×

শেষের পাতা

আশ্রয়ণের ঘর মানুষের আত্মমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প

Icon

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আশ্রয়ণের ঘর মানুষের আত্মমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

কাগজ প্রতিবেদক : আশ্রয়ণের ঘর গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষের আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে বিনামূল্যে ঘর দিয়ে পুনর্বাসন করেছি। এতে তাদের জীবনে পরিবর্তন এসেছে। আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাবোধ ফিরে এসেছে; একটি দেশকে উন্নত করতে হলে যা সবচেয়ে বেশি দরকার। আমরা ঈদ উপহার হিসেবে এসব ঘর দিয়েছি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারাদেশে বিনামূল্যে ১৮ হাজার ৫৬৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য দেশবাসীর সেবা করা। কারণ তারা বার বার আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে আসে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে এককভাবে ২৩৩টি আসনে বিজয়ী করেছে। বাংলাদেশের মানুষ আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছিল আমাদের ওপর। কাজেই যে মানুষগুলো আমাদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে তাদের সেবা করাই আমাদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত এই বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকতে পারে না। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে যেতেই হবে। এদেশের মানুষ ক্ষুধা-দারিদ্র থেকে মুক্তি পাবে। প্রতিটি মানুষের জীবন সুন্দর হবে- সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা তালিকা করেছি কোন কোন এলাকায় কতগুলো ঘর সম্পূর্ণ ও আংশিক বিধস্ত হয়েছে। যেসব ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমরা তাদের নতুন করে ঘর তৈরি করে দেব। আর যাদের আংশিক ক্ষতি হয়েছে, তাদের ঘর পুনর্নির্মাণে সহায়তা করব। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আমরা আছি। প্রাথমিকভাবে যা যা দরকার তা করে যাচ্ছি। চিন্তার কোনো কারণ নেই। প্রতিটি মানুষ নতুন ঘর যাতে পান, সেই ব্যবস্থা ইনশাল্লাহ আমি করে দেব।

প্রধানমমন্ত্রী বলেন, আশ্রয়ণের মাধ্যমে আমরা যাদের ঘর ও জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি- তাদের জীবন বদলে গেছে। জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তিনি দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। আর সে কারণেই আমাদের এই প্রচেষ্টা।

২০০৮ সালের ১১ জুন নিজের কারামুক্তির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই আমাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা

হয়েছিল। মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছিল, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতেও মিথ্যা মামলা দিয়েছিল। আবার সেই সময়ে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসেছিল; তারাও আমাকে গ্রেপ্তার করে পরে মিথ্যা

মামলা দেয়। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সব নেতাকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও সাধারণ জনগণ প্রতিবাদ করে। ঢাকা শহরে ১৫ দিনের মধ্যে ২৫ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করে আমাদের মহানগর আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা তত্বাবধায়ক সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়। ফলে সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। ১১ জুন আমি সেই বন্দিখানা থেকে মুক্তি পাই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে স্বাধীনতা পেয়েছিলাম; কিন্তু সেই স্বাধীনতার সব সুফল মানুষের ঘরে পৌঁছানোর আগেই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করে সবকিছু যেন পাল্টে দেয়া হয়। দেশ চলে আসে যুদ্ধাপরাধী ও খুনিদের হাতে। এদেশের ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে আশ্রয়ের জন্য জাতির পিতা সর্বপ্রথম নোয়াখালীতে (এখনকার ল²ীপুর) ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষের মধ্যে ঘর ও খাস জমি বিতরণ শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের প্রতিটি ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে ঘর ও ফসল উৎপাদনের জন্য ভূমি দেয়া এবং সমস্ত খাসজমি সহায় সম্বলহীন মানুষের মধ্যে বিতরণই ছিল তার লক্ষ্য। যেন কোনো মানুষ ভূমিহীন ও গৃহহীন বা ঠিকানাবিহীন না থাকে। কিন্তু ১৫ আগস্টের পর আমরা দেখেছি সেই উদ্যোগ আর কারো ছিল না। তিনি বলেন, অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতাসীনরা এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতেই ব্যস্ত ছিল। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আবার ক্ষমতায় এলে আমরা আশ্রয়ণ প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প নিয়ে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের আবারো পুনর্বাসন শুরু করি। ১৯৯৭ সালে ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারকে প্রথমে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ঘর করে দেয়া হয়। প্রথম অবস্থায় জায়গার অভাব থাকায় ব্যারাক হাউজ নির্মাণ করে পৃথক ঘর ও টয়লেটের ব্যবস্থা করে দেই। আশ্রয়ণ প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা, কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা ও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে সুবিধাভোগীদের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জমির মালিকানা দলিলসহ বাড়ি হস্তান্তর করেন। পরে তিনি তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের পঞ্চম পর্বের দ্বিতীয় ধাপে এদিন ১৮ হাজার ৫৬৬টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে বাড়ি হস্তান্তরের পাশাপাশি তিনি ২৬ জেলার সব উপজেলাসহ আরো ৭০টি উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষমুক্ত ঘোষণা করেন। নতুন ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত জেলা ও উপজেলা নিয়ে সারাদেশে জেলার মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮টি এবং উপজেলা হয়েছে ৪৬৪টি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৬৩ হাজার ৯৯৯টি, দ্বিতীয় ধাপে ৫৩ হাজার ৩৩০টি, তৃতীয় ধাপে ৫৯ হাজার ১৩৩টি এবং চতুর্থ ধাপে ৩৯ হাজার ৩৬৫টি বাড়ি বিতরণ করেন। প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন প্রতিটি পরিবারকে দুই দশমিক ৫ শতাংশ জমির মালিকানা দিয়ে একটি আধা-পাকা বাড়ি দেয়া হচ্ছে, যা স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই নামে হবে। প্রতিটি বাড়িতে দুটি বেডরুম, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট এবং বারান্দা রয়েছে। প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম পর্যায়ের প্রথম ধাপে মোট ২ লাখ ৬৬ হাজার ১২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App