×

শেষের পাতা

উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে চসিকের ১৯৮১ কোটি টাকার বাজেট

নিয়মিত কর দেয়ার আহ্বান মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর

Icon

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে চসিকের  ১৯৮১ কোটি টাকার বাজেট

চট্টগ্রাম অফিস : ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ১ হাজার ৯৮১ কোটি ৫২ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেটে উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে এ বাজেট ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। নির্বাচিত মেয়র হিসেবে এটি তার চতুর্থ বাজেট। গত অর্থবছরে (২০২৩-২৪) বাজেট ছিল ১ হাজার ৮৮৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা, সংশোধিত বাজেট ১ হাজার ৬৬১ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বাজেটের ৮৮ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে।

এদিকে, গত অর্থবছরের মতো উন্নয়ন অনুদান ও গৃহকর আদায়কে আয়ের মূল খাত দেখিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছে চসিক। এর মধ্যে এবারের বাজেটে নিজস্ব উৎসে সর্বোচ্চ আয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। আর উন্নয়ন অনুদান খাতে ৯০৯ কোটি টাকার আয় ধরা হয়েছে। নতুন অর্থবছরের বাজেটের পাশাপাশি গত (২০২৩-২৪) অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬১ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়। ওই অর্থবছরে মোট ১ হাজার ৮৮৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে ৮৮ শতাংশ। যা চসিকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানায় চসিক। যেখানে এর আগের অর্থবছরে বাস্তবায়ন হয় মাত্র ৫৪ দশমিক ৪২ শতাংশ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তিন ধরনের কর বাবদ মোট আয় ধরা হয়েছে ৬৭১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এর মধ্যে বকেয়া কর ও অভিকর খাতে সর্বোচ্চ আয় ধরা হয়েছে ২৩৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। হাল কর ও অভিকর খাতে ২৩২ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর বাবদ ২০০ কোটি ১৫ লাখ টাকা আয় ধরা হয়েছে। একইভাবে গত অর্থবছরে (২০২৩-২৪) তিন ধরনের করে মোট আয় ধরা হয়েছিল ৬৪০ কোটি ৫ লাখ টাকা। ওই অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুসারে এ তিন ধরনের কর খাতে চসিকের আয় হয়েছে ৪১৫ কোটি ৭ লাখ টাকা।

এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন অনুদান খাতে ৯০৯ কোটি টাকা আয় দেখানো হয়েছে। গত অর্থবছরে এ খাতে আয় দেখানো হয় ৮৯৪ কোটি টাকা। কিন্তু উন্নয়ন অনুদান খাতে আয় হয়েছে ৯৮৩ কোটি ৫ লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে প্রস্তাবিত বাজেটে ৩৮ কোটি ৫ লাখ টাকা আয় ধরা হয়। একই সঙ্গে উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। যেখানে গত অর্থ বছরের বাজেটে উন্নয়ন খাতে ৯৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হলেও খরচ হয় ১ হাজার ১৫ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

চসিক মেয়র বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়েছি ১ হাজার ৭৫ কোটি টাকা দেনা নিয়ে। তিন বছর দেনা পরিশোধের পর এখন চসিকের দেনা ৪৪০ কোটি টাকা। আয়কর বাবদ ১১৩ কোটি ৪৬ লাখ এবং মূল্য সংযোজন কর বাবদ ১৩৪ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। আনুতোষিক বাবদ ১৮ কোটি ৪১ লাখ এবং ভবিষ্যৎ তহবিলে ১৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

২০২৫ সালে চসিকের হিসাব বিভাগ সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আসবে। হোল্ডিং মালিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত কর পরিশোধ করে নাগরিকসেবা ও উন্নয়ন কাজ গতিশীল রেখে নান্দনিক, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, জলজটমুক্ত ও বাসযোগ্য নগর গড়তে সহায়তার আহ্বান জানান মেয়র। চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক এবং স্মার্ট নগর হিসেবে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরে সিটি মেয়র নিয়মিত কর পরিশোধের জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

বাজেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। বাজেট অধিবেশনে বাজেট বিবরণী উপস্থাপন করেন অর্থ ও সংস্থাপনবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর মো. ইসমাইল। উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র আফরোজা কালাম, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও চসিকের বিভাগীয় প্রধানরা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App