×

শেষের পাতা

পুলিশিসেবা

মানি এসকর্টে জনসাধারণের ‘আগ্রহ’ নেই

Icon

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আজিজুর রহমান জিদনী : বড় অঙ্কের অর্থ নিরাপদে বহনের জন্য পুলিশের মানি এসকর্ট সেবা চালু রয়েছে। তবে এ সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে জনসাধারণের তেমন একটা আগ্রহ নেই। ফলে টাকা লুটের ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। গত ৬ জুন গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্রমিকদের বেতন-বোনাসের ১৯ লক্ষাধিক টাকা লুটে নেয় একটি ডাকাত চক্র। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়েছে তারা। কয়েকটি সম্ভাব্য স্থানে আরো ডাকাতির পরিকল্পনা ছিল তাদের।

মূলত ঈদ-পূজাসহ বড় উৎসবগুলোকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের টাকা পরিবহনের প্রয়োজন পড়ে। আর এ সময়ই ছিনতাই বা ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব রোধের জন্যই পুলিশের মানি এসকর্ট সেবা চালু হয়। ২০২০ সালের ১১ মে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর মাধ্যমে টাকা উত্তোলন ও পরিবহনে মানি এসকর্ট সেবা চালুর কথা জানায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এজন্য ১০টি মানি এসকর্ট টিমও গঠন করা হয়। এই টিমের সদস্যরা প্রতিদিন মানি এসকর্টের জন্য অপেক্ষা করলেও খুব বেশি মানুষকে এ সুবিধা নিতে দেখা যায়নি।

এই সুবিধা না নেয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, যে কোনো ধরনের ঝামেলা হতে পারে ধারণা থেকেই পুলিশের কাছে অনেকে যেতে চায় না। বিশেষ করে, টাকা পরিবহনের সময় এর উৎসসহ নানা বিষয়ে প্রশ্নের ভয়েই অনেকে এ সেবা নিতে আগ্রহী হন না।

তবে পুলিশ বলছে, এ ধরনের সহায়তা দিতে তারা সবসময় প্রস্তুত। টাকা আনা-নেয়া বা মানি এসকর্টের সময় ব্যবসায়ীদের পুলিশের কোনো প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনাই নেই। তবে ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় লেনদেন এখন অনলাইন নির্ভর হয়ে যাচ্ছে। হাটের মধ্যেও ব্যাংকের কার্যক্রম ও ভ্রাম্যমাণ বুথ থাকছে। তাই এ সেবা নেয়ার পরিমাণ কমে এসেছে।

এদিকে এবার ঈদুল আজহায় রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি মৈত্রী সংঘের মাঠে বসেছে

উত্তর শাহজাহানপুর গরু-ছাগলের বিশাল হাট। হাটে পশু বেচা-কেনা জমে উঠেছে। তবে হাটকে কেন্দ্র করে মানি এসকর্ট সেবার কোনো অনুরোধ পাননি থানা সংশ্লিষ্টরা। শাহজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজিত কুমার সাহা ভোরের কাগজকে জানান, ঈদ বা হাট কেন্দ্রিক কোনো টাকা পরিবহনের জন্য কেউ তাদের অনুরোধ করেনি।

রাজধানীর খিলগাঁও ধানাধীন মেরাদিয়া হাটেও জমে উঠেছে কুরবানির পশুর বেচা-কেনা। তবে মানি এসকর্ট সেবার বিষয়ে এ প্রতিবেদককে একই কথা জানান খিলগাঁও থানার ওসি মো. সালাহউদ্দিন মিয়া। তিনি জানান, ঈদকে ঘিরে তাদের কাছে মানি এসকর্টের কোনো চিঠি আসেনি। তবে কেউ চাইলেই তারা এ সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। রামপুরা থানার ওসি মশিউর রহমানও একই কথা জানান।

জানা যায়, মানি এসকর্ট, পণ্য এসকর্ট প্রভৃতি ক্ষেত্রে পুলিশি সেবা নেয়ার জন্য ডিসির কাছে আবেদন করতে হয়। তখন আবেদনের বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য থানার ওসিকে নির্দেশ দেন ডিসি। ওসির প্রতিবেদন বা সুপারিশের পরিপ্র্রেক্ষিতে ডিসি এ সুবিধা পাওয়ার অনুমতি দেন অথবা আবেদন না মঞ্জুর করেন। প্রক্রিয়াটা অনেক সহজ হলেও এ বিষয়ে অধিকাংশের অনাগ্রহ দেখা যায়।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স শাখার উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় প্রায় লেনদেনই এখন অনলাইন নির্ভর হয়ে যাচ্ছে। হাটের মধ্যেও ব্যাংকের কার্যক্রম ও ভ্রাম্যমাণ বুথ থাকছে। এতে সহজেই টাকা লেনদেন হচ্ছে। তাই এই সেবা নেয়ার পরিমাণ কিছুটা কমে এসেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App