×

শেষের পাতা

তিন হাজার ছাড়িয়েছে রোগী মৃত্যু ৩৭ জনের

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তিন হাজার ছাড়িয়েছে রোগী মৃত্যু ৩৭ জনের

সেবিকা দেবনাথ : যতই দিন গড়াচ্ছে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ততই যেন ভয়ংকর হয়ে উঠছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে পহেলা জানুয়ারি থেকে ৮ জুন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮৫৪। এডিস মশাবাহিত এই জ¦রে আক্রান্ত হয়ে এই সময় মৃত্যু হয়েছিল ২১ জনের। চলতি বছর এই সময়ে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। এ সংখ্যা ৩ হাজার ৩১ জন। প্রাণহানী হয়েছে ৩৭ জনের। গত বছর সর্বোচ্চ সংক্রমণের বছরের চেয়েও এবারের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে আগেই শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা। সরকারি তথ্য বলছে, পরিস্থিতি সেই ভয়াবহাতার দিকেই যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বর্ষার আগের এডিস জরিপ-২০২৪-এর তথ্য বলছে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেই এডিসের লার্ভার উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়েছে। এদিকে নগরজুড়ে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। রাস্তায় ছোট-বড় গর্তে জমে থাকছে পানি। এছাড়া নগরের বিভিন্ন এলাকায় ডাবের খোসার পাশাপাশি তালের খোসাও পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্যান ও বাজারে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে তালের শাঁস। বিভিন্ন জায়গায় ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় পড়ে থাকা এসব তালের খোসায় পানি জমে এডিসের বংশ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দিচ্ছে।

কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা জানতাম, এডিস মশা শুধু পরিষ্কার পানি থেকে জন্মায়, এটিও এখন আর সত্য নয়। গবেষণায় আমরা পেয়েছি, এডিস মশা নোংরা পানিতে এমনকি নালা-নর্দমায়ও এর প্রজনন হচ্ছে এবং আমরা তা প্রমাণও করেছি। বিষয়টি অবশ্যই ডেঙ্গু মোকাবিলা আরো কঠিনতর করে তুলবে। কারণ, শুধু পরিষ্কার পানি নয়, নোংরা পানিতে এডিস মশার প্রজনন নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে এখন। জরিপের তথ্যও বলছে এডিসের লার্ভার উপস্থিতি অনান্য বছরের চেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে সাধারণত জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর-এই কয়েক মাস ডেঙ্গুর জন্য উচ্চ

ঝুঁকি থাকে। এ সময়টাতে বৃষ্টি হয়, মশার প্রজননের জন্যও তাপমাত্রা উপযুক্ত থাকে। তাই এ বছর বৃষ্টি শুরু হলে এডিস মশার প্রজননও বাড়তে থাকবে।

এদিকে গত বছরের মতো ডেঙ্গু পরিস্থিতির যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই মেয়রই। তারা আশ্বাস দিয়েছেন এবার পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে না। চলতি বছরের মে মাসে দুই মেয়রই এই আশ্বাস দেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কাজ দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ নগরবাসীর।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশা নিধনের পাশাপাশি সরকারের সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় ও সচেতনতার উপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য ওষুধপত্র, স্যালাইনসহ হাসপাতালে সার্বিক প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু মৌসুম শুরু হলে এ বিষয়ে আরো উদ্যোগ নেয়া হবে। ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর এবং সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করা উচিত। শিগগিরই এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আয়োজন করা হবে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যেও মিলছে না ডেঙ্গুরোগীর সঠিক তথ্য। এখন পর্যন্ত দেশের সব হাসপাতাল থেকে তথ্য পাঠানো হচ্ছে না অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমে। এখন পর্যন্ত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ১৮টি ও বেসরকারি ৫৯ প্রতিষ্ঠান ডেঙ্গুরোগীর তথ্য জানাচ্ছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো থেকে ঠিকমতো তথ্য আমাদের কাছে পৌঁছে না। কোভিডের সময় অনেকে কোভিড টেস্টের রিপোর্ট আমাদের দেননি, ডেঙ্গুতেও এমনটা হচ্ছে। সংক্রামক ব্যাধি আইন অনুযায়ী যে কোনো সংক্রামক রোগ শনাক্ত হলে সরকারকে অবশ্যই জানাতে হবে। কিন্তু এটা ঠিকমতো জানানো হচ্ছে না। বেসরকারি হাসপাতালগুলো থেকে নিয়মিত ডেঙ্গুরোগীর তথ্য না দিলে পরীক্ষার অনুমোদন বাতিল করা হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App