×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

শেষের পাতা

কুরবানির পশু

পশুর দাম চড়া ক্রেতা কম

Icon

কামরুজ্জামান খান

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পশুর দাম চড়া ক্রেতা কম

কুরবানির ঈদের বাকি আর কয়েকদিন। এরমধ্যে রাজধানীসহ সারাদেশের পশুর হাটগুলো সাজানো হলেও বিক্রি তেমন শুরু হয়নি। বিশেষ করে শহরের হাটগুলোতে কুরবানির পশু বিক্রি বলতে গেলে এখনো শুরুই হয়নি। লালন পালন জটিলতা এবং রাখার জায়গা না থাকায় কুরবানির পশু কিনতে মানুষ এখনো হাটে যাননি; তবে পশুর দরদামের ব্যাপারে খোঁজখবর শুরু করেছেন। গৃহস্থের খামারে গিয়ে খবর না রাখলেও অনলাইনে চোখ রাখছেন সবাই। কুরবানির হাটে কিছু পশু এলেও ক্রেতা এখনো তুলনামূলক কম।

আর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখন পর্যন্ত কোরবানির পশুর দাম চড়া। বিক্রি কিছুটা হলেও শুরু হবে সপ্তাহের শেষদিকে। এর মধ্যে অনেকে সন্তানদের নিয়ে গরু দেখছেন, এমনিতে হাট ঘুরে যাচ্ছেন। কিন্তু ক্রয় করছেন না। অবশ্য বিভিন্ন ফার্মে থাকা গরু-ছাগলের অধিকাংশ বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ফার্ম থেকে গরু-ছাগলের ক্রেতা শ্রেণি ভিন্ন এবং তারা প্রতি বছরই একইভাবে আগেই পশু কিনে থাকেন বলে জানা গেছে। ভারত ও মিয়নমার থেকে ঘোষণা দিয়ে গরু না এলেও চোরাইপথে কিছু গরু ঢুকছে বলে হাট মালিকদের কাছে খবর রয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, এ বছর কুরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৯ লাখ। যা চাহিদার চেয়ে অন্তত ২২ লাখ ৮০ হাজার এবং গত বছরের তুলনায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪টি বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৫২ লাখ গরু, এক লাখ ৬০ হাজার মহিষ, ৬৮ লাখ ছাগল, ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৭৪৩টি ভেড়া এবং ১ হাজার ৮৫০টি অন্যান্য কুরবানিযোগ্য পশু রয়েছে।

সরকারের তথ্য মতে, এ বছর চাহিদার তুলনায় কুরবানির পশু উদ্বৃত্ত হবে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখন পর্যন্ত কুরবানির পশুর দাম চড়া। গবাদি পশুর খাদ্য, পরিবহন এবং শ্রমিকদের বেতন বেড়ে যাওয়ার কারণেই কুরবানির পশুর দাম বেড়েছে বলে দাবি করেছেন গাবতলী পশুর হাটের ব্যবসায়ীরা। পশু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমানও এমন দাবি করেছেন।

রাজবাড়ীর মালেক ব্যাপারী, আবুল ব্যাপারী, কুষ্টিয়ার আবুল শেখ, তোফাজ্জল হোসেন, মাগুড়ার আইয়ুব আলী, সোবাহান মিয়া, পাংশার রাজখান, নওগাঁর জুয়েল রানা, টাঙ্গাইলের ওমর ফারুক প্রতিবছর কুরবানির জন্য গরু নিয়ে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন পশুর হাটে আসেন বিক্রি করতে। তারা লালন পালন করেন, গৃহস্থের গোয়াল থেকে কিনে সেখানে রাখেন, ঈদের কয়েকদিন আগে ট্রাকে করে সরাসরি হাটে নিয়ে আসেন তারা। এসব ব্যাপারীরা জানিয়েছেন, এবার গরু কেনা বেশি পড়েছে। তাই বিক্রিও বেশি দামে করতে হবে।

