×

শেষের পাতা

অর্থনীতিতে ঈদের হাওয়া

Icon

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থনীতিতে ঈদের হাওয়া

মরিয়ম সেঁজুতি : বছরজুড়ে নানা সংকটে অনেকটা ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিতে লেগেছে ঈদের হাওয়া। আর একদিন পরই কুরবানির ঈদ। ঈদ ঘিরে গতি ফিরেছে অর্থনীতিতে। এরই মধ্যে গৃহস্থ ও খামারি পর্যায়ে কুরবানির পশু বেচাকেনা জমে উঠেছে। ঈদ ঘিরে সার্বিক যে লেনদেন হবে, তাতে দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ঈদকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। পশু পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক খাতেও মোটা অঙ্কের অর্থ হাতবদল হচ্ছে। এছাড়া কুরবানিসহ ঈদের আনুষঙ্গিক খরচের জন্য প্রবাসীরা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। সব মিলিয়ে সামগ্রিক অর্থনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে। যদিও ঈদকে ঘিরে কি পরিমাণ টাকা অর্থনীতিতে যোগ হয় তার কোনো সঠিক হিসেব নেই। তবে ব্যবসায়ীদের মতে, কুরবানির ঈদ বাজারে ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে।

কুরবানির ঈদে সবচেয়ে বেশি অর্থের লেনদেন হয় পশুর বাজার ঘিরে। পশুর বাজারে গত ঈদে বিক্রি হয়েছিল ৬০ হাজার কোটি টাকার; এবার লক্ষ্য ৭৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতি চাঙ্গা করতে পশুর চামড়ারও ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে বছরের অন্য যেকোনো মাসের চেয়ে এ সময় রেমিট্যান্স আসে সবচেয়ে বেশি। সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ও সারা দেশের দোকান কর্মচারীদের বেতন-বোনাস যুক্ত হয় ঈদ বাজারে। রোজার ঈদে পোশাক ও খাদ্যপণ্যে মানুষ বেশি ব্যয় করে। তবে এই ঈদেও এ খাতে ব্যয় নেহায়েত কম নয়। একইভাবে লবণ, মসলা, ছুরি-চাকু, পরিবহন, ভ্রমণ-বিনোদন বাবদও বেশ মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঈদকেন্দ্রিক অর্থনীতির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বিশেষত বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশে মুসলমানদের বেশির ভাগই এখন পশু কুরবানি দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছেন। কুরবানির আগে ও পরে মিলিয়ে সপ্তাহ দেড়েক সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। পশুর হাট থেকে শুরু করে ব্যাংকপাড়া এবং পণ্যবাজার থেকে কামারবাড়ি-সবখানেই এখন চরম ব্যস্ততা। ঈদ অর্থনীতির গুরুত্ব সম্পর্কে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, যদিও অতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি। দেশের মানুষের আর্থিক টানাটানি আছে এবারো। এরপরও কুরবানির ঈদ ঘিরে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। কারণ এ সময় অর্থনীতি ও ব্যবসাবাণিজ্যের অধিকাংশই চলে ঈদকে ঘিরে। আর এ কারণেই প্রতি বছরই দেশের অর্থনীতিতে ঈদের গুরুত্ব বাড়ছে। তবে ঈদ বাজারের সবক্ষেত্রে যদি সঠিক ব্যবস্থাপনা করা যায় এবং সরকারি দপ্তরগুলো যদি ঠিকমতো কাজ করে; তাহলে ঈদ অর্থনীতির প্রকৃত সুফল নিতে পারবে সরকারও। আর যদি সরকারের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ঠিকমতো কাজ না করে এই সময়, তা হলে ঈদ বাজারের প্রকৃত সুফল ঘরে তুলতে পারবে না। ঈদ বাজার থেকে যে হারে আয়কর বা অন্যান্য খাত থেকে অর্থ নেয়ার কথা, সে হারে নিতে পারবে না।

এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জানান, কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এলোমেলোভাবে বিশাল পরিমাণের টাকা দেশের বাজারে মুভমেন্ট করে। এর সঠিক হিসাব রাখা খুবই কঠিন, তবে এই বিপুল পরিমাণের অর্থ পরিকল্পিতভাবে দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত করা গেলে তা জিডিপিকে সমৃদ্ধ করবে। একই সঙ্গে এর ফলে সরকারের রাজস্ব ভাণ্ডারও সমৃদ্ধ হবে। তিনি বলেন, এর নেতিবাচক দিকও আছে। বাজারে বাড়তি টাকার প্রবাহের কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। আর অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক দিক হচ্ছে, বণ্টন ব্যবস্থায় একটি পরিবর্তন হয়। এতে অধিকাংশ মানুষের কাছেই টাকা পৌঁছে যায়।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের কুরবানির ঈদ বাজারে ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে। এর মধ্যে শুধু কুরবানির পশুর বাজারেই লেনদেন হতে পারে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকার। তবে মূল্যস্ফিতির ঊর্ধ্বগতির প্রভাব পড়েছে পোশাকের বাজারে। যদিও রোজার ঈদের মতো কুরবানির ঈদে পোশাকের বাজার অতটা জমজমাট থাকে না, তাই এ ঈদে পোশাকের বাজারে বিকিকিনি কম। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন ভোরের কাগজকে বলেন, যদিও কুরবানির ঈদের সব ফোকাস থাকে পশুর বাজারে। পোশাক বা অন্যান্য পণ্য বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকে। তবে অন্যবারের তুলনায় এবার এ বাজারে আশানুরূপ ক্রেতার দেখা মিলছে না। কারণ মূল্যস্ফীতির চাপ। তিনি বলেন, মানুষের হাতে টাকা নেই বেশি। যা আয় তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও যার যা সামর্থ্য রয়েছে তা দিয়ে সবার আগে কুরবানির পশু কেনাকে গুরুত্ব দেন। তবে এ ঈদে পোশাকের বাজার না জমলেও কুরবানির পশুর বাজার বেশ জমেছে। তাই এবার কুরবানির বাজারে বিক্রি ভালো হবে বলে মনে করেন তিনি।

পশুর বাজারে ৭৫ হাজার কোটি টাকা কেনাবেচার প্রত্যাশা : প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে দেশে কুরবানি দেয়ার হার যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে কুরবানির পশুর সংখ্যাও। ২০২২ সালে দেশে কুরবানি দেয়া হয়েছে ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৩টি পশু। ওই বছর দেশে কুরবানি দেয়ার যোগ্য গবাদিপশু ছিল ১ কোটি ২১ লাখ। গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে দেশে পশু কুরবানি দেয়া হয় ১ কোটি ৪১ হাজার ৮১২টি, যার আর্থিক মূল্য ৬০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। গত বছর কুরবানিযোগ্য পশু ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৩টি। এবার দেশে কুরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি। প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবার কুরবানি দেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৫ হাজার থেকে ১ কোটি ১০ হাজার হতে পারে। যার মূল্য হতে পারে ৭০-৭৫ হাজার কোটি টাকা। অবশ্য কুরবানি দেয়ার পর এবার ২৫-২৬ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকতে পারে।

কুরবানির চামড়ার বাজার : পশু কুরবানির সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতিতে চামড়ার ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশে রপ্তানি খাতে চামড়ার অবস্থান তৃতীয়। কুরবানির ওপর ভর করেই টিকে আছে বিপুল সম্ভাবনার এ খাতটি। বাংলাদেশ থেকে ইতালি, নিউজিল্যান্ড, পোল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জার্মানি, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়। ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতি বছর দেশে দেড় কোটিরও বেশি পশুর চামড়া পাওয়া যায়। এর প্রায় ৬০ শতাংশই আসে কুরবানির পশু থেকে। চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ খাতের মূল বাজার ৪-৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বাজারসহ এ খাতে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। এ বাবদ ট্যানারি মালিকরা বিভিন্ন পর্যায়ের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের শত শত কোটি টাকা দাদন দিয়ে থাকেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কুরবানির সময় চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা জড়িত। লবণ হলো চামড়া সংরক্ষণের অন্যতম উপাদান। কুরবানি উপলক্ষে লবণের ব্যবসাও চাঙা হয়ে উঠেছে।

