×

শেষের পাতা

সবজিও চড়া

ফের বাড়ল ডিম আলু পেঁয়াজ রসুনের দাম

Icon

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ফের বাড়ল ডিম আলু  পেঁয়াজ রসুনের দাম

কাগজ প্রতিবেদক : নিত্যপণ্য, মাছ-মাংস, এমনকি মসলাজাত পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী দীর্ঘদিন ধরেই। সপ্তাহের ব্যবধানে বিশেষ করে ডিম, আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ কিছু সবজির দাম বেড়েছে। আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি, চাল, আটা, ডাল ও মাছ-মাংস। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। কিছু কাঁচা পণ্যের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে পণ্য সরবরাহে ঘাটতির কথা জানালেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। অবশ্য ব্যবসায়ীদের এ ধরনের অজুহাত মানতে নারাজ ক্রেতারা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে বাদামি ডিমের দাম ডজনে পাঁচ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা দরে। যা গত সপ্তাহেও ছিল ১৫৫ টাকা।

আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও অনেক জায়গায় ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি কেজি পেঁয়াজ জাতভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। যা গত সপ্তাহেও ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পেঁয়াজের পাশাপাশি সপ্তাহের ব্যবধানে রসুনের দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিভিন্ন জাতের এবং আমদানি করা রসুন ২০০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায়। যা গত সপ্তাহেও ছিল ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা।

কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমে কেজিতে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৫০ টাকা। এছাড়া বেগুন ৮০ টাকা কেজি, লাউ ৮০ টাকা পিস,

পেঁপে কেজি ৫০ টাকা, গাজর ১৫০ টাকা, টমেটো ৯০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, শসা ৫৫ টাকা, কাঁকরোল কেজি ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, বরবটি ৭০-৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০-৮০ টাকা, ঝিঙা ৬০-৭০ টাকা, কচুর লতি ৭০-৮০ টাকা, কচুর মুখী মানভেদে ১০০ টাকা ও কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। মাছের বাজারে দেখা যায়, পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২২০-২৩০ টাকা কেজি। আকার ও মানভেদে অনেকটা একই দামে বিক্রি হচ্ছে তেলাপিয়া। চাষের কই ২৮০-৩৫০ টাকার নিচে মিলছে না। আকার ও মানভেদে রুই-কাতলার দাম হাঁকানো হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি। আকারভেদে শিং মাছ ও বাইলা মাছ প্রতি কেজি ৬০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা মাছ ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, মলা ৫০০, কাচকি মাছ ৬০০, বাতাসি টেংরা ৯০০, অন্য জাতের টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৭০০, পাঁচ মিশালি মাছ ৪০০-৫০০, বাইম মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা ও রূপচাঁদার কেজি ১ হাজারে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাংসের বাজারে দেখা গেছে, গরুর মাংসের কেজি ৭৮০-৮০০ টাকা। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমে প্রতি কেজি ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সোনালি মুরগি ৩৪০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৬০ টাকা ও পাকিস্তানি মুরগি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস আগের মতোই ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মালিবাগ কাঁচা বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মো. হান্নান বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকলেও চাহিদা বেশি। তাই কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সেগুনবাগিচা কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী আলমাস বলেন, গরমের কারণে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কম, কিন্তু চাহিদা তো আর কম নয়। ফলে দাম একটু বেশি। তাছাড়া সামনে ঈদ, জিনিসপত্রের দাম কমবে কি না তার নিশ্চয়তা নেই। শান্তিনগর বাজারের ব্যবসায়ী হোসেন মিয়া বলেন, বাজারে সব কিছুর দামই এখন বাড়তির দিকে। যেখান থেকে কিনে আনি সেখানেই দাম বাড়িয়ে রাখছে, এখানে তো আমাদের কিছু করার নাই। সরকারের বাজেট ঘোষণার কোনো প্রভাব বাজারে পড়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তেমন কোনো প্রভাব নেই। সবকিছুর দাম যেমন ছিল তেমনই আছে।

অন্যদিকে মালিবাগ কাঁচা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মো. আজিজুর রহমান বলেন, বাজারে সব পণ্যের দাম কেবল বাড়তেই থাকে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের বাজেটে কী আর সাধারণ মানুষের কথা থাকে। আরেক ক্রেতা মমিনুল হক হতাশ কণ্ঠে বললেন, যে টাকা নিয়ে বাজারে আসছিলাম, তা দিয়ে মনে হয় অর্ধেক বাজার করতেও কষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের কথা তো কেউ ভাবে না। প্রতি বছর নতুন বাজেট আসবে, কিন্তু আমাদের একটুখানি স্বস্তি আসবে কবে?

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App