×

শেষের পাতা

এমপি আনারের ‘মৃত্যু’র খবর জানে না ইসি

Icon

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর বলেছেন, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার মারা গেছেন সেটি তো আমরা অফিসিয়ালি জানি না। এই এমপির মৃত্যুর সংবাদ যখন সংসদ থেকে গেজেট করে জানাবে, তখন আমরা বিষয়টি জানতে পারব। সংসদ যদি আসনটি শূন্য ঘোষণা করে তখন আমরা নির্বাচনের ব্যবস্থা করব।

গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন ইসি আলমগীর। তিনি বলেন, সব কিছু স্পষ্ট করে লেখা না থাকলে যে কাজ করা যাবে না, তাতো নয়। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত গেজেট না পাব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা নির্বাচন করতে পারব না।

একজন সংসদ সদস্যের যদি সাধারণ মৃত্যু কিংবা অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় তাহলে সেক্ষেত্রে ওই আসনের কী হবে? সংবিধানে এ বিষয়ে কী লেখা আছে জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, সংবিধানের ৬৬ বা ৬৭ তে এ বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ দেখি না। মৃত্যুজনিত কারণে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে এটি আমি এ পর্যন্ত সংবিধানে দেখিনি। সাধারণত এটি ধরে নেয়া হয়, যদি সংসদ সদস্য মারা যান, তার পক্ষে তো আর সংসদে আসা সম্ভব নয়। এটি ধরে নিয়েই আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয় এবং আমাদের যখন জানানো হয়, আমরা সংবিধানের ১২৩ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন করি। ঝিনাইদহ-৪ আসনের ক্ষেত্রে কী হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাভাবিক বা অপমৃত্যু যাই হোক না কেন এটা হলো সংসদের দায়িত্ব। স্পিকার যখন মৃত্যু সনদ পাবেন তখন সংসদ আসনটি শূন্য ঘোষণা করবে। শূন্য ঘোষণা করলে গেজেট আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেবে। এরপরে আমরা নির্বাচনের ব্যবস্থা করব।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনও একাধিক দিনে ধাপে ধাপে করার বিষয়টি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের ব্যক্তিগত আলোচনা মন্তব্য করে ইসি আলমগীর বলেন, আইনে যা আছে কমিশনকে সেভাবেই নির্বাচন করতে হবে। কমিশন কোনো পরামর্শ, সুপারিশ করতে পারে না। কমিশন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আমাদের বক্তব্য হলো- পদ্ধতি যেটাই হোক না কেন, পদ্ধতি ঠিক করবেন রাজনৈতিক দল, সংসদ, ভোটার। যে পদ্ধতিই অনুসরণ করা হোক না কেন, সংবিধানে যে অবস্থা থাকবে, সেই অবস্থার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো নির্বাচনটা সুষ্ঠু করা। এটা নিয়ে আমাদের ব্যক্তিগত পছন্দ, অপছন্দ নেই। তিনি বলেন, ওইটা কমিশনের কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে বলেননি সিইসি। যেটা বলেছেন সেটা হলো, একাডেমিক ডিসকাশনের ক্ষেত্রে উনি ওই বিষয়টা মনে করেন। এ রকম সিদ্ধান্ত দেয়নি যে, কমিশন মনে করে এ পদ্ধতিটা ভালো। সেটি ব্যক্তিগত আলোচনা। কমিশন কোনো গাইডলাইন দিতে পারে না, সুপারিশ করতে পারে না। বরং সংবিধানে কী আছে, সে অনুযায়ী কমিশনকে ফলো করতে হবে। সংবিধান রচনা করবে জাতীয় সংসদ। জাতীয় সংসদে কারা আছেন? সংসদ সদস্যরা। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাই ঠিক করে দেবেন যে, এ দেশের শাসনব্যবস্থা কেমন হবে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কেমন হবে, সরকার ব্যবস্থা কেমন হবে, নির্বাচন ব্যবস্থা কেমন হবে।

ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার বাড়ানো নিয়ে সিইসির বক্তব্যের বিষয়ে মো. আলমগীর বলেন, সিদ্ধান্ত নয়, ইভিএমের ভালো দিকগুলো নিয়ে ব্যক্তিগত আলোচনা হয়েছে যে, ইভিএমে বিশ্বাস করা উচিত, কারণ ইভিএমে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচন হওয়ার পরে কিন্তু কোনো প্রার্থী বলেননি নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। এ ধরনের একটি অভিযোগও আমরা পাইনি। সব রাজনৈতিক দল যদি ইভিএমে ভোটের বিষয়টি সমর্থন করত তাহলে ভালো হতো, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App