×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

শেষের পাতা

বাপার আলোচনায় বক্তারা

২০ বছরে ঢাকায় সাড়ে ৬ শতাংশ গাছ কমেছে

Icon

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : ক্রমাগত দখল এবং দূষণে শহরগুলোর সবুজ ও জলজ অংশসমূহ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান, ও চিত্ত-বিনোদনের মুক্ত সুযোগসমূহ সংকুচিত হচ্ছে। ফলে দেশে নগরায়ণ সংকটের সম্মুখীন। পরিবেশকে ধ্বংসের মাধ্যমেই দেশে নগরায়ণ প্রক্রিয়া ধাবিত হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে রাজধানীতে গত ২০ বছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ গাছ কমেছে। ফলে রাজধানীতে মায়ের গর্ভের থাকা অবস্থায়ই শিশুরা বায়ুদূষণের শিকার হচ্ছে।

গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত ‘স্থায়িত্বশীল নগরায়ণে পরিবেশের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচন সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষায় অনেক আইন, নীতি ও পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে মুষ্টিমেয় একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দেয়া হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগ যে দায়সারাভাবে, গা ছাড়া ভাবে চলছে, তা পরিবেশ-সংকটকে মারাত্মক বিপর্যয়কর করে তুলেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করতে চলতি বছরকেই ‘ঘুরে দাঁড়ানোর বছর’ হিসেবে ঘোষণা করে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বাপা।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার সহসভাপতি স্থপতি ইকবাল হাবিব। বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাপার সহসভাপতি মহিদুল হক খান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ওয়াটার এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. হাসিন জাহান এবং বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) চেয়ারম্যান ও বাপার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার।

রাজধানীতে বর্তমানে সবুজের পরিমাণ ৮ শতাংশেরও কম জানিয়ে মূল প্রবন্ধে ইকবাল হাবিব বলেন, বুয়েটের নগর অঞ্চল ও পরিকল্পনা বিভাগ এবং ইউএসএইডের ২০২২ সালে পরিচালিত জরিপ অনুসারে ঢাকা শহর ২০০২ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে গড়ে ৬.৫ শতাংশ সবুজ হারিয়েছে। বর্তমানে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় গাছ রয়েছে মাত্র ১৪ শতাংশ এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০ শতাংশেরও কম।

তিনি বলেন, এককালের ছিমছাম, উদ্যান ও পার্ক সমৃদ্ধ, খাল-ঝিল ও পুকুরে পরিপূর্ণ, সবুজ শহরগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তিতে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। পরিবেশের সঙ্গে সহাবস্থান নয় বরং পরিবেশকে ধ্বংসের মাধ্যমেই দেশে নগরায়ণ প্রক্রিয়া ধাবিত হচ্ছে।

তিনি জানান, গত ২৮ বছরে রাজধানী থেকে ৮৫ ভাগ জলাভূমি হারিয়ে গেছে। এ সময়ের মধ্যে স্থাপনা বেড়েছে ৭৫ ভাগ। অর্থাৎ গাছপালা এবং জলাশয় ধ্বংস করে নগরায়ন হচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত না করাই নগরীগুলোতে প্রকৃতি এবং পরিবেশ ধ্বংসের মূল কারণ।

এ সময় তিনি গাছ কাটা বন্ধ করা, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চল রক্ষায় সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ, ‘নগর বন’ সৃষ্টির কর্মসূচি গ্রহণ, কৃষিজমি সংরক্ষণ নিশ্চিত করা, নগরব্যাপী বিদ্যমান পুকুর, খাল এবং অন্যান্য জলাশয় পুনরুদ্ধার এবং সাম্যতার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তিতার নগরদর্শন নিশ্চিতের দাবি জানান।

অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, রাজধানীতে একটা শিশু মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায়ই বায়ু দূষণের শিকার হচ্ছে। সরকার ইট ভাটা বন্ধে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সময় নিলেও তার ধারে কাছে নেই। শহরে অপরিকল্পিত নির্মাণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নিতে হবে।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. ইশরাত জাহান বলেন, ড্যাপ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা দেখতে হবে। শুধু ঢাকা নয়, বাইরের শহরগুলোতেও খাল, বন, মাঠ, কৃষিজমি দখল হয়ে যাচ্ছে। আমার গ্রাম, আমার শহর প্রকল্প, উপজেলা মাস্টারপ্ল্যানে কী হচ্ছে তাতে আমাদের বিশেষ নজর দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মহিদুল হক খান বলেন, আমাদের অবস্থা হচ্ছে, সর্বাঙ্গে ব্যাথা, ওষুধ দেব কোথা! যারা ক্ষমতায়, সরকারে বা দায়িত্ব আছেন তাদেরই সমস্যাগুলো সমাধান করার কথা। কিন্তু তারা কিছুই না করে কৃতিত্ব, পুরস্কার নেয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।

অনুষ্ঠানে স্থায়িত্বশীল নগরায়ণে পরিবেশের গুরুত্ববিষয়ক সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাব পুস্তিকার উন্মোচন করেন আলোচকরা। পুস্তিকায় পরিবেশ রক্ষা করে টেকসই নগরায়ণসহ নানা বিষয় উঠে এসেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App