×

শেষের পাতা

আদালতে শিমুলেরও দায় স্বীকার

মরদেহ গুম পর্যন্ত জানালেন সব

Icon

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 মরদেহ গুম পর্যন্ত জানালেন সব

কাগজ প্রতিবেদক : ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আমানুল্যাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া। গতকাল বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের খাস কামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি।

আদালত সূত্র জানায়, এমপি আনোয়ারুল আজীমকে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে আদ্যোপান্ত জানিয়েছেন শিমুল ভূঁইয়া। বিশেষ করে কলকাতার সঞ্জীবা গার্ডেন্সকেই কেন ভাড়া করা হলো, কীভাবে কিলিং মিশনে অংশ নেয়া সদস্যদের যুক্ত করা হয়, শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ টুকরো করা, লাশ গুমের বর্ণনাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন তিনি। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারব না সঞ্জীবা গার্ডেন্সে উদ্ধার হওয়া মাংসই এমপি আনারের মরদেহের খণ্ডাংশ। গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমপি আনারকে ভারতে হত্যা করা হয়েছে। আপনারাও শুনেছেন, আমরাও শুনেছি ভারতে মরদেহের খণ্ডিতাংশ পাওয়া গেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছেন তারা আমাদের কাছে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাদের কয়েকজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। নেপালে গ্রেপ্তার সিয়াম সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে ভারতে। ভারত চাইবে অপরাধী তার দেশে নিয়ে যেতে। ভারতের সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে। ভারত যখন সিয়ামকে নেবে তখন আমরাও বলব আমাদেরও কিছু জিজ্ঞাসা করার আছে। দুদেশ মিলেই তদন্ত হচ্ছে। আশা করি দুদেশ মিলেই তদন্তে একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত আসবে।

শিমুল ভূঁইয়া জবানবন্দিতে জানান, গত ৩০ এপ্রিল কলকাতায় পৌঁছান ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত আখতারুজ্জামান ওরফে শাহিন। তার সঙ্গে কলকাতায় যান সেলেস্টি রহমান ও শিমুল ভূঁইয়া। তারা গিয়ে আখতারুজ্জামানের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে (সঞ্জীবা গার্ডেন) ওঠেন। ওই ফ্ল্যাটে আসা যাওয়া করতেন শিমুলের ভাতিজা তানভীর, তাদের সহযোগী জিহাদ হাওলাদার, সিয়াম হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও ফয়সাল আলী। এমপি আনারকে খুনের আগে কলকাতায় নিউমার্কেট থেকে কালো রঙের পলিথিন, দড়িসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনা হয়েছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল প্রথমে এমপি আনারকে চেতনানাশক দিয়ে অচেতন করে চেয়ারে বেঁধে তার অশ্লীল ভিডিও ধারণ এবং পরে ব্লাকমেইল করে টাকা হাতানোর পর খুন করা। কিন্তু চেতনাশক বেশি প্রয়োগ করে ফেলায় সেই পরিকল্পনা কাজে আসেনি। ১৩ মে প্রথমে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে মাংস ও হাড় আলাদা করার কথা স্বীকারও করেছেন শিমুল। লাশ গুম করতে মাংসের টুকরোগুলো দুটি টয়লেটের কমোড দিয়ে ফ্লাশ করা হয়। আর

হাড় হাতিশাল খালে ফেলা হয়। হত্যাকাণ্ডের আগেই মাস্টারমাইন্ড আখতারুজ্জামান ঢাকায় চলে আসেন বলে জানান শিমুল।

গতকাল দুপুরের দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসি মাহফুজুর রহমান আসামি শিমুলকে আদালতে হাজির করেন। তিনি এক আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি এমপি আনারকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। তিনি আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে ইচ্ছুক। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জানা গেছে, শিমুল ভূঁইয়া খুলনা জেলার ফুলতলা থানার দামোদর গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির নাসির উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে। এর আগে গত সোমবার এই মামলায় গ্রেপ্তার সেলেস্টি রহমান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গত মঙ্গলবার আমান ভূঁইয়ার ভাতিজা তানভীর ভূঁইয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

উল্লেখ্য, এমপি আনার ১২ মে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় যান। পরদিন কলকাতার নিউ টাউন এলাকার সঞ্জীবা গার্ডেন্সের একটি ফ্ল্যাটে তিনি খুন হন। ওই ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে কলকাতা পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশকে এ তথ্য জানায়। এরপর শিমুল ভূঁইয়াসহ ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে আনোয়ারুল আজীমকে হত্যা এবং তার লাশ গুম করার ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পায় পুলিশ।

এদিকে ভারতের কলকাতা সিআইডির একটি সূত্র দাবি করেছে, বাগজোলা খালে গতকাল এক টুকরা হাড় ও দুটি চাকু পেয়েছে নৌবাহিনীর ডুবুরিরা। তবে এই হাড় এমপি আনারের না অন্যকোনো প্রাণীর তা পরীক্ষার পর জানা যাবে। আর চাকু দুটি কী কাজে ব্যবহার হয়েছে তাও পরীক্ষার পর বলা যাবে বলে সূত্রটি জানায়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App