×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

শেষের পাতা

ধীর গতিতে উন্নতি বন্যা পরিস্থিতির

Icon

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ধীর গতিতে উন্নতি  বন্যা পরিস্থিতির

কাগজ ডেস্ক : পাঁচ দিন ধরে বৃষ্টি হয়নি সিলেটে, থেমে গেছে পাহাড়ি ঢলও। তবে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জসহ কুশিয়ারা অববাহিকায় এখনো সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজারে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার এখনো উপরে রয়েছে। এ ব্যাপারে সিলেট অফিস ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ফারুক আহমদ, সিলেট থেকে : জেলার ফেঞ্চুগঞ্জসহ কুশিয়ারা অববাহিকায় এখনো সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। তবে পানি সামান্য করে কমতে শুরু করেছে। এদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে এখনো বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, এর আগে সোমবার কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, বন্যায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ২৫টির বেশি গ্রামে বন্যা প্লাবিত মানুষের সংখ্যা ১৮ হাজারের বেশি। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৩২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এদিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা চলছে। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র থাকা ২ হাজার বন্যার্তদের প্রতিদিন দুই বেলা করে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার সরবরাহ করছেন জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও বণিক সমিতির নেতারা। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকেও সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যা কবলিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রয়েছে পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাব। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে যেসব ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় কম। বিশুদ্ধ পানির সংকটও রয়েছে এলাকাগুলোতে। গবাদি পশুর খাবার নিয়েও বিপাকে রয়েছেন অনেকে।

বন্যার পানি ধীরে নামার কারণ হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জের উজানে রয়েছে জুড়ী নদী। এছাড়া মনু নদীও কুশিয়ারার শেরপুরে এসে যুক্ত হয়েছে। ফলে কুশিয়ারা নদীর পানি নামছে ধীর গতিতে। তাছাড়া ডাউন-স্ট্রিমের প্রায় সব এলাকা প্লাবিত। এটাও বন্যার পানি ধীর গতিতে নামার একটি কারণ। তবে বৃষ্টিপাত না হলে ও সিলেট অঞ্চলে প্রতিদিন রোদ হলে বন্যার পানি কমা অব্যাহত থাকবে।

মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, সুনামগঞ্জ থেকে : নদনদীর পানি কমতে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এরই মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ছোট নৌকা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। এদিকে এখনো

জেলার একাধিক উপজেলা থেকে বন্যার পানি না কমায় গবাদি পশু নিয়েও পড়েছেন বিপাকে। বাড়িতে গবাদি পশু রাখার জায়গা না থাকায় অনেকেই রাস্তার পাশে তাবু খাটিয়ে গবাদি পশু নিয়ে রাত্রি যাপন করছেন।

তবে বানের পানির স্রোত এতটাই বেশি ছিল যে নি¤œাঞ্চলের পানি উঠা বসতভিটাগুলোকে তছনছ করে দিয়েছে। তবে বন্যার তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দোয়ারাবাজার, ছাতক ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা।

জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলার সাড়ে ৬ লাখ মানুষ গত এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি থাকার পর এখন স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে শুরু করেছেন। গত কয়েকদিন পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টি না হওয়ায় বন্যার পানি বাড়িঘর থেকে নেমে গেছে। জেগে উঠেছে বানের জলে তলিয়ে যাওয়া সড়কগুলোও। সেই সঙ্গে জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক পথে যোগাযোগ সচল হয়েছে তাহিরপুর উপজেলার। এমনকি খুলে দেয়া হয়েছে জেলার সব পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

তবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা বলেন, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এখন আমরা ঘরবাড়ি কীভাবে মেরামত করবো। কীভাবে সংসার চালাব, সেটা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ফাতেমা বেগম বলেন, নিজের জায়গা জমি না থাকায় অন্যের জায়গায় ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে থাকতাম। বন্যার পানিতে ঝুপড়ি ঘরটিও একদম তছনছ হয়ে গেছে। এখন ঘর মেরামত করার জন্য টাকা কোথায় পাব সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

ছাতকের মিয়া হোসেন বলেন, এখন পানি কমায় আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে এসেছি। বাড়ি এসে দেখি বাড়ি আর বাড়ি নেই। আসবাবপত্রসহ কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জে যে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল সেটা এরই মধ্যে অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের প্রধান নদী সুরমার পানি ৪৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এবং জেলার ছাতক ১৩, দোয়ারাবাজারে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App