×

শেষের পাতা

‘লালন সাঁইকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে’

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক লালন ও লোক উৎসব অক্টোবরে

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক লালন  ও লোক উৎসব অক্টোবরে

কাগজ প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আগামী ১৯ ও ২০ অক্টোবর দুদিনব্যাপী দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক লালন ও লোক উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। নিউইয়র্কভিত্তিক সংগঠন ‘লালন পরিষদ ইউএস’ এই উৎসবের আয়োজক। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত অনুষ্ঠনসূচি তুলে ধরেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা নুরুল আমিন বাবু। এতে আরো বক্তব্য রাখেন ভোরের কাগজ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, লালন স¤্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন, বরেণ্য বংশীবাদক গাজী আব্দুল হাকিম ও বাউল শিল্পী সুলতানা ইয়াসমিন লায়লা। লিখিত বক্তেব্য জানানো হয়, আগামী ১৯ ও ২০ অক্টোবর নিউইয়র্কের কুইন্সের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যামাইকার পারফর্মিং আর্ট সেন্টারে আয়োজিত লালন ও লোক উৎসবে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী নাহিদ ইজহার খান। বিশেষ অতিথি থাকবেন ভোরের কাগজ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন লালন গবেষক কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা। উৎসবে সংগীত পরিবেশন করবেন লালন স¤্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন, বরেণ্য বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিম, কুষ্টিয়ার লালন আখড়া থেকে ফরাসি কন্যা লালন গবেষক দেবোরা জান্নাত, রাখি শবনম, বাউল শিল্পী কালা মিয়া ও সংগীত শিল্পী সুলতানা ইয়াসমিন লায়লা। এছাড়া নিউইয়র্কের শিল্পীরাও অংশ নেবেন। সংবাদ সম্মেলনে নুরুল আমিন বাবুল বলেন, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন পরিবেশ ও ভিন্ন আবহাওয়ার মাঝেও আমরা বাংলা সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে আমাদের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে আমাদের সংস্কৃতির মেলবন্ধন গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। আমাদের প্রতিটি অনুষ্ঠানেই নতুন প্রজন্মকে প্রাধান্য দেয়া হয় যেন তারা নিজেরাই বাংলা সংস্কৃতিকে লালন করে, চর্চা করে; যা পরবর্তী সময়ে প্রজন্মকেও পৌঁছে দেবে।

ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, নিউইয়র্কে মাল্টি কালচারাল সোসাইটিতে যে লালন উৎসব হচ্ছে-এটা অনুপ্রেরণার। লালনের গানে বাংলার সংস্কৃতি প্রস্ফুটিত হয়। লালনগীতিসহ বাঙালির সংস্কৃতি এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিকৃতভাবে গান গাওয়া হচ্ছে। নানা রংয়ে, নানা ঢংয়ে গান গাওয়ায় মূল চরিত্র হারিয়ে যায়। অসাম্প্রদায়িক লালনের গান গাওয়াও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। তার গান গেয়ে জেলে যেতে হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় লালনের গান নিয়ে সব জায়গায় হাজির হতে হবে। তা না হলে হাজার বছরের সংস্কৃতি, উদার সংস্কৃতি চর্চা আরো কঠিন হয়ে যাবে। পাশাপাশি শুদ্ধ সংগীতের চর্চা করতে হবে। যারা লালনের চর্চা করেন, লালনের গান ধরে রেখেছেন, আমাদের সবাইকে তাদের সঙ্গে থাকতে হবে। আদি চরিত্র ধরে রাখতে হবে।

শ্যামল দত্ত আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ডাক শুধু স্বাধীনতার ছিল না, তিনি মুক্তির ডাকও দিয়েছিলেন। আর তা ছিল অন্ধকার থেকে, কুসংস্কার থেকে মুক্তির ডাক। বাঙালির সংস্কৃতির মুক্তির ডাক। আসুন সবাই লালনের জয়গান গাই।

লালন স¤্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীন বলেন, আমি লালন সাঁইয়ের চর্চা করি। শুদ্ধ গানের চর্চা করি। আমি মূল ঘরানা থেকে গাইছি। তাই আমার উপর দায়িত্ব পড়েছে লালন সাঁইকে সব জায়গায় পরিচয় করিয়ে দেয়ার। আমি লালন সাঁইকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে চাই। তাকে নিয়ে কাজ করে যেতে চাই। তিনি বলেন, ফ্রান্সে লালন সাঁইয়ের ৬টি গান রেকর্ড করে আর্কাইভ করা হয়েছে। এটা আমাদের শিল্পীদের সম্মান, বাংলাদেশের সম্মান। লালন সাঁইয়ের গান নিয়ে যথেচ্ছাচার হচ্ছে, অশুদ্ধ গান গাওয়া হচ্ছে- এই আক্ষেপ করে তিনি বলেন, লালনের শুদ্ধ বাণী প্রচারে গুরু ধরে থাকতে হবে। শিখতে হবে, শুদ্ধ চর্চা করতে হবে।

শুদ্ধ সংগীত পৃথিবীতে তুলে ধরতে হবে মন্তব্য করে বংশীবাদক গাজী আব্দুল হাকিম লালন উৎসব আরো সুন্দর করে, বড় পরিসরে আয়োজনের আহ্বান জানান। এছাড়া লালন ও ফোক উৎসবের পাশাপাশি যন্ত্রসংগীত বা যন্ত্রসংগীত শিল্পীদের নিয়ে উৎসব আয়োজনেরও আহ্বান জানান তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App