×

শেষের পাতা

কক্সবাজার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

রোহিঙ্গা শরণার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়া নিয়ে ধূম্রজাল

Icon

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শহীদ উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার) থেকে : কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোহিঙ্গার গুলিবিদ্ধের ঘটনা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গার দাবি, সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলারে ফেরার পথে জলসীমার মিয়ানমারের অংশ থেকে আকস্মিক ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হয়েছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘটনার দিন ওই নৌরুট দিয়ে সেন্টমার্টিন থেকে কোনো ট্রলার নাফ নদী হয়ে টেকনাফ আসেনি। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে কৌশলে পালিয়ে এসে চিকিৎসার জন্য মিথ্যাচার করে থাকতে পারে এই রোহিঙ্গা।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোহিঙ্গা যুবকের নাম আলী জোহার (৩০)। তার দেয়া তথ্যমতে তিনি উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। গত ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার থেকে পালিয়ে পরিবারের সঙ্গে কক্সবাজারের উখিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে। শুক্রবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলী জোহার বলেন, বৃহস্পতিবার সেন্টমার্টিন থেকে চারটি ট্রলারে করে দ্বীপে আটকা পড়া লোকজনকে টেকনাফে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু সেই ট্রলারগুলোতে জায়গা না হওয়ায় দ্বীপে আটকে থাকা সবাই উঠতে পারেনি।

পরে ওইদিন বিকালে ৩০ জন একজোট হয়ে একটি কাঠের ট্রলার ভাড়া করে রওনা দেন। শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাশ থেকে কূলে ওঠার কথা থাকলেও ট্রলারের চালক সেটা না মেনে তাদের নিয়ে যায় শাহপরীর দ্বীপের পূর্বপাশের ঘাটের দিকে। চিকিৎসাধীন এ রোহিঙ্গা বলেন, একপর্যায়ে তাদের বহনকারী ট্রলারটি নাফ নদীর শাহপরীর দ্বীপের পূর্বে পৌঁছালে আকস্মিক

মিয়ানমার অংশ থেকে দুটি ট্রলার বের হয়ে সীমানার কাছাকাছি এসে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সেই গুলি এসে লাগে তার ডান পায়ে।

আলী জোহার বলেন, নাফ নদীর ৫ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে। গুলি লাগার পর অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে জ্ঞান ফিরে দেখি উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরে শুক্রবার দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হই। মূলত এক মাস আগে ক্যাম্প থেকে কাজের জন্য সেন্টমার্টিনে যাওয়ার দাবি করেন তিনি।

তবে আলী জোহারকে কোনো দিনই সেন্টমার্টিন দ্বীপে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। সেন্টমার্টিন ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ও স্পিডবোট মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, বৃহস্পতিবার ৪টি ট্রলার ছাড়া আর কোনো ট্রলার টেকনাফ যায়নি। নাফ নদীতে গোলাগুলি হচ্ছে তাই কোনো ট্রলার নাফ নদী হয়ে টেকনাফ যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আলী জোহার হয়তো মিথ্যাচার করছে।

টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, বৃহস্পতিবার বোট মালিক সমিতির সভাপতি রশিদ আহমেদের মালিকানাধীন ৪টি ট্রলারে করে প্রায় ৩০০ মানুষ বঙ্গোপসাগর হয়ে টেকনাফ পৌঁছায়। এর বাইরে আর কোনো ট্রলার নাফ নদী কিংবা বঙ্গোপসাগর হয়ে টেকনাফ আসেনি।

তিনি বলেন, সব মাধ্যম থেকে খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। এখন গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা আলী জোহার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি হয়তো মিয়ানমার অভ্যন্তরে গুলিবিদ্ধি হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছেন। এখন চিকিৎসার জন্য মিথ্যাচার করছেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App