×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

শেষের পাতা

পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে প্লাবিত শান্তিগঞ্জ

ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কে আশ্রয় বন্যার্তদের, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

Icon

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কে আশ্রয়  বন্যার্তদের, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্ (সুনামগঞ্জ), ছায়াদ হোসেন সবুজ (শান্তিগঞ্জ) থেকে : ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় প্লাবিত হয়েছে শান্তিগঞ্জ উপজেলা। সেসঙ্গে ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় এখনো ঘরছাড়া উপজেলার হাজারো মানুষ। জীবন বাঁচাতে কেউ কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে, আবার কেউ বা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। আবার অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা না পেয়ে জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন মহাসড়কে। সড়কের ওপরে বাঁশের সঙ্গে ত্রিপল বেঁধে অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে মানুষ ও গবাদি পশু একসঙ্গে বসবাস করছেন। এ যেন মানুষে পশুতে মিলেমিশে একাকার। মহাসড়কে থাকায় অধিকাংশ ঘরে নেই রান্নার ব্যবস্থা। সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক যেন এখন একখণ্ড আশ্রয়কেন্দ্র। একদিকে চলছে দ্রুত গতির যানবাহন, অন্যদিকে বন্যার্তদের ঝুপড়ি ঘর। এমন অবস্থায় জীবনের চরম ঝুঁঁকি নিয়ে এসব ঝুপড়ি ঘরেই পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন বন্যার্তরা। তবে পানি কমতে শুরু করায় অনেকেই ফিরেছেন নিজের বসতবাড়িতে।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের আহসানমারা ব্রিজসংলগ্ন মহাসড়কের দুই পাশে আশ্রয় নিয়েছেন ২০-২৫টি বন্যার্ত পরিবার। ত্রিপল, টিন, বস্তা দিয়ে তৈরি এসব ঘরে চরম নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করছেন তারা। নেই বিদ্যুৎ, নেই নিরাপদ পানি সবমিলিয়ে দুর্ভোগের যেন শেষ নেই তাদের। এদিকে রাস্তার দুই পাশ দিয়ে অবিরাম চলছে দূরপাল্লার বাস, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন। পাশাপাশি রাস্তার দুই পাশে সমানতালে হাঁটাচলা করছেন বন্যার্তরা। শিশুরাও এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সড়ক পথে যাওয়ার সময় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণের ট্রাক দেখলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন তারা, যা শুকনো খাবার পাচ্ছেন সেগুলো দিয়েই জীবনধারণ করছেন। মহাসড়কে আশ্রয় নেয়া বেশির ভাগ মানুষই শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কস ইউনিয়নের খাকিয়ারপাড় এলাকার। বন্যায় সবকিছু প্লাবিত হওয়ায় মহাসড়কই এখন ভরসা এসব বন্যার্ত পরিবারের।

মহাসড়কে ঝুপড়ি ঘরে আশ্রয় নেয়া খাকিয়ারপাড় এলাকার হিম্মত আলী বলেন, বাড়িঘর থেকে এখনো বন্যার পানি না কমায় আজ তিন দিন হয় এখানে আছি। এখানে প্রতিনিয়তই জীবনের ঝুঁকি আছে। ঘরবাড়ি প্লাবিত থাকায় ঝুঁকি জেনেও মহাসড়কের পাশে বসবাস করছি। প্রশাসনের পক্ষথেকে ত্রাণ পেলেও তা খুবই কম। শুধু হিম্মতই আলীই নয় এভাবে ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন আরো অনেক বন্যার্তরা। ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। পানি কিছু কমলেও ঘরে ফেরার অবস্থা নেই। এমন অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি থাকার সত্ত্বেও সড়কেই বসবাস করছেন তারা।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা বলেন, আমরা সর্বত্রই ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। বৃষ্টি না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। এভাবে আবহাওয়া থাকলে দ্রুত সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App