×

শেষের পাতা

চট্টগ্রাম

হাটে পশু আসছে সড়কে চাঁদাবাজি, ডাকাতি

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রামে কুরবানির পশুর হাটে গরু-খাসিসহ অন্যান্য পশু আসা শুরু হয়েছে। যার বেশির ভাগই আসছে দেশের উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে। গত কয়েকদিন ধরে উত্তরবঙ্গের ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, নাটোর, নওগাঁ, কুষ্টিয়া ও সিরাজগঞ্জ থেকে বেপারিরা গরু নিয়ে এসেছে। তবে চাঁদাবাজদের কারণে সড়কে সড়কে হয়রানির কথাও জানালেন বেপারিরা। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবারই চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হচ্ছে। গত শুক্রবার রাতেও নগরীর বিভিন্ন হাটে পশুবাহী ট্রাক আসে, যা অব্যাহত থাকবে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত।

তবে এর মধ্যে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পশুসহ গাড়িও ডাকাতি হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কের কুমিল্লায় ছিনতাই হওয়া পাঁচটি গরুবাহী একটি পিকআপ আটক করেছে র‌্যাবের একটি টিম। সেসঙ্গে এক ছিনতাইকারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম নগরীতে এবার তিনটি স্থায়ী হাটের পাশাপাশি ৭টি পশুর হাট বসানোর অনুমতি মিলেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের। অবশ্য এই ১০ হাটে জমজমাট বিক্রি শুরু না হলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে। এবারো স্থানীয় উৎপাদনে কুরবানি পশুর চাহিদা মিটবে না বলে পশু ব্যবসায়ী, খামারি ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। তাই ঘাটতি মেটাতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু-মহিষ নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেছে বেপারিরা। চট্টগ্রামের পশুর হাটের ইজারাদাররা জানিয়েছেন, হাটে বেশির ভাগ বেপারি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার। স্থানীয় খামারিরা যেমন পশু মোটাতাজা করেছে তা উপজেলা পর্যায়ের হাটেই বিক্রি হয়।

চট্টগ্রামে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার কুরবানি পশুর সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার। তবে কুরবানিযোগ্য পশু রয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৫২ হাজার। চাহিদার বিপরীতে সংকট রয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার।

প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার কুরবানি পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চট্টগ্রামের হাটগুলোতে নিয়ে আসে বেপারিরা। চাহিদার বিপরীতে ওই সংকট নিরসন সম্ভব হবে মনে করছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।

বেপারিরা জানিয়েছেন, এবার পশুর দাম গতবারের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়বে গোখাদ্য এবং পরিবহন খরচের কারণে। যার ফলে এক লাখ টাকার গরু দাম এবার ১ লাখ ৩০ হাজারের কাছাকাছি। অবশ্য হাটে বেপারিরা কুরবানি পশুর অত্যাধিক দাম চাইছে এমন অভিযোগ ক্রেতাদের।

এবারো স্থানীয় তিনটি হাটে ভেটেরিনারি টিম থাকবে। চট্টগ্রামে তিনটি পশুর বাজার হলো সাগরিকা পশুর বাজার, বিবিরহাট গরুর হাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার। অস্থায়ী হাটগুলো হচ্ছে নূর নগর হাউজিং এস্টেট, বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টিকে গ্রুপের খালি মাঠ, উত্তর পতেঙ্গার টিএসপি মাঠ, সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, বড়পোল-সংলগ্ন গোডাউনের পরিত্যক্ত মাঠ, ওয়াজেদিয়া মোড় এবং আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠ।

প্রতিটি অস্থায়ী বাজারে ত্রিপল, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও খুঁটি স্থাপন শেষ হওয়ায় এখন বেপারিদের উপস্থিতি বাড়লেও রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। হাটগুলোর নালা পরিষ্কার না থাকায় বৃষ্টি শুরু হলে পশুর বেপারিরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। একইভাবে যথাযথভাবে ত্রিপল না দেয়ার ফলে বৃষ্টি এলে ভয়াবহ অবস্থা হবে বলে জানালেন বেপারিরা।

চট্টগ্রামের সাগরিকা, বিবিরহাট, নূর নগর হাউজিং, বাটার ফ্লাই পার্কের পাশে টিকে গ্রুপের খালি মাঠ, সিডিএ বালু মাঠের বাজারে রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, নওগাঁ, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ থেকে বেপারিরা প্রতিদিনই পশুবাহী ট্রাক আনছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App