×

শেষের পাতা

বানের পানি আটকে থাকায় অলওয়েদার সড়ক দায়ী নয়

Icon

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বানের পানি আটকে থাকায় অলওয়েদার সড়ক দায়ী নয়

কাগজ প্রতিবেদক : পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতে সিলেট ও সুনামগঞ্জে প্রবল বন্যা দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে বানের পানি আটকে আছে পাহাড় ও হাওড়ের এই দুটি জেলায়। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। বানের পানি দ্রুত নামতে পারছে না। এজন্য অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী-খাল আটকে রাস্তা নির্মাণ, বর্জ্যরে অব্যবস্থাপনা ও নাগরিকদের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডকে দায়ী করছেন দুর্যোগ ব্যবস্থপনা বিশেষজ্ঞ ও জনপ্রতিনিধিরা। সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যার জন্য ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কের কারণে পানি আটকে থাকাকে অবান্তর ও অযৌক্তিক বলেছেন তারা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা ভোরের কাগজকে বলেন, নানা কারণে বন্যার পানি আটকে যেতে পারে। এবার তো হাওরে মাছের ডিম ছাড়ার মতো পানি ছিল না। কারণ এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। যদি পানি থাকত তাহলে অলওয়েদার সড়ককে দায়ী করা যেত। অলওয়েদার সড়কের কারণে সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যার পানি আটেক গেছে- কথাটি অযৌক্তিক। হাওরে পূর্ণ পানি থাকলে হয়তো বানের পানি আটকে যেত। তবে ভবিষ্যতে এই রাস্তাটি পানি দুর্যোগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সরকার অবশ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাওরে এ রকম আর কোনো রাস্তা করা হবে না।

তিনি বলেন, সিলেট শহর বা যে কোনো শহরই অপরিকল্পিতভাবে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। উপশহর করা হচ্ছে নিচু জায়গায়। নগর ব্যবস্থাপনায় ত্রæটি আছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে হচ্ছে না। নগরবাসীরও দায়িত্ব আছে বর্জ্য সঠিক জায়গায় ফেলার। কিন্তু যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলে পয়ঃনিষ্কাশন আটকে দেয়া হয়। ফলে সামান্য বানের পানিতেও ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে পড়েন বাসিন্দারা। এই অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বর্জ্যরে অব্যবস্থাপনার কারণে সিলেটে বন্যার পানি আটকে আছে।

মিঠামইন উপজেলার ঘাঘড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, অলওয়েদার রোডের জন্য সিলেট-সুনামগঞ্জ ডুবে যাওয়ার কথা বাস্তবসম্মত নয়। অবান্তর, মুখরোচক। এর আগেও এ রকম হাস্যকর কথা ছড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, অলওয়েদার রোডের কারণে যদি সিলেট-সুনামগঞ্জে পানি বাড়ে তাহলে তো অলওয়েদার রোডে পানির বাড়ি খেতে হবে। পানি আটকে যেতে হবে। বর্তমানে হাওরে ৪-৫ ফুট পানি আছে, রাস্তা ছোঁয়া। সিলেট এলাকার চেয়ে অলওয়েদার রোড অন্তত ১০ ফুট নিচু। বানের ওই পানি নেমে এলে তো এই রাস্তা গড়িয়ে পড়বে। তাছাড়া হাওরের দুপাশে মেঘনা ও কুশিয়ারা নদী বয়ে গেছে। বেশি পানি হলে তা হাওর থেকে নদীতে প্রবাহিত হয়।

কিশোরগঞ্জের ইটনা সদর থেকে মিঠামইন হয়ে অষ্টগ্রাম সদরে

মিলেছে অলওয়েদার সড়কটি। তিন উপজেলাকে যুক্ত করা সড়কটি ২৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ। ইটনা হাওর, ঢাকি ইউনিয়ন হাওর, মিঠামইন হাওর ও অষ্টগ্রাম বড় হাওরের জলরাশির উপর দিয়ে যাওয়া সড়কটি এলাকাবাসীর সেতুবন্ধন। অলওয়েদার সড়কটিতে ৫৯০ দশমিক ৪৭ মিটার দীর্ঘ তিনটি পিসি গার্ডার, ১৯০ মিটার দীর্ঘ ৬২টি আরসিসি বক্স কালভার্ট, ২৬৯ দশমিক ৬৮ মিটার দীর্ঘ ১১টি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ রয়েছে। এই অলওয়েদার সড়কের দুপাশেই বয়ে গেছে কালনী, কুশিয়ারা, ঘোড়াউত্রা, মেঘনাসহ বিভিন্ন নদী।

উল্লেখ্য, অলওয়েদার সড়কটির জন্য সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যার পানি আটকে আছে বলে কিছু মানুষ বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করছেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App