×

শেষের পাতা

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ব্যর্থতা তদন্তে কমিটি

Icon

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ব্যর্থতা ও কর্মীদের হয়রানি অনুসন্ধানে ৬ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গতকাল রবিবার এ তদন্ত কমিটি গঠন করে ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার কর্মী মালয়েশিয়া যেতে পারেননি। যদিও বেসরকারি হিসাবে এ কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৩১ হাজার। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, যে দেশ জনশক্তি নেবে তারাই সিন্ডিকেট সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা সংক্ষুব্ধ কেউ মামলা করলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয়েছে।

কোটা পূরণ হওয়ায় ৩১ মের মধ্যে প্রবাসী শ্রমিক প্রবেশের সুযোগ দেয় মালয়েশিয়া সরকার। এরপর আর কোনো শ্রমিক প্রবেশ করতে পারবে না দেশটিতে। এ কথা গত ১ মার্চেই সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ভয়াবহ সিন্ডিকেশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের গাফলতি এবং তদারকির অভাবে টাকা দিয়েও নির্ধারিত সময়ে অন্তত ৩১ হাজার কর্মী মালয়েশিয়া যেতে পারেননি। বিদেশ গিয়ে আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী প্রতি কর্মীর বিমান ভাড়াসহ ৭৯ হাজার টাকা খরচ হওয়ার কথা। কিন্তু রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো গড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে। ফলে টাকা দিয়েও বিমানের টিকেট না পাওয়া শ্রমিকরা এখন ঋণের জালে আটকা পড়ার আশঙ্কা করছেন।

গতকাল রবিবার বিকালে মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী। তিনি জানান, গত ৩১ মে পর্যন্ত ৫ লাখ ২৬ হাজার ৬৭৬ জনকে মালয়েশিয়া যাওয়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে বিএমইটি (জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) থেকে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪২ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭২ জন মালয়েশিয়া গিয়েছেন। সেই হিসাবে ১৬ হাজার ৯৭০ জনের কম-বেশি যেতে পারেননি।

তিনি আরো বলেন, তারা কেন যেতে পারেননি, সেই কারণ খতিয়ে দেখতে মন্ত্রণালয় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটি ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট এবং সুপারিশ দেবে। আমি বিশ্বাস করি যারা এর জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর লক্ষ্যে সরকার বরাবরই আন্তরিক ছিল। পত্রিকায় জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে অতিরিক্ত ২৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া কর্মী পাঠানোর সময় বাড়ানোর আবেদন করে মালয়েশিয়ায় একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সিন্ডিকেটের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে দেশ জনশক্তি নেবে তারা চায় বলেই সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। তবে, সরকার কোনো সিন্ডিকেটে বিশ্বাস করে না। সরকার অনুমোদিত সব এজেন্সি যেন লোক পাঠাতে পারে, সেটাই চায় সরকার। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শিগগিরই খোলার আশা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব রুহুল আমিন জানান, ২৪ মের পর থেকে যাদের টিকেট ছিল শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর বাইরে কাউকে অনুমোদন দেয়া হয়নি। তিনি আরো জানান, এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নূর মো. মাহবুবুল হককে। গঠিত কমিটি কর্মানুমতি ও বিএমইটির ক্লিয়ারেন্স কার্ড পাওয়ার পরও মালয়েশিয়াতে কর্মী পাঠাতে না পারার কারণ চিহ্নিতকরণ, নির্ধারিত সময়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ব্যর্থ রিক্রুটিং এজেন্সি চিহ্নিতকরণ, কমিটির নিকট মালয়েশিয়া গমন করতে পারেনি এরূপ কেউ অভিযোগ করলে তা আমলে নিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ করবে।

এদিকে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেছেন, মালয়েশিয়ায় যারা যেতে পারেননি তাদের মধ্যে সংক্ষুব্ধ কেউ মামলা করলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। শুধু পাচার মামলা নয়, পাশাপাশি অবৈধভাবে শ্রমিক পাঠানোর মাধ্যমে কিংবা অবৈধভাবে অর্থ আয় করে হস্তান্তর- এসবও আমরা মানি লন্ডারিং আইনে মামলার আওতায় নিয়ে আসব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App