লোকসান দিয়ে তো কেউ বিক্রি করবেন না জানিয়ে এসব ব্যাপারীরা জানান, বছরে তারা একটা ব্যবসাই করেন। সারা বছর পুজি খাঁটিয়ে ঈদের আগের ৪-৫ দিন হাটে ব্যবসা করেন তারা। ঢাকার অভিজাত হাট আফতাবনগর এবার বন্ধ হওয়ায় ওই হাাটের উদ্দেশে থাকা ব্যাপারী সেই সব গরু-ছাগল নিয়ে যাবেন ঢাকার বিভিন্ন হাটে। যার বড় অংশ ঢুকবে গাবতলী হাটে। গাবতলি হাটের ইজারাদার খলঅভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। ‘গরু যার খুঁটি তার’- এই স্লোগানে সাজানো হয়েছে এবারের হাট। এই হাটে আসা গরু

ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের চেয়ে একটি মাঝারি আকারের ষাঁড় ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এ বছর ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। গত বছর ঈদের কয়েক সপ্তাহ আগে প্রায় একশ গরু বিক্রি করেছিলেন এমন ব্যাপারীদের এ বছর সেই সংখ্যা কমে ১০টিতে দাঁড়িয়েছে। রাজবাড়ীর এক ব্যাপারী বলেন, গত বছর কুরবানির ঈদের ১৫ দিন আগে প্রায় ২৫০টি গরু বিক্রি করলেও এ বছর এখন পর্যন্ত তার বিক্রি হয়েছে ১০০টি গরু। তাও আবার সব কুরবানির জন্য বিক্রি হয়নি। কসাই এবং বিয়েশাদি, আকিকাসহ নানা উৎসবের জন্য মানুষ কিনেছে এসব পশু। ঢাকায় গাবতলী ও সারুলিয়া ছাড়াও এবার আরো ২০টি পশুর হাট বসছে।

সাভার এগ্রোর মালিক নাফিজ জাইদী রুমেল জানান, পৌর এলাকার ভাগলপুরে তার ফার্মের ৪৮টি গরুই আগাম বিক্রি হয়ে গেছে। সঙ্গে বিক্রি হয়েছে ছাগলও। এখন কয়েকটি ছাগল বিক্রি বাকি আছে। বিক্রি হওয়া গরু-ছাগল ঈদের একদিন আগে ক্রেতাদের কাছে তাকেই পৌঁছে দিতে হবে। দামে সন্তুষ্ট তিনি। গাবতলী হাটের সামনের অংশে সড়ক সম্প্রসারণ ও সেতু নির্মাণকাজ চলছে। এজন্য হাট একটু পিছনে চলে গেছে। বেড়িবাঁধের পাশেও হাসিল ঘর নির্মাণকাজ চলছে। গেট নির্মাণ করে বাঁশ টাঙ্গানো হলে সামিয়ানা টাঙ্গানো হয়নি এখনো। এর মধ্যে নিয়মিতের বাইরে কুরবানির জন্য কিছু গরু আসা শুরু হয়েছে।

এই হাটে আসা সান্টু ব্যাপারী বলেন, স্থানীয় বাজারে কুরবানির পশু পাওয়া গেলেও দাম বেশি। ঢাকার বাইরে মাঝারি আকারের গরুর জন্য বাড়তি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়।

এদিকে গাবতলী হাটে কুরবানির পশু বিক্রি কম হওয়া প্রসঙ্গে গরুর খাদ্য বিক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কুরবানির ঈদের অনেক আগে থেকেই অনেকে সরাসরি খামার থেকে গরু কিনে নেন, ফলে স্থায়ী এই হাটে ক্রেতা কম আসে। এ বছর ছোট মহিষের দাম দুই লাখ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ২০ হাজার টাকা বেশি। আর বড় মহিষের দাম ৮ লাখ টাকা।

অপরদিকে, গত বছরের তুলনায় মাঝারি ও ছোট আকারের ছাগলের দাম এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা বেশি। ১৩ কেজির ছাগল ১৩ হাজার টাকায় এবং ৪৫ কেজির ছাগল ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গাবতলী হাটে দুটি উটও আনা হয়েছে। তবে এগুলোর দামও অনেক বেশি। পাকিস্তান থেকে এগুলো নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন প্রতিটি উটের জন্য ২৬ লাখ টাকা চাইছেন। তিনি বলেন, ভারত থেকে এগুলো এনে স্থানীয়ভাবে লালন পালনে বিধিনিষেধ না থাকলে দাম এত বেশি হতো না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App