×

শেষের পাতা

দুদকে ১৫ দিনের সময় চেয়েছেন বেনজীর

Icon

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দুদকে ১৫ দিনের সময় চেয়েছেন বেনজীর

কাগজ প্রতিবেদক : অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হওয়ার জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেছেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। গতকাল বুধবার বিকালে ১৫ দিনের সময় চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে দুদকে আবেদন করেন তিনি।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেনজীর আহমেদকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে তলবি নোটিস পাঠিয়েছিল দুদক। বেনজীরের স্ত্রী জিশান মির্জা, বড় মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর এবং ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরকেও দুদকে তলব করা হয়েছে। তাদের ৯ জুন জিজ্ঞাসাবাদে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। গত ২৮ মে বেনজীরের গুলশানের বাসার ঠিকানায় এ তলবি নোটিস পাঠায় দুদক। বিদেশে চলে গেছেন বলে গুঞ্জনের মধ্যেই আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চাইলেন বেনজীর। তবে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের হাজির হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

গতকাল বুধবার বেনজীরের সময় চাওয়ার তথ্য গণমাধ্যমকে জানান দুদক কমিশনার মো. জহুরুল হক। আগের দিন গত মঙ্গলবার তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, দুদক কাউকে নোটিস করলে তিনি আসতে বাধ্য কি না, সেটা আইনে সুস্পষ্ট বলা নেই। না এলে ধরে নিতে হবে তার কোনো বক্তব্য নেই। তবে তার সুযোগ আছে সময় চাওয়ার। সময় চাইলে দুদক ১৫ দিন সময় দিতে পারবে। এ এখতিয়ার কমিশনের রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতেও বিচার হবে, এতে কোনো বাধা নেই।

গত ৬ মাসে পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ তার অ্যাকাউন্ট থেকে কত টাকা তুলেছেন, সেই টাকা কোথায় নিয়েছেন- সে বিষয়ে খোঁজ চলছে। ভুক্তভোগীরা চাইলে তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ এবং থানায় মামলা করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন দুদক আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ অঢেল সম্পত্তির অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এপ্রিলের শেষে বেনজীর এবং তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে দুদকে আবেদন করেন। এরপর ২২ এপ্রিল দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন জানান, বেনজীর আহমেদের ‘অবৈধ সম্পদ’ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছেন তারা। সেজন্য তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক নিয়ামুল হাসান গাজী এবং জয়নাল আবেদীন।

একই দিন বেনজীরের বিষয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী এবাদাত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এরপর বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সম্পদের খোঁজে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আটটি প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেয় দুদক। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ মে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও তিন মেয়ের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন। সেসঙ্গে তাদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন কোম্পানিতে থাকা শেয়ারও অবরুদ্ধ করার আদেশ দেয়া হয়।

ক্রোকের নির্দেশ পাওয়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ১১৯টি দলিল। যার মধ্যে ঢাকায় ৪টি ফ্ল্যাট। এর মধ্যে ২০৪২ স্কয়ার ফিট ২টি এবং ২০৫৩ স্কয়ার ফিট ২টি। ৪টি নিজ নামীয় কোম্পানি, ৪টি বিও অ্যাকাউন্ট। ১৫টি আংশিক মালিকানাধীন কোম্পানির শেয়ার। তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, আদালতের আদেশ আসার আগেই বেনজীর ব্যাংক থেকে তার বেশির ভাগ অর্থ তুলে নিয়েছেন। এরপর তারা দেশ ছেড়ে গেছেন। গুঞ্জন রয়েছে, দুদকের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর ৪ মে পরিবারসহ সিঙ্গাপুর চলে যান বেনজীর। সেখানে একটি হাসপাতালে বেনজীরের স্ত্রী জীশান মীর্জার অস্ত্রোপচার হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে আছেন তিনি। সেখানেই অবস্থান করছে পুরো পরিবার। তবে দেশান্তরী বেনজীর আহমেদ বারবার ঠিকানা বদলাচ্ছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। কেউ বলছেন দুবাই, কারো মতে তিনি সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। এরই মধ্যে নতুন করে বাজারে চাউর হয়েছে এক সময় দোর্দণ্ড প্রতাপে চলা বেনজীরের নতুন আস্তানা এখন তুরস্কে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App