×

শেষের পাতা

ভিউনির্ভর সাংবাদিকতা পরিহারের তাগিদ

Icon

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভিউনির্ভর সাংবাদিকতা পরিহারের তাগিদ

কাগজ প্রতিবেদক : ডিজিটাল সাংবাদিকদের ভিউনির্ভর সাংবাদিকতা পরিহার করে সাংবাদিকতার নৈতিকতা ধারণ করতে হবে। মানসম্পন্ন সাংবাদিকতার উপর জোর দিতে হবে। সেই সঙ্গে দেশ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞান বাড়াতে হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘ডিজিটাল মিডিয়া এক্সিলেন্সি অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা। ডিজিটাল মিডিয়া ফোরাম আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক কবি জাফর ওয়াজেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভোরের কাগজ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রুবায়েত ফেরদৌস।

জাফর ওয়াজেদ বলেন, করোনার সময় ডিজিটাল জগতে অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দিল, পত্রিকার মাধ্যমে করোনা ছড়ায়। ফলে অনেকে বাসা-বাড়িতে পত্রিকা রাখা বন্ধ করে দেয়। সেই থেকে বাড়িতে পত্রিকা রাখা বন্ধ হয়ে গেল। পত্রিকার উপর একটি ধস নামল। পাঠক পত্রিকাবিমুখ হয়ে গেল। তারপর পাঠক অনলাইনমুখী হলো। দৈনিক পত্রিকাগুলোর অনলাইন পাঠক বেড়ে গেল। এর ফলে জ্ঞান অর্জনের তৃষ্ণা ও দক্ষতা কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যার যেটা দরকার অনলাইনে সেটাই পড়ে। অন্যদিকে এখন পত্রিকা ও অনলাইনে অনেক প্রবন্ধ ছাপা হয়, কলাম চাপা হয়। আগে পত্রিকার কলাম লিখতেন পত্রিকার স্টাফরা। এখন কলাম লিখেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যরা। প্রায় প্রতি সপ্তাহে তাদের একধিক কলাম দেখি। এখন কলামিস্ট বলতে উপচার্যকে বুঝি। তার উপচার্যের পদ থেকে সরে গেলে তার আর কলাম দেখি না। সেগুলো না হয় কলাম, না হয় প্রবন্ধ, না হয় একাডেমিক লেখা। লেখার মধ্যেও কারিশমা থাকে না। ফলে আগামীতে পত্রিকার উপসম্পাদকীয় লেখার মতো লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।

সাংবাদিকদের যোগ্যতা নির্ধারণ বিষয়ে চলমান বির্তকের বিষয়ে তিনি বলেন, ৫০, ৬০, ৭০ দশকে রাজনৈতিক কর্মীরাই সাংবাদিকতায় আসতেন। তাদের আইকিউ ও দক্ষতা ভালো ছিল। পড়াশোনার অভ্যাস ছিল। জ্ঞান অর্জন করতেন। এখন অধিকাংশ সাংবাদিক অনেক কিছু বুঝে না। কিন্তু এখন যারা সাংবাদিকতা করছেন তারা ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা রাখেন না।

তিনি আরো বলেন, তথ্য প্রযুক্তির যুগে অনেক কিছু পরিবর্তন হবে। সাংবাদিকতায়ও এই পরিবর্তনের ঢেউ লাগছে। তা মেনে নিতে হবে। ডিজিটাল করতে হবে। তবে নিজের ভাষা, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতার নৈতিকতা রক্ষা করেই এগোতো হবে। পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে। মন যেন ছোট না হয়, সেদিকেই নজর তরুণদের নজর দিতে হবে।

শ্যামল দত্ত বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার করে অন্তত চারটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটেছে। পূজামণ্ডপে কুরআন শরীফ রেখে ফেসবুকে লাইভ করে, সারাদেশে মন্দির ভেঙেছে। ডিজিটাল মিডিয়ার কারণেও বিভিন্ন অপতথ্য ছড়ানো হয়। গুজব রটানো হয়।

তরুণ সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করার অহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল সাংবাদিকতা ভিউনির্ভর হয়ে গেছে। এর উপর নির্ভর করে সাংবাদিকতা দাঁড়িয়ে গেলে দায়িত্বজ্ঞানহীন সাংবাদিকতা বাড়বে। তাই ডিজিটাল সাংবাদিকতায় এথিক্যাল জার্নালিজম (সাংবাদিকতার নৈতিকতা) ও কোয়ালিটি জার্নালিজমের (মানসম্পন্ন সাংবাদিকতা) ওপর জোর দিতে হবে। সেই সঙ্গে নিজের দেশ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে হবে।

বক্তব্যের শুরুতে রুবায়েত ফেরদৌস বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পুরস্কার অর্জনের জন্য ভোরের কাগজকে অভিনন্দন জানান। ডিজিটাল মিডিয়া বিষয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল মিডিয়ায় সব তুষ; চাল পাওয়া যায় না। অর্থাৎ অসত্য তথ্য, গুজব, ভুয়া তথ্যে ভরপুর। তাই ডিজিটাল মিডিয়াকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। সঠিক তথ্য দিতে হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App