×

শেষের পাতা

সংস্কৃতি খাতে বাজেটের ১% বরাদ্দ চায় উদীচী

Icon

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সংস্কৃতি খাতে বাজেটের ১% বরাদ্দ চায় উদীচী

কাগজ প্রতিবেদক : সংস্কৃতি খাতে জাতীয় বাজেটের ন্যূনতম ১ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। ‘জাতীয় বাজেট : সংস্কৃতি খাতে এক শতাংশ বরাদ্দের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।

গত শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান। উপস্থিত ছিলেন মামুনুর রশিদ, মফিদুল হক, ম. হামিদ, এম এম আকাশ, ডা. ফওজিয়া মোসলেম, ডা. লেলিন চৌধুরীসহ বরেণ্য সংস্কৃতিজন এবং সংগঠকরা। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন উদীচীর সহসভাপতি মাহমুদ সেলিম।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, জাতীয় জীবনে সংস্কৃতি চেতনা দুর্বল হলে অপসংস্কৃতির বিস্তার ঘটে। সংস্কৃতির যে মানবীয় রূপ তা ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকে এবং কেবল মুষ্টিমেয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিনোদনের উপকরণে পর্যবসিত হয়। সা¤প্রদায়িক ভেদচিন্তা ক্রমান্বয়ে মানবিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটিয়ে চলছে, সমাজ ও রাষ্ট্রে নেতিবাচক প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। একদিকে উন্নয়নের নামে লুটপাট বাণিজ্য, অর্থ পাচার; অন্যদিকে পুঁজিবাদী অর্থনীতির গর্ভজাত ভোগবাদ, যৌনতা, সা¤প্রদায়িক সন্ত্রাস, মৌলবাদী গোষ্ঠীর তাণ্ডব জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এর বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক গণজাগরণ এখন সময়ের প্রয়োজন। যাকে কেন্দ্র করেই উৎসারিত হবে নবীন চিত্রকলা, সংগীত, নাটক, কাব্য। কিন্তু তার জন্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং সদিচ্ছাও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। অর্থনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টিতে বিগত কয়েক বছর ধরে দাবি উঠছে সংস্কৃতি খাতে জাতীয় বাজেটের ন্যূনতম ১ শতাংশ বরাদ্দ দেয়ার। কিন্তু তা শূন্য দশমিক শূন্য ৯ থেকে শূন্য দশমিক ১৬ ভাগের উপরে ওঠেনি কোনোভাবে।

মূল প্রবন্ধে আরো বলা হয়, আমরা যদি সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধনে ব্যর্থ হই তাহলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যতই হোক না কেন তা একসময় বালির বাঁধের মতো ভেঙে পড়বে। সুতরাং সবার আগে এই খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নিতে হবে। বর্তমানে এই খাতে যে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয় তা উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ আর শিল্পকলা একাডেমিকেন্দ্রিক শহুরে মানুষের চিত্তবিনোদনের কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়নে শেষ হয়ে যায়। তা গ্রামীণ জনপদের মানুষ বা শ্রমজীবী মানুষের সংস্কৃতি বিকাশে কণামাত্র অর্থও অবশিষ্ট থাকে না। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ ভূখণ্ডের সংস্কৃতি বিনির্মাণে, বিশেষ করে আমাদের লোক ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি নির্মাণে গ্রামীণ জনপদের মানুষের ভূমিকাই অগ্রগণ্য। শুধু তাই নয়, সংস্কৃতি এবং সংস্কৃতিকর্মীরাই রাষ্ট্রের বহুমাত্রিক সংকটে গণমানুষের মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি করে থাকেন। প্রেরণা জোগান ঘুরে দাঁড়াতে। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ আমাদের গণসংগ্রামগুলো তারই

সাক্ষ্য বহন করে থাকে। এই সংস্কৃতিকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কৃতিখাতে জাতীয় বাজেটের ন্যূনতম এক শতাংশ বরাদ্দ দেয়ার যৌক্তিক দাবি করে আসছে। তাদের সেই দাবি বারবার উপেক্ষা করা হচ্ছে, যা আমাদের বাজেট ভাবনা এবং দর্শনের সীমাবদ্ধতা ছাড়া আর কিছু নয়।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রতি বছর জাতীয় বাজেটের আকার বাড়ছে, কিন্তু সংস্কৃতির কাঠামো-পরিকাঠামো বাড়ছে না। মহান মুক্তিযুদ্ধের মৌল চেতনা ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও সমাজতন্ত্র অভিমুখী আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের যে স্বপ্নকল্প তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাজেট প্রণীত হচ্ছে না। যতটুকু যা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে তা অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। সেখানে চলছে অবাধ লুটপাট এবং নির্ধারিত সময়ে কাজটি সম্পন্ন না করতে পারায় প্রাক্কলন ব্যয় বাড়ছে।

তারা আরো বলেন, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সংস্কৃতিকর্মীরা সম্মুখ সারিতে ছিলেন। কিন্তু, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর রাজনৈতিক ব্যক্তিরা চলে গেলেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে আর সংস্কৃতিকর্মীরা পড়ে থাকলেন রাজপথে। সংস্কৃতি বাজেট যারা করেন তারা সংস্কৃতি বোঝেন কি না সেই প্রশ্ন তুলে বলেন, ধর্মীয় মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেয়ার মাশুল দিতে হবে রাষ্ট্রকে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে সংস্কৃতি