×

শেষের পাতা

বরিশালে শিশুকন্যা ও বাবার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

Icon

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

এম কে রানা, বরিশাল থেকে : বরিশালে বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ৫ বছর বয়সি কন্যাশিশু রোজা ও তার বাবা নাঈমের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর কাউনিয়া পানির ট্যাংকিসংলগ্ন স্বপ্ন বিলাশ নামক ভবনের ৪র্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু সেটি তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডি ও মহানগর গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা। নিহত নাঈমের বোন আঁখি আক্তার বলেন, সকালে ঘুম থেকে ওঠে নাস্তা খেয়ে ভাই ও ভাতিজিকে ডাকতে তাদের কক্ষে যাই। গিয়ে দেখি তাদের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। আমাদের চিৎকার শুনে বাড়িওয়ালা এসে পুলিশকে জানিয়েছে।

নাঈমের বাবা শাহজাহান হাওলাদার জানান, গত রাতে ছেলে ও নাতনির সঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন তিনি। সকাল সোয়া ৭টার দিকে তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নাঈমকে পান্তা ভাত খেতে দেখেন। রোজা তখন ঘুমাচ্ছিল। তিনি বের হওয়ার সময় নাঈম তার কাছে ২০ টাকা চান। টাকা দিয়ে তিনি অনন্যা ফ্লাওয়ার মিলে (তার কর্মস্থল) চলে যান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আঁখি তাকে কল করে নাঈম ও রোজার মৃত্যুর সংবাদ দেন।

তিনি আরো জানান, প্রায় সাত বছর আগে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দক্ষিণ পলাশপুরের বাসিন্দা নুর ইসলাম মোল্লার মেয়ে অনা আক্তারের সঙ্গে নাঈমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক নানা সমস্যা দেখা দেয়। চার মাস আগে অনা তার ছেলেকে তালাক দেন। দেন মোহরের ৫ লাখ টাকাও নেন। স্ত্রীর তালাক পেয়ে নাঈম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে অনা ফোন করে রোজাকে নিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে। তারপর থেকেই নাঈম খুব বিচলিত ছিল।

স্বপ্ন বিলাস ভবনের মালিক জাহিদুল ইসলাম বাবুল জানান, নিহত নাঈম ও তার পরিবার গত ১ মে থেকে আমার বিল্ডিংয়ের চার তলার উত্তর পাশের ফ্ল্যাটে ওঠেন। নাঈম তার বাবা-মা, মেয়ে রোজা, বোন আঁখি ও বোনের মেয়ে নুসরাতকে নিয়ে তাদের ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। এ বাসায় আসার পর থেকে তাকে বিষণ্ন দেখা যেত। পরে জানতে পারি স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সরোয়ার হোসেন জানান, আমাদের প্রাথমিক ধারণা পারিবারিক দ্ব›েদ্বর কারণেই ঘটনাটি ঘটে। বিশেষ করে নাঈমের সঙ্গে তার স্ত্রীর তালাক হয়েছে। এরপর থেকে শিশুকন্যাকে কাছে রাখেন। তিনি সকালে রোজার মা এসে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এ বিষয়টি নাঈম মেনে নিতে পারেননি। সেখান থেকেই হয়তো হত্যা ও আত্মহত্যাটি ঘটে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App