ঈদ ঘিরে চাঙ্গা রেমিট্যান্স : ঈদের আগে দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনের কাছে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি রেমিট্যান্স পাঠান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এবারের কুরবানির ঈদের আগেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে ১৪৬ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন। আগামী সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা। এখনো প্রবাসী আয় আসার সুযোগ আছে। ফলে কুরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কত কোটি ডলার দেশে পাঠালেন, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। তবে গত মাসের তুলনায় চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে প্রবাসী আয় আসার গড় হার বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে এসেছে দৈনিক গড়ে ১২ কোটি ১৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত মাসের তুলনায় চলতি মাসের শুরুতে দিনে গড়ে প্রায় ৫ কোটি ডলার বেশি এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, চলতি মাসের ১ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় এসেছে ১৪৬ কোটি ডলার। গত বছরের জুনের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৮৪ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৬২ কোটি ডলার বা প্রায় ৭৪ শতাংশ। প্রবাসী আয় আসার এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাস শেষে প্রবাসী আয় ২৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন ব্যাংক খাত-সংশ্লিষ্টরা। মাসের বাকি দিনেও এ হারে এলে মাস শেষে রেমিট্যান্সের অঙ্ক ৩১১ কোটি ২৭ লাখ (৩ দশমিক ২৭ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছবে। যা হবে একক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। যেহেতু আগামী ১৭ জুন ঈদুল আজহা, তাই বাকি কয়েকদিনে যত রেমিট্যান্স আসবে তাতে ঈদের আগে চলে আসবে ১৬ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা।

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক একলাফে ডলারের দাম ৭ টাকা বাড়িয়ে ১১৭ টাকা নির্ধারণ করার পর বৈধ পথে প্রবাসী আয় আসা বেড়েছে। যার প্রভাব দেখা গেছে গত মাসে। চলতি মাসেও এখন পর্যন্ত প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী ধারা রয়েছে।

গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা : কুরবানির পশুর সিংহভাগই গ্রামের হওয়ায় সেখানে টাকার প্রবাহ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বাড়ির গোয়াল কিংবা খামারে লালন-পালন করা গরু-ছাগল বিক্রির টাকা গ্রামীণ জনপদের মানুষের হাতে আসায় তাদের মধ্যে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটার হিড়িক পড়েছে। অনেকে এ টাকা থেকে বিভিন্ন সময় দোকানিদের কাছ থেকে বাকিতে নেয়া গোখাদ্য ও ওষুধপত্রের দাম পরিশোধ করছেন। ফলে সেখানকার হাটবাজারে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি নগদ অর্থের লেনদেন হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদুল আজহাকে ঘিরে শুধু কুরবানির পশু বেচাকেনাই নয়, এর সঙ্গে চামড়ার বাণিজ্যের দাদন লেনদেন, গরু জবাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ছুরি-কাঁচি-বঁটি-দা-র ব্যবসা রয়েছে। গরুকে খাওয়ানোর খড়, ভুসির দেদার বেচাকেনা হচ্ছে। জমে উঠেছে মসলা ও রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজের ব্যবসাও। সব মিলিয়ে প্রতিদিন একটি বিরাট অঙ্কের টাকা দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হচ্ছে।

অন্যান্য পণ্য : প্রতি বছর দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ টন। রসুনের চাহিদা ৫ লাখ টন, আদা ৩ লাখ টন। এর উল্লেখযোগ্য অংশই কুরবানির ঈদে ব্যবহার হয়। গরম মসলা বিশেষ করে এলাচি, দারুচিনি, লবঙ্গ, জিরা, তেজপাতারও উল্লেখযোগ্য অংশ কুরবানিতে ব্যবহার হয়। কুরবানির বাজারে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হবে এসব পণ্যে।

কুরবানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ কামারবাড়ির পণ্য। ছুরি, বঁটি, দা, চাপাতি, কুড়াল, রামদা ছাড়া কুরবানিই সম্ভব নয়। সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কুরবানিতে পণ্যটির বাজার ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৩২ হাজার ৪৫৩টি পরিবারে ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৯৩ জন সদস্যের জীবিকা নির্বাহ হয় কামার পেশার মাধ্যমে। এ পেশার মানুষ অপেক্ষায় থাকেন ঈদুল আজহার। রাজধানীর কামারশালাগুলোতে এ সময় ২ থেকে ৫ লাখ টাকার মতো বিক্রি আদেশ আসে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের এক সমীক্ষায় বলা হয়, ঈদে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত যাচ্ছে ১ হাজার কোটি টাকাও বেশি।

