×

শেষের পাতা

যাত্রী কল্যাণ সমিতি

ঈদে হয়রানি ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধের দাবি

Icon

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : আসন্ন ঈদুল আজহায় যাত্রী হয়রানি, ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় এই দাবি জানানো হয়।

সভায় আসন্ন ঈদে দেশের সব পথে নিরাপদ ও নির্বিঘœ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর-অধিদপ্তরকে যেসব দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তা শতভাগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে দায়িত্বশীল করা, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের অবাধ চলাচল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকার প্রতি বছর ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিলেও তা কখনোই বাস্তবায়ন হয় না। সরকার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মুনাফার অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে ঈদের প্রস্তুতি সভা করে। এখানে যাত্রীদের কোনো প্রতিনিধিকে ডাকা হয় না। বাস্তবতা হলো ৯০ শতাংশের বেশি যাত্রীকে প্রতি ঈদে বাড়ি যেতে দ্বিগুণ, তিনগুণ বাড়তি ভাড়া দিতে হয়। বিআরটিএ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ না করে বরং যাত্রীরা স্বল্প দূরত্বে গেলেও রুট পারমিটের শেষ গন্তব্য পর্যন্ত ভাড়া দেয়ার নির্দেশনা দিয়ে থাকে। যারা সড়কের চাঁদাবাজিতে জড়িত, ঈদযাত্রা উপলক্ষে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে তাদের উপর দায়িত্ব দেয়া হয়। এর ফলে চাঁদাবাজরা চাঁদাবাজি বন্ধের সিদ্ধান্ত আটকে দেয়। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে দায়িত্ব দিলেও তারা সবাই মিলেমিশে ভাড়া নৈরাজ্য চালান। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে গঠিত মনিটরিং কমিটিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাশাপাশি শুধুমাত্র পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা দায়িত্বে থাকেন।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এবারের ঈদ যাত্রা ঢাকা থেকে এক কোটি, গাজীপুর থেকে ৩৫ লাখ, নারায়ণগঞ্জ থেকে ১২ লাখ মানুষসহ প্রায় দেড় কোটি মানুষ সারাদেশে যাতায়াত করবে। এদের যাতায়াতে ফিটনেস পাওয়া যানবাহনের পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন যানবাহনও চলাচল করবে। লক্কর-ঝক্কর বাস চালাতে যারা পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তাদের ওপর ঈদযাত্রায় লক্কর-ঝক্কর বাস চলাচল বন্ধের দায়িত্ব দেয়া হয়। ফলে ভাড়া নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে। গণপরিবহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা না গেলে পথে পথে মানুষের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনাও অনেকাংশে বাড়বে।

সভায় জানানো হয়, ভাড়া নৈরাজ্যের কারণে নি¤œ আয়ের মানুষ নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে না। তাদের বাস ও ট্রেনের ছাদে, মালবাহী ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানের মতো অনিরাপদ যানবাহনে যাতায়াত করতে হয়। এসব পরিবহন যাদের বন্ধ করার কথা, তারা জায়গায় জায়গায় এসব যানবাহন আটকে উৎকোচ নেয়। দেশের সড়ক-মহাসড়কে নসিমন-করিমন, ভটভটি, অটোরিকশা চলাচলে যারা উপকারভোগী, তাদের ওপর এসব যানবাহন চলাচল বন্ধের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।

সভায় বক্তব্য রাখেন- সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, যাত্রীকল্যাণ সমিতির সহসভাপতি তাওহিদুল হক লিটন, যুগ্ম মহাসচিব এম. মনিরুল হক, প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. মহসিন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App