×

শেষের পাতা

সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১৪ হাজার ২৭৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে

Icon

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, দেশে বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি মিলে মোট মেডিকেল কলেজ ১১০টি। এর মধ্যে ৩৮টি সরকারি মেডিকেল কলেজ (একটি সেনাবাহিনী পরিচালিত) এবং ৭২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। আইন ও নীতিমালা অনুসারে মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা না করায় ৪টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং দুটি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন এসব তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী।

এমপি পঙ্কজ দেবনাথের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি ও বেসরকারি মিলে দেশে মোট মেডিকেল কলেজ ১১০টি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি মেডিকেল কলেজ ৩৭টি, যার আসন সংখ্যা ৫ হাজার ৩৮০। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত সরকারি মেডিকেল কলেজ একটি, যার আসন সংখ্যা ১২৫। এছাড়া বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ৭২টি। এর মধ্যে সেনাবাহিনী পরিচালিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ৫টি, যার আসন সংখ্যা ২৬০। অপর ৬৭টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন ৬ হাজার ২৯৭।

তিনি বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতালগুলোয় নতুন যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে পারে। যন্ত্রপাতি যেন দ্রুত চালু করা যায় সে জন্য হাসপাতালে টেকনিশিয়ান নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়নসহ ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা হচ্ছে।

এমপি মাইনুল হোসেন খানের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সারাদেশে বর্তমানে ১৪ হাজার ২৯২টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে মোট ১৪ হাজার ২৭৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। নতুন আরো ৯৮টি কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণকাজ চলছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক বর্তমান সরকারের সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যা দেশে-বিদেশে নন্দিত। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ জনগণ সমন্বিত স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টি সেবা পাচ্ছেন। এটি জনগণ ও সরকারের যৌথ প্রয়াসে বাস্তবায়িত একটি কার্যক্রম। জনমুখী এ কার্যক্রম ১৯৯৬ সালে নেয়া হয় এবং ১৯৯৮ সালে বাস্তবায়ন শুরু হয়। ১৯৯৮-২০০১ সময়ে ১০ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মিত ও অধিকাংশই চালু করা হয় এবং জনগণ সেবা পেতে শুরু করে। ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং এ অবস্থা ২০০৮ সাল পর্যন্ত থাকে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নদীভাঙন ও অন্যান্য কারণে ৯৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক ধ্বংস হয়ে যায় এবং ১০ হাজার ৬২৪টি বিদ্যমান থাকে।

তিনি জানান, কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪র্থ সেক্টর এইচপিএনএসপি কর্মসূচির আওতায় (জানুয়ারি ২০১৭ হতে জুন ২০২৩ মেয়াদে) কমিউনিটি বেইজ হেলথ কেয়ার অপারেশনাল প্ল্যান অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় কমিউনিটি বেইজ হেলথ কেয়ার অপারেশনাল প্ল্যানের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিকের সব কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে গ্রামীণ জনগণকে মূলতঃ স্বাস্থ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য উন্নয়ন, পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনা, উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগ সনাক্তকরা, সীমিত নিরাময়মূলক সেবাসহ জরুরি ও জটিল রোগীদের যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য উচ্চতর পর্যায়ে রেফার সংক্রান্ত সেবা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া অসংক্রামক রোগসমূহ প্রাথমিকভাবে নিরূপণ এবং উচ্চতর পর্যায়ে রেফার যেমন- উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আর্সেনিকোসিস, অটিজম ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়মিত স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম আরো জোরদার করা এবং একটি কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে কত ফি দিতে হবে তা নির্ধারণ করে দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App