×

শেষের পাতা

জাতীয় জাদুঘরে ‘স্মৃতি চিরন্তন’ প্রদর্শনী চলছে

ইতিহাস কথা বলে

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 ইতিহাস কথা বলে

ঝর্ণা মনি : ছিমছাম, শান্ত, নিরিবিলি কক্ষটির প্রবেশ মুখেই প্রথমে হাতের বাম দিকে থমকে যাবে দৃষ্টি। স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহাস্য দূরদৃষ্টি ইতিহাসের বাঁকে নিয়ে যাবে দর্শককে। এরপাশেই কাচের বাক্সবন্দি বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত ১৪ সেন্টিমিটার পিতলের টোব্যাকো পাইপ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বাঙালির পাইপ টানার দৃশ্য স্মরণ করিয়ে দেবে। মোটা কালো ফ্রেমের চশমা পরিহিত ছয় ফুট বাই দুই ফুট বিশাল দেহের সিংহপুরুষ বঙ্গবন্ধুর সফেদ পাঞ্জাবি-পাজামাও রয়েছে পাশাপাশি সাজানো- যা শুধু পোশাক নয় হাজারো না বলা ইতিহাসের সাক্ষ্য। শুধু জাতির পিতা নন, রয়েছে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনসহ ৩৭ বরেণ্য ব্যক্তিত্বের ব্যবহৃত ১২৮টি নিদর্শন। যেন জীবন্ত ইতিহাস; বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, নবাবী আমল, শিল্প-সাহিত্যগাথার গৌরবময় ইতিহাস। একটি কক্ষে থরে থরে সাজানো হয়েছে বীর বাঙালির অসামান্য বীরত্বগাথা।

গত সোমবার থেকে রাজধানী ঢাকার জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে সূচনা হওয়া এ প্রদর্শনীর শিরোনাম ‘স্মৃতি চিরন্তন’। জাদুঘরের চারটি কিউরেটরিয়াল বিভাগের সংগৃহীত স্মৃতি নিদর্শনের সম্মিলন ঘটেছে এই শিল্পায়োজনে। আগামী ১২ জুন পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী। শনি থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা এবং শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে প্রদর্শনী। বৃহস্পতিবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন প্রদর্শনী বন্ধ থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মালীবাগ থেকে ছোট্ট মেয়ে আনুষ্কাকে নিয়ে এসেছেন মা আলেয়া পারভীন। বেসরকারি

চাকরিজীবী মা আলেয়া পারভীন ঘুরে ঘুরে কন্যাকে প্রদর্শনী দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে গল্পছলে তুলে ধরছিলেন বাঙালির ইতিহাসের বীরত্বকথা। ব্রোঞ্জের তৈরি বঙ্গবন্ধুর রেপ্লিকার সঙ্গে ছবি তুলে আনুষ্কা বলল, জাতির পিতা শিশুদের খুব ভালোবাসতেন। আমি তাই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছবি তুলেছি।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কর্ণারে রয়েছে মহামূল্যবান দলিল, কবির বাংলাদেশের নাগরিগত্ব সনদ। রয়েছে কবির ব্যবহৃত গেঞ্জি, পাঞ্জাবি, পাজামা এবং জুতা। রয়েছে পটুয়া কামরুল হাসানের হাতের লেখা পান্ডুলিপি- আমরা কোথায়। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে নিহত হয়েছেন সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন। শহীদ এই সাংবাদিকের ব্যবহৃত ক্যামেরাটি প্রদর্শীতে ঠাঁই পেয়েছে। রয়েছে রাজনীতিবিদ ও সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমদের কালো ফ্রেমের চশমা, ঘড়ি, বিখ্যাত গ্রন্থ ফুড কনফারেন্স; মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর খড়ম; শহীদ ডা. ফজলে রাব্বির টাইপ রাইটার। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হকের ব্যবহৃত শার্ট দেখে আপ্লুত ব্যবসায়ী শুভ বললেন, এই প্রদর্শীতে যারা ঠাঁই পেয়েছেন তারা সবাই আমাদের দেশের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। তার চেয়েও বড় কথা, এ দেশের জাতিসত্তার বিনির্মাণে রয়েছে তাদের অনন্য অবদান। এদের অনেকেই নিজেদের আত্মাহুতির বিনিময়ে এনে দিয়েছেন লাল-সবুজের পতাকার অহঙ্কারে গর্বিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা। মাতৃভূমিকে শত্রæমুক্ত করতে অসীম সাহসে ভর করে অংশ নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে। স্বদেশের জন্য সঁপে দিয়েছেন প্রাণ।

জাদুঘরের ইতিহাস ও ধ্রæপদী শিল্পকলা বিভাগের কিপার মোহাম্মদ মনিরুল হক ভোরের কাগজকে বলেন, যুগে যুগে এই ভূখণ্ডে অনেক বরেণ্য ব্যক্তির জন্ম হয়েছে এবং তারা দেশমাতৃকার জন্য শিক্ষা, সংস্কৃতি, ভাষা-সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রেখেছেন। আবার কারো মেধা ও শ্রমে তৈরি হয়েছে এ দেশে শিল্পচর্চার পথরেখা। কারো লেখনীর আশ্রয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা সাহিত্যের উর্বর ভূমি। অনবদ্য কবিতার পঙক্তিমালায় কেউবা রাঙিয়েছেন সাহিত্য ভুবন। নারী জাগরণ থেকে সিনেমা নির্মাণ কিংবা জ্ঞান চর্চায়ও রয়েছে তাদের বিশেষ অবদান। তাদের মধ্যে সীমিতসংখ্যক বরেণ্য ব্যক্তির স্মৃতি নির্দশন সংগ্রহ করতে পেরেছে জাদুঘর। এর মধ্যে কিছু নিদর্শন গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং কিছু নিদর্শন স্টোরে সংরক্ষিত রয়েছে। নতুন প্রজন্ম এই প্রদর্শনী থেকে স্বদেশের প্রতি কৃতী সন্তানদের অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আর এ কারণে পর্যায়ক্রমে আমরা অন্য কৃতী ব্যক্তিদের নিয়েও প্রদর্শনীর আয়োজন করব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App