×

শেষের পাতা

‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ’

Icon

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ’

কাগজ প্রতিবেদক : আজ ২৬ জুন, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের প্রয়াণ দিবস। ১৯৯৪ সালের এই দিন আমেরিকার মিশিগানের ডেট্রয়েট শহরের সাইনাই হাসপাতালে দুরারোগ্য ক্যান্সারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহীয়সী নারী। এ দেশের স্বাধীনতার অমর চেতনাধারী একজন শহীদ জননীর জ্বলন্ত প্রতীকের নাম জাহানারা ইমাম। জন্ম ১৯২৯ সালের ২৩ মে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে। বাবা ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ আবদুল আলী, মা সৈয়দা হামিদা বেগম। জাহানারা ইমাম ১৯৪৭ সালে কলকাতার ব্রেবোর্ন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে বি-এড করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে। ১৯৬৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন’ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ করেন। ময়মনসিংহে তার শিক্ষকতার শুরু। পরে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হন। প্রধান শিক্ষক ছিলেন বুলবুল একাডেমি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে। ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে প্রভাষক ছিলেন দুই বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন কিছুদিন।

১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শীর্ষ বিরোধিতাকারী গোলাম আযমকে জামায়াতের আমির করা হলে জনমনে যে বিক্ষোভের জন্ম হয় এরই সূত্র ধরে নেতৃত্ব দেন ১০১ জন সদস্য নিয়ে গঠিত একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির। তিনি ছিলেন কমিটির আহ্বায়ক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চসহ ৭০টিরও বেশি সংগঠনের জোটবদ্ধ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় কমিটি’র নেতৃত্ব দেন শহীদ জননী। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে এই জাতীয় কমিটি ‘গণ-আদালত’-এর মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একাত্তরের নরঘাতক গোলাম আযমের ঐতিহাসিক বিচার করে; যাতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ১০টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ১২ জন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত গণ-আদালতের চেয়ারম্যান জাহানারা ইমাম গোলাম আযমের ১০ অপরাধ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য বলে ঘোষণা দেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অবিস্মরণীয় নাম শহীদ জননীর জন্মদিনটিই গুরুত্বপূর্ণ, মৃত্যু দিন নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশে শহীদ জননীর কোনো মৃত্যু দিন নেই। তিনি কেবল জন্মেছেন, মহিমান্বিত করেছেন বাঙালির আত্মজ অহংকারকে এবং তিনি আলোকিত করেছেন জাতিকে, হাত ধরে টেনে নিয়ে গেছেন সূর্যের দিকে, এখনো যাচ্ছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রজেন্মের আকাশ, নীল-আকাশ। তারুণ্যের অগ্নিশপথ, এই অখণ্ড নীল-আকাশে কখনো মেঘ জমবে না।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, ‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ/ মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।’ মৃত্যুহীন প্রাণকে মরণের মধ্য দিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে দান করে গেছেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App