×

শেষের পাতা

নজরদারিতে ভাইয়ের পরিবার ও ভাড়াটিয়ারা

জমিসংক্রান্ত বিরোধ ঘিরে চলছে তদন্ত

Icon

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জমিসংক্রান্ত বিরোধ  ঘিরে চলছে তদন্ত

কাগজ প্রতিবেদক : রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে শফিকুর রহমান ও ফরিদা ইয়াসমিন দম্পতিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরোলেও খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। পারিবারিক জমিসংক্রান্ত বিরোধকে ক্লু ধরেই তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে তারা। ঘটনাস্থল যাত্রাবাড়ী কোনাপাড়ার ওই বাড়ির অন্য বাসিন্দাদেরও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রযুক্তিগত মাধ্যমে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করেই খুনিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশের একাধিক দল। ঘটনাস্থলে কোনো সিসি ক্যামেরা না থাকায় কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে আশপাশের এলাকা থেকে সিসিটিভি ফুটেজে সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে খুনিদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শফিকুরের চাচাতো ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে তার জমিসংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে পরপর ৪টি মামলা করেছিল ওই পরিবার। এখনো দুটি মামলার তদন্ত চলছে। এ সংক্রান্ত বিরোধ ছাড়া শফিকুর ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কারো শত্রæতা এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

গত বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ফোন পেয়ে কোনাপাড়া এলাকার আড়াবাড়ি বটতলার বাড়িতে যায় পুলিশ। সেখানে তারা বাসার নিচতলায় শফিকুরের লাশ দেখতে পান। তার গলা ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। এরপর দোতলায় একটি কক্ষে মশারির ভেতর স্ত্রী ফরিদার লাশ পাওয়া যায়। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় তাদের ছেলে পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে ইমন যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে তিনি বলেন, গত বুধবার রাত ১টা থেকে পরদিন সকাল ৬টার মধ্যে তাদের বাড়িতে দুষ্কৃতকারীরা ঢুকে তার মা-বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পূর্বশত্রæতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ভুক্তভোগী শফিকুর রহমানের মেয়ের জামাতা আরিফুর রহমান বলেন, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা এসে আশপাশে বাড়িগুলো থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। তবে সেসব ফুটেছে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তারা। এ ছাড়াও তদন্তসংশ্লিষ্টরা মামলার বাদী ইমনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। তবে হত্যার কারণ ও খুনিদের শনাক্তের বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তারা।

এ ঘটনায় ভাড়াটিয়াদের সন্দেহ করছে পুলিশ, তাদের কেউ কেউ বাইরে আছে কিনা জানতে চাইলে আরিফুর রহমান বলেন, চার তলার একজন ভাড়াটিয়া বাসায় থাকছেন না। তিনি এলাকাতেই তার এক আত্মীয়ের বাসায় চলে গেছেন। তিনি একা থাকেন, তাই এই ঘটনার পরে ভয় পেয়েছেন। যাওয়ার আগে ঘরের চাবি দিয়ে বাড়ির সবাইকে এ কথা বলে গিয়েছেন। পুলিশ কোনো ভাড়াটিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি।

শফিকুর রহমানের ভাই মফিজুর রহমান বলেন, যাদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ তারা আমাদের শরিক ও ভাগীদার হলেও খুবই দুষ্ট প্রকৃতির। আমাদের চাচাতো ভাইয়ের এক ছেলে শফিকুর ভাইয়ের থেকে জোর করে কিছু জমি কিনতে চেয়েছে কয়েকবার। কিন্তু ভাই সেটা দেয়নি। এটা নিয়েই তারা একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চাচাতো ভাইয়ের ছেলে ও তার পরিবারসহ অন্য সন্দেহভাজন আত্মীয়দের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের মুঠোফোনের তথ্য ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া তাদের বাড়ির ভাড়াটিয়াদেরও সন্দেহ করা হচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আবুল হাসান ভোরের কাগজকে বলেন, হত্যাকারীদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। সম্ভাব্য সব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে। এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

জানা গেছে, নিহত শফিকুর রহমান জনতা ব্যাংকের গাড়িচালক হিসেবে ২ বছর আগে অবসরে যান। পরিবার নিয়ে তিনি ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি চারতলা ওই বাড়িও নির্মাণ করেছেন। নিচ তলার এক পাশ এবং তিন ও চার তলা ভাড়া দেয়া, তিনি নিজে দোতলায় থাকতেন। তার ছেলে স্ত্রীকে নিয়ে একই বাসায় থাকতেন। গত বুধবার রাতে ইমন দাদার বাড়ি ফেনী ও পরে তার স্ত্রী নিজের বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App