×

শেষের পাতা

সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

Icon

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট অফিস : সিলেটে ধীরে ধীরে নামছে বন্যার পানি। ফলে গতকাল বুধবার পরিস্থিতির আরো উন্নতি হয়েছে। সরকারি হিসাবে- মহানগর ও জেলা মিলিয়ে বর্তমানে সাড়ে ৬ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ৭ লাখ।

ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে গত ২৭ মে থেকে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আরো কয়েকটি উপজেলায় দেখা দেয় বন্যা। শুক্র ও শনিবার বৃষ্টি এবং উজানের ঢল থামায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। তবে রবিবার থেকে ফের সিলেটে ভারি বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বেড়ে যায় নদ-নদীর পানি। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার ১৩টির মধ্যে ৩টি (ওসমানীনগর, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) ছাড়া বাকি সব উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ওইদিন জেলা ও মহানগরে ৭ লাখ ৩৯ হাজার ৩৬২ জন পানিবন্দি ছিলেন।

গতকাল জেলা প্রশাসনের দেয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬৩টি ইউনিয়ন এবং ১৩ ওয়ার্ডের ৮৪২টি গ্রাম/পাড়ার ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬২ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে মোট ৫৭১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বর্তমানে ৪ হাজার ৫০৫ জন অবস্থান করছেন। বর্তমানে সিলেট মহানগরের ১৩ ওয়ার্ডে বন্যার পানি রয়েছে। শুরুতে অন্তত ৩০টি ওয়ার্ড পানিবন্দি ছিল। গত দুই দিন থেকে ধীরে ধীরে নামছে পানি। মহানগরে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল এসব কেন্দ্রে ৪ হাজার মানুষ অবস্থান করছিলেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান জানান, গত মঙ্গলবার রাতে সিলেটে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও বিশ্বনাথ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা বিস্তৃতি ঘটেছে। তবে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকাসহ জেলার অন্যান্য উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ডেডিকেটেড অফিসার নিয়োগের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। সরকারি/বেসরকারিভাবে অব্যাহত রয়েছে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম।

এদিকে গতকাল দুপুর ১২টায় কানাইঘাট উপজেলায় সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৫১ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আর জকিগঞ্জ উপজেলায় বিপদসীমার ১৮ সে.মি. ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বিপদসীমার ৪৩ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল কুশিয়ারা নদীর পানি। দুটি নদীর পানিই মঙ্গলবার থেকে ধীরে ধীরে কমছে। অন্যদিকে সিলেট মহানগর এলাকায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যান্য নদীগুলোর পানিও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন ভারি বর্ষণ নাহলে সুরমা নদীর পানি আরো কমে যাবে বলে জানিয়েছেন সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App