহায়তা করেছে মঙ্গলদীপ ফাউন্ডেশন। তিন মাসব্যাপী এ বইপাঠ কর্মসূচির সূচনা হয় গত নভেম্বরে। প্রতিটি গ্রন্থাগারে নির্বাচিত তিনটি বইয়ের পাঁচটি করে সেট দেয়া হয়। নির্বাচিত বইগুলো হলো- স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আহসান হাবীব রচিত ‘৭১-এর রোজনামচা’, কলেজ পর্যায়ে শেখ তাসলিমা মুন রচিত ‘আমি একটি বাজ পাখিকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম’ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কথাসাহিত্যিক মাহমদুল হক রচিত ‘জীবন আমার বোন’।

ঢাকা মহানগর ও কয়েকটি জেলার ৫০টি পাঠাগার এবার কর্মসূচিতে অংশ নেয়। পাঠ শেষে ৪৬টি পাঠাগার পাঠ-প্রতিক্রিয়া জমা দেয়। স্কুল পর্যায়ে ২২৬টি, কলেজ পর্যায়ে ১৬৩টি এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ১৫৯টিসহ মোট ৫৪৮টি পাঠ প্রতিক্রিয়া জমা পড়ে। সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রাথমিক নির্বাচক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ছিলেন সমকালের সাংবাদিক আবু সালেহ রনি, জনকণ্ঠের সাংবাদিক মোরসালিন মিজান ও ভোরের কাগজের সাংবাদিক ঝর্ণা মনি। তারা স্কুল পর্যায়ে ৩৭টি, কলেজ পর্যায়ে ৩১টি এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ২৮টি পাঠ প্রতিক্রিয়া জুরি বোর্ডের চূড়ান্ত বিচারের জন্য মনোনীত করেন। জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল তিন ক্যাটাগরিতে ৩০ শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রতি বিভাগে সেরা ১০ জনের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকার বই ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হয়। এছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক পাঠককে সনদ দেয়া হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App