×

শেষের পাতা

ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধায় এবারো বসবে ‘স্মার্ট হাট’

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধায় এবারো বসবে ‘স্মার্ট হাট’

রুমানা জামান : কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। এই লেনদেনের প্রায় সবটাই হয় নগদ। হাটে লোকের ভিড়ে নগদ টাকা হারিয়ে যাওয়া বা চুরি-ছিনতাইয়ের ভয় থাকে। এই ঝামেলা থেকে রেহাই দিতে বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারো ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘ডিজিটাল হাট’ কার্যক্রম চালাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। আগামী বুধবার (১২ জুন) ‘স্মার্ট ডিজিটাল হাট’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, ডিএনসিসি ও সরকারের একশপ প্রকল্প, এটুআই, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় এই হাট বসছে। এছাড়া ডিএনসিসির ডিজিটাল হাটে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএফএ) অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের খামারিরা পশু বিক্রি করতে পারবেন। ক্রেতার নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি, নকল বা ছেঁড়া/ফাটা নোট-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে এ ব্যবস্থার ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পশু বিক্রেতা, প্রান্তিক খামারি ও ব্যবসায়ীরা নগদ অর্থ বহন-সংক্রান্ত সমস্যা থেকে মুক্ত হবেন। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ভবিষ্যতে অর্থায়ন, ডিপোজিট-সংক্রান্ত অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন, যা সার্বিকভাবে দেশজ অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে দেশের অন্যান্য হাটেও এ ধরনের উদ্যোগের পথ সুগম হবে।

ডিএনসিসির স্মার্ট হাট প্রসঙ্গে মেয়র আতিকুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ, স্মার্ট হাট’ সেøাগানে ডিএনসিসির আওতাধীন অস্থায়ী ৯টি কোরবানির পশুর হাটে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন ব্যবস্থা থাকবে। এই হাটগুলোই হবে স্মার্ট হাট। ইতোমধ্যে খামারিরা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে শুরু করেছেন। সেক্ষেত্রে টাকা নিয়ে আমাদের আর হাটে যেতে হবে না। গরুর মালিকরাও টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সমস্যায় পড়বেন না। কারণ লেনদেন হবে ডিজিটালি।

উদ্যোক্তারা জানান, ডিজিটাল হাটের ওয়েবসাইটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত খামারি যুক্ত

থাকবেন। ওয়েবসাইটের পাশাপাশি অ্যাপ থেকেও পশু কিনতে পারবেন ক্রেতারা। ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় হাটে অবস্থিত বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বুথের মাধ্যমে ক্রেতার হিসাব থেকে বিক্রেতার হিসাবে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা চলে যাবে। ক্যাশলেস লেনদেনের ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতার নগদ টাকা নিয়ে ঘোরার ঝুঁকি ও বাড়তি দুশ্চিন্তা থাকবে না।

ডিজিটাল হাট-সংশ্লিষ্টরা বলেন, হাট থেকে পশু কিনে নিয়ে যাওয়া একটি বিরাট সমস্যা। কিন্তু ডিজিটাল হাটের উদ্যোগে পশু শিপমেন্টের ব্যবস্থাও থাকবে। এছাড়া মাংস প্রসেসিং করার জন্য থাকবে কসাইয়ের ব্যবস্থাও। লাইভ হাট থাকবে। ভিডিও কলে পশু দেখা যাবে এবং আপডেট দেয়া হবে প্রতিনিয়ত। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও যশোরে জবাইসহ সব ধরনের সেবা দেয়া হবে। জানতে চাইলে ডিজিটাল হাট পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ই-ক্যাবের পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ বলেন, বরাবরের মতো এবারো ডিজিটাল পশুর হাট থাকবে। এ হাটে ব্যাপক সাড়া পড়েছে বিগত বছরগুলোতে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে ডিজিটাল হাটে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬টি পশু বিক্রি হয়েছে, যার মূল্য ৪ হাজার ২৩১ কোটি ৫৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

ডিজিটাল হাটের পদ্ধতি সম্পর্কে ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানায়, ডিএনসিসিতে এবার কোরবানির পশুর ৯টি অস্থায়ী ও একটি স্থায়ী হাট বসবে। এ প্রকল্পের আওতাধীন প্রতিটি হাটে একটি করে ডিজিটাল পেমেন্ট বুথ স্থাপন করা হবে, যেখানে ক্রেতারা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পিওএস, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, কিউআর কোডের মাধ্যমে অথবা বুথে স্থাপিত এটিএম মেশিন থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন করে বিক্রেতাকে পশুর মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। পাশাপাশি ইজারাদারদের কাছে প্রদেয় পশুর হাসিল নগদ অর্থ ছাড়াও ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পিওএস মেশিনে অথবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন। প্রান্তিক খামারি এবং সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের স্বার্থে পাইলট প্রকল্পের অধীনে সম্পাদিত ডিজিটাল লেনদেনে কোনো চার্জ প্রযোজ্য হবে না।

ঢাকা উত্তরের কোরবানির হাটের প্রস্তুতি জানাতে গিয়ে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহে আলম জানান, ডিএনসিসির আওতাধীন পশুর হাটগুলোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আফতাবনগর ছাড়া গত বছর যে স্থানগুলোতে হাট বসেছে, এবারো সেখানেই বসছে। গত চার বছরের মতো এবারো আমাদের ডিজিটাল হাট থাকবে। ঈদের দিনসহ পাঁচ দিন এসব হাটের কার্যক্রম চলবে।

২০২২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক এই উদ্যোগের পাইলট কার্যক্রম চালু করে। যেখানে ৩৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়। এবার ২০০ কোটি টাকা লেনদেনের লক্ষ্য সংশ্লিষ্টদের। ডিএনসিসির পশুর হাটে ১০টি ব্যাংক, ৩টি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট স্কিম ও ৪টি এমএফএস প্রোভাইডার (মোবাইল ব্যাংকিং) ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ব্যাংকগুলো হলো- এবি ব্যাংক লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, মিচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, দা সিটি ব্যাংক লিমিটেড এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি। আন্তর্জাতিক পেমেন্ট স্কিমের মধ্যে রয়েছে এমেক্স, মাস্টারকার্ড ও ভিসা। আর এমএফএস প্রোভাইডারা হলো- বিকাশ, নগদ, উপায় ও এমক্যাশ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App