×

শেষের পাতা

ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস পালিত

স্বাধীনতা সংগ্রামের টার্নিং পয়েন্ট বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা

Icon

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাধীনতা সংগ্রামের টার্নিং  পয়েন্ট বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা

কাগজ প্রতিবেদক : যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে গতকাল শুক্রবার পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দিবসটি পালন করেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীরাও দিবসটি পালন করে। এ উপলক্ষে গতকাল সকালে কেন্দ্রীয় ও সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলটির নেতারা। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় ৬ দফা দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। বিকালে কেন্দ্রীয়ভাবে তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দলীয় প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, প্রচার সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বেগম শামসুন নাহার, আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, স্বাস্থ্য সম্পাদক ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানা, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী ও সাঈদ খোকন প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণ থেকে চলে যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাকা মহানগর (উত্তর-দক্ষিণ) আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের টার্নিং পয়েন্ট ৬ দফা। যারা ৬ দফা মানে না, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, ৬ দফা বাস্তবায়নে জাতির পিতার যে আহ্বান, তারই সঙ্গে ৭ জুনের হরতালে বেশ কয়েকজন শ্রমিক নেতা নিহত হন। এই ৬ দফা হচ্ছে স্বাধীনতা আন্দোলনের মাইলফলক। যার ভিত্তিতে ১১ দফা আন্দোলন শুরু করে ছাত্রসমাজ। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ৬ দফা না হলে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান হতো কি না সেটিই হলো বড় কথা। যা আমাদের ইতিহাসের বাক পরিবর্তন করেছে। পঁচাত্তরের পর ৭ জুন ও ৭ মার্চ এসব দিবসকে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছিল। যারা নিষিদ্ধ করে, তারা ১৫ আগস্ট সপরিবারের বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারা শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি, তারা হত্যা করতে চেয়েছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে, আমাদের স্বাধীনতার আদর্শকে। সেই কারণে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জয় বাংলা, ৭ মার্চ ও ৭ জুন নির্বাসিত হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৬ সালের ৭ জুন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ৬ দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলনের সূচনা হয়। এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গি, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও ইপিআর সদস্যদের গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন বাঙালি শহীদ হন। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আপসহীন সংগ্রামের ধারায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় পরাধীন বাঙালি জাতি। পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক ৬ দফাভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনই ধাপে ধাপে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App