×

শেষের পাতা

মন্ত্রীর নির্দেশে পদক্ষেপ নিয়েছে বন বিভাগ

রাসেলস ভাইপারে আতঙ্ক নয়, সচেতনতার পরামর্শ

Icon

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রাসেলস ভাইপারে আতঙ্ক নয়, সচেতনতার পরামর্শ

কাগজ প্রতিবেদক : দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) নিয়ে জনমনে আতঙ্ক দেখা দেয়ার প্রেক্ষাপটে এই প্রজাতির সাপ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা ও সাবধানতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গতকাল শনিবার পরিবেশ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিয়েছে। তাতে বলা হয়, রাসেলস ভাইপারের উপস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, মানুষের সঙ্গে এই সাপের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই সাপ সাধারণত নীচুভূমির ঘাসবন, ঝোঁপজঙ্গল, উন্মুক্ত বন, কৃষি এলাকায় বাস করে এবং মানুষের বসতি এড়িয়ে চলে। সাপটি মেটে রঙের হওয়ায় মাটির সঙ্গে সহজে মিশে যেতে পারে। মানুষ খেয়াল না করে সাপের খুব কাছে গেলে সাপটি বিপদ দেখে ভয়ে আক্রমণ করে। এই সাপ দক্ষ সাঁতারু হওয়ায় নদীর স্রোতে ও বন্যার পানিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে। তাই, সবাইকে সাবধানতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ বন বিভাগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

এদিকে গতকাল সকালে সারাদেশের সিভিল সার্জন ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, বিভাগীয় পরিচালক, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকসহ দেশের সব স্বাস্থ্য বিভাগের

কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাসেলস ভাইপার নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি জনগণকে বলব আপনারা আতঙ্কিত হবেন না। রাসেলস ভাইপারের যে অ্যান্টিভেনম তা আমাদের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত মজুত আছে। আমি পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছি কোনো অবস্থাতেই অ্যান্টিভেনমের ঘাটতি থাকা যাবে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সর্পদংশনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া। অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে এক্ষেত্রে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচারণায় জোর দেন তিনি। ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, সর্পদংশনের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা খুবই জরুরি। রোগীকে হাসপাতালে আনতে যাতে দেরি না হয় সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সাপের কামড় এড়াতে করণীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে- যেসব এলাকায় রাসেলস ভাইপার দেখা গিয়েছে, সেসব এলাকায় চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন; লম্বা ঘাস, ঝোপঝাড়, কৃষি এলাকায় হাঁটার সময় সতর্ক থাকা, গর্তের মধ্যে হাত-পা না ঢুকানো; সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাজ করার সময় বুট এবং লম্বা প্যান্ট পরা; রাতে চলাচলের সময় অবশ্যই টর্চ লাইট ব্যবহার করা; বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার ও আবর্জনামুক্ত রাখা; পতিত গাছ, জ্বালানি কাঠ, খড় সরানোর সময় বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা; সাপ দেখলে তা ধরা বা মারার চেষ্টা না করা; প্রয়োজনে জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বরে কল করা বা নিকটস্থ বন বিভাগের অফিসকে অবহিত করা।

ওই নির্দেশনায় সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে- দংশিত অঙ্গ নড়াচড়া না করা; পায়ে দংশনে- বসে থাকা হাঁটাচলা না করা; হাতে দংশনে- হাত নড়াচাড়া না করা। কারণ হাত পায়ের গিরা নাড়াচাড়ায় মাংসপেশির সংকোচনের ফলে বিষ দ্রুত রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে গিয়ে বিষক্রিয়া হতে পারে। আক্রান্ত স্থান সাবান দিয়ে আলতোভাবে ধুয়ে নেয়া বা ভেজা কাপড় দিয়ে আলতোভাবে মুছে ফেলা; ঘড়ি বা অলঙ্কার বা তাবিজ, তাগা ইত্যাদি থাকলে খুলে ফেলা; দংশিত স্থানে কাঁটা, সুই ফোটানো কিংবা কোনোরকম প্রলেপ লাগানো বা অন্য কিছু প্রয়োগ করা যাবে না। সাপে কাটলে ওঝার কাছে গিয়ে অযথা সময় নষ্ট না করে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যাওয়া; আতঙ্কিত না হয়ে, রাসেলস ভাইপারের বিষ প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

রাসেলস ভাইপারের প্রাদুর্ভাব কমাতে করণীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনায় বলা হয়েছে- বেজি, গুইসাপ, বাগডাশ, গন্ধগোকুল, বন বিড়াল, মেছো বিড়াল, তিলা নাগ ঈগল, সারস, মদন টাক এবং কিছু প্রজাতির সাপ ‘রাসেলস ভাইপার’ খেয়ে এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এসব বন্যপ্রাণীকে মানুষের নির্বিচারে হত্যার কারণে প্রকৃতিতে রাসেলস ভাইপার বেড়ে যাচ্ছে। তাই বন্যপ্রাণী দেখলেই অকারণে তা হত্যা, এদের আবাসস্থল ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকতে হবে। স্মরণ রাখা প্রয়োজন, রাসেলস ভাইপার বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর ৬(১) ধারা অনুযায়ী সংরক্ষিত প্রাণী। এই সাপ ইঁদুর খেয়ে যেমন ফসল রক্ষা করে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সাপের বিষ থেকে অনেক জীবন রক্ষাকারী ওষুধ তৈরি হয়। সাপ মারা দণ্ডনীয় অপরাধ, সাপ মারা থেকে বিরত থাকুন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App