×

শেষের পাতা

ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারি বর্ষণ

সিলেট-সুনামগঞ্জে বাড়ছে পানি

Icon

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট-সুনামগঞ্জে বাড়ছে পানি

খালেদ আহমদ, সিলেট ও মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, সুনামগঞ্জ থেকে : ভারতের মেঘের রাজ্য বলে খ্যাত চেরাপুঞ্জিতে ভারি বর্ষণ হয়েছে। গত শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে ৫১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদনদীগুলোতে পানি বাড়ছে। এতে ফের জলমগ্ন হতে পারে সিলেট মহানগর।

জানা গেছে, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে দ্রুত বাড়ছে সুনামগঞ্জের সুরমা, যাদুকাটা, কুশিয়ারাসহ ২৬ নদীর পানি। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ২৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল শনিবার বিকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। দ্রুত নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা আতঙ্কে দিন পার করছেন হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের ২০ লাখ বাসিন্দা।

জামালগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদ বলেন, যেভাবে নদীর পানি বাড়ছে সে অনুপাতে মনে হচ্ছে সুনামগঞ্জে ঈদের আগেই বন্যা হতে পারে। যদি ঈদের আগে বন্যা হয় তাহলে হাওরবাসীর ঈদ আনন্দে ভাটা পড়বে।

ধর্মপাশা উপজেলার বাসিন্দা সামছুল হক বলেন, টানা বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাড়ির আঙিনায় আসার উপক্রম হয়েছে। ফলে ঈদের আগেই বন্যা আতঙ্কে রাত কাটছে আমাদের।

তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা আবু আলী বলেন, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সীমান্ত নদী যাদুকাটাসহ জেলার সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এতে হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের প্রায় ২০ লাখ মানুষ বন্যা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেখান থেকে পাহাড়ি ঢল নামছে। সেই ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জের সব নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পাহাড়ি ঢল নামা

অব্যাহত থাকলে জেলার সব নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে এবং সুনামগঞ্জে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানিয়েছেন, বন্যার আশঙ্কাকে মাথায় রেখে বন্যা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে সিলেটের নদনদীগুলোতে পানি বাড়ছে। এতে ফের জলমগ্ন হতে পারে সিলেট মহানগর।

সিলেটের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন জানান, শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট আবহাওয়া অফিসের রেকর্ডকৃত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৬২ মিলিমিটার। আজ রবিবার সকাল পরবর্তী সময়ে সিলেট অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে গতকাল শনিবার দিনভর বৃষ্টিপাতে ভোগান্তিতে পড়ে খেটে খাওয়া মানুষ। এছাড়া কুরবানির পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম ছিল। আজো পশুর হাটে ক্রেতা উপস্থিতি কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিক্রেতারা।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর দুই পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ফের জলমগ্ন হতে পারে সিলেট মহানগর।

সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ও কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে নি¤œাঞ্চলে বাড়ছে পানির চাপ। ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের ফলে নদনদীর অন্যান্য পয়েন্টগুলোতেও শিগগিরই বিপৎসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে সিলেট নগরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়া সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে গত ১১ দিনের মধ্যে ভারি বৃষ্টিপাতে ৪ বার ডুবেছে সিলেট নগরীর নি¤œাঞ্চলসহ শতাধিক এলাকা। এতে ঘরবন্দি হয়ে পড়ে মানুষ। এখন এসব এলাকার পানি নেমে গেলেও ফের বৃষ্টিতে জলমগ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App