×

শেষের পাতা

কৃষক লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাই গাছ লাগান সাধ্যমতো

Icon

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে  সবাই গাছ লাগান সাধ্যমতো

কাগজ প্রতিবেদক : বেশি করে গাছ লাগিয়ে সবুজ বাংলাদেশ গড়তে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সারাদেশে আমাদের সাধ্যমতো গাছ লাগাতে হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে গণভবনে আষাঢ় মাসের প্রথম দিনে কৃষক লীগের তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গণভবনে তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন। ১৯৮৪ সাল থেকে কৃষক লীগ আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকে সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করে আসছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযানে অবদানের জন্য কৃষক লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকে পুরস্কৃত করেন। এছাড়া নেতাকর্মীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন তিনি। কৃষক লীগ সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীমা শাহরিয়ার।

পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন দেশে আওয়ামী লীগই প্রথম শুরু করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক ও কৃষি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। সেক্ষেত্রে কৃষক লীগের দায়িত্ব অনেক বেশি। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জলবায়ুর অভিঘাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। যদিও জলবায়ুর ক্ষতি সাধনে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই কিন্তু বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই দক্ষিণাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি উন্নয়নের কর্মসূচি নিয়ে আমরা ওই অঞ্চলের মানুষকে সুরক্ষিত করেছি। এটা আরো সুন্দরভাবে আমাদের করতে হবে। একটা মনে রাখতে হবে- গাছ আমাদের প্রাণ, এটি আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেন দেয়। কাজেই আমরা যতবেশি গাছ লাগাতে পারব- ততবেশি ফল যেমন দেবে, তেমনি খাদ্য আবার অর্থ উপার্জনের পথও সুগম করবে।

সবাইকে অন্তত একটি করে ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এভাবে আমাদের দেশকে যদি আমরা সবসময় সবুজ করে রাখতে পারি তাহলে বাংলাদেশ আর পিছিয়ে থাকবে না। সেজন্য সবাইকে আমাদের এভাবেই চিন্তা করতে হবে। তবে একটা জিনিসের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে, ফসলিজমি যেন নষ্ট না হয়। গ্রামে আমাদের বহু জায়গা আছে। বিশেষ করে নদীর পাড়, যেসব এলাকায় ভাঙন হতে পারে সেসব জায়গায় বড় শিকড় সমৃদ্ধ মাটি কামড়ে ধরে রাখার মতো গাছ, উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে গাছ লাগাতে হবে। বাড়ির চারপাশ ও ছাদে ছাদবাগান করতে হবে। তিনি বলেন, বহুতল ভবন আর উন্নয়নের নামে ধানমন্ডি থেকে শুরু করে গুলশাল-বনানী এলাকায় অতীতে যেসব বড় বড় গাছ ছিল সেগুলো সবই উজাড় হয়েছে। ফলে আগে যে সবুজ ছিল সেটা এখন আর নেই। এখন অবশ্য ছাদবাগান হচ্ছে, সবাই এদিকে ঝুঁকছে; সেটাও করতে পারেন সবাই। এতে বাড়িটা যেমন ঠাণ্ডা থাকবে তেমনি নিজের হাতে বাগান করে নিজের গাছের তরিতরকারি খেতে পারবেন। নিজের গাছের তরিতরকারির স্বাদই আলাদা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে সরকারে আসার পর গণভবনে আমি দুই হাজারের মতো গাছ লাগিয়েছি। এর আগের গাছগুলো জাতির পিতার হাতে লাগানো। এরপর আমরা বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ লাগাই, এখনো লাগাচ্ছি। এখানে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করে দেখছি ভালোই হয়। গণভবনে এখন হাঁস-মুরগি-গরু-ছাগল- সবই আছে আমাদের। এখন গণভবন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন। একই সঙ্গে একটি খামার বাড়িতে পরিণত হয়েছে।

দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে যত্রতত্র কুরবানির পশু জবাই করে জায়গা যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নিজেদের আবাসস্থল ও এর চারপাশে নিজেদেরই নজরদারি রাখতে হবে।