এ উৎসবে ভ্রমণ ও বিনোদন বাবদ ব্যয় হয় ৪ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে আরো কয়েকটি খাতের কর্মকাণ্ড অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সাড়ে ২০ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সম্ভাব্য বোনাস বাবদ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। দেশব্যাপী ৬০ লাখ দোকান কর্মচারীর বোনাস ৫ হাজার কোটি টাকা। পোশাক ও বস্ত্র খাতের ৭০ লাখ শ্রমিকের সম্ভাব্য বোনাস ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ অর্থ ঈদ অর্থনীতিতে বাড়তি যোগ হচ্ছে। এছাড়া কুরবানির ঈদে ফ্রিজের বিক্রি বেড়ে যায়। কুরবানির ঈদে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার ফ্রিজ বিক্রি হয় বলে জানা গেছে।

দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, কুরবানিকে কেন্দ্র করে অর্থনীতিতে হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এ অর্থ শহর থেকে গ্রামে আবার গ্রাম থেকে শহরে আসছে। এক কথায় ঈদকে ঘিরে দেশের সর্বত্র একটা কর্মচাঞ্চল্য দেখা দেয়, গতি আসে অর্থনীতি ও ব্যবসাবাণিজ্যে। তিনি বলেন, সত্য বলতে কি- আমরা যারা ব্যবসায়ী তারা সারা বছর অপেক্ষায় থাকি দুই ঈদ বাজারের। এর মধ্যে রোজার ঈদ বাজার থাকে পোশাক ও খাদ্যপণ্যকে ঘিরে, আর কুরবানির ঈদ চাঙ্গা থাকে পশুর বাজারকে কেন্দ্র করে। যদিও এখন দেশের মানুষ আর্থিক টানাপড়েন রয়েছে, তবু আমাদের প্রত্যাশা এবারের ঈদেও সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ভালো হবে।

এদিকে কুরবানির মাংস সংরক্ষণে বছরের যে কোনো সময়ের তুলনায় ফ্রিজ বিক্রির পরিমাণ কয়েকগুণ বেড়েছে। ফ্রিজ ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য মতে, দেশে বছরে ১৫ লাখ ফ্রিজের চাহিদা আছে। বছরের ৩০ ভাগ ফ্রিজই বিক্রি হয় কুরবানির ঈদে। একইভাবে কুরবানির পশু কেনার পর যে ২-৩ দিন কুরবানিদাতা নিজের কাছে রাখেন এ সময় তাকে রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহারের জন্য বস্তার চট কেনা হয়, খাওয়ানোর জন্য কেনা হয় খড়, ভুসি প্রভৃতি। এসব কেনার ক্ষেত্রের কয়েক কোটি টাকা হাতবদল হয় কুরবানির বাজারে- যা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।

অনলাইনে জমজমাট কেনাকাটা : অনেকে আবার বাজারে যাওয়ার ঝামেলা এড়াতে অনলাইনে কুরবানির পশু কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। গত কয়েক বছর ধরেই উল্লেখযোগ্য হারে অনলাইনে কুরবানির পশু বিক্রি হয়। এবারো ডিজিটাল হাটে বিক্রি হওয়া পশুতে কোনো হাসিল (কর) দিতে হবে না। কয়েক বছর ধরে ই-ক্যাবের তত্ত্বাবধানে ডিজিটাল হাট ডটনেট পরিচালিত হলেও এখন থেকে এই হাটটি সরকারি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটুআই একশপের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে, যার নতুন ওয়েবসাইট ডিজিটালহাট ডট জিওভি ডট বিডি। এই ডিজিটাল হাটটি কুরবানির পশু ক্রয়ের একটি বড় মাধ্যম। এই হাটের মাধ্যমে শুধু কুরবানির পশু কেনাবেচাই নয়, স্লটারিং, পরিবহনসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর এই ডিজিটাল হাটের মাধ্যমে ৮৫০টির বেশি আঞ্চলিক হাট অনলাইনে যুক্ত করা হয়। যেখান থেকে যুক্ত হয় ১০ লাখ কুরবানির পশু।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App