আগের সরকারগুলোর আমলে নির্বিচারে গাছ কাটার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলায় দেখতাম এয়ারপোর্ট থেকে বাংলা একাডেমি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আইল্যান্ডে কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানো। এসব গাছে যখন ফুল ফুটত তখন অপরূপ রূপে এই শহরটা জেগে উঠত। জিয়াউর রহমান এক এক করে সব গাছ কেটে ফেলে। বিএনপি শুধু ক্ষমতায় থাকাকালেই নয়, বিরোধী দলে থাকাকালেও আন্দোলনের নামে গাছ কেটেছে। বিএনপি ও জামায়াত ২০১৩ সালে শুধু আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ায়নি, আন্দোলনের নামে হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলেছিল। বৃক্ষনিধন করাই তাদের চরিত্র। তারা সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সম্পূর্ণ টাকাটাই মেরে দিত। আওয়ামী লীগ এখন উপকারভোগীদের সামাজিক বনায়নের ৭০ শতাংশ লভ্যাংশ দিচ্ছে। আমরাই প্রথম জাতীয় কৃষি নীতি-১৯৯৯ প্রণয়ন করি। সারের দামও কমিয়ে দেই। এখনো ব্যাপক ভর্তুকি আমরা দিচ্ছি। যদিও একটি বিদেশি সংস্থা, যে বিশ্বব্যাংক ভুয়া দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল তাদের পরামর্শ ছিল কৃষিতে ভর্তুকি দেয়া যাবে না। তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া বিএডিসি প্রায় বন্ধই করে দিয়েছিল। কোনোমতে একটা অংশ বেঁচে ছিল। কারণ, বীজ উৎপাদন বেসরকারি খাতে হবে। বিদেশ থেকে আমদানি করবে। ওদের কিছু লোক ব্যবসায় জড়িত ছিল। কিন্তু আমরা আমাদের বীজ উৎপাদনের জন্য বীজ গবেষণাগার গড়ে তোলায় দেশেই ভালো বীজ উৎপাদন হচ্ছে। এখন দেশে যে বিভিন্ন ধরনের ফলমূল হয় এবং সব ধরনের শাক-সবজি ও ফলমূল বারো মাসই পাওয়া যাচ্ছে, সেটা আমাদের গবেষণারই ফসল।

বিএনপির চিন্তার দৈন্যতার উদাহারণ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, বিদেশি সহায়তা আসবে না বলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া এই দলটি ভালোভাবে নেয়নি। তারা টিসিবিও বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন আমরা আবারো কার্যকর করছি। দুর্যোগকালীন কৃষকরা যেন উদ্বৃত্ত ফসল সংরক্ষণ করতে পারে সেজন সাইলো নির্মাণ করে দিচ্ছি। তারা তো ন্যায্যমূল্যের দোকান ‘কসকর’ বন্ধই করে দিয়েছে। গুটিকয়েক মানুষের আর্থিক সুবিধা দিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেসব জায়গা থেকে সুবিধা পাবে সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। বিএনপির কাজই হচ্ছে তেলা মাথায় তেল দেয়া।

গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের প্রশ্নে বিএনপির আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরাই জিয়ার অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করতে নির্বাচন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে সারের দাবিতে আন্দোলনরত ১৮ জন কৃষককে হত্যা করেছিল খালেদা জিয়া। রোজার দিনে মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত ১৭ জন শ্রমিককে গুলি করে হত্যা ও কানসাটে সেচের জন্য বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনরত ৯ জনকেও গুলি করে হত্যা করেছিল।

তিন ফসলি জমি নষ্ট করে কোনো শিল্পায়ন করা যাবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মূল নির্ভরতা হচ্ছে কৃষির ওপর। কাজেই এই কৃষি অর্থনীতিটাকেই আমরা আরো উন্নত করে শিল্পায়নে যাব। যেজন্য আমরা সারাদেশে একশটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। কারণ যততত্র শিল্পকারখানা গড়ে তুলে আমাদের তিন ফসলি জমি কোনোমতেই নষ্ট করা যাবে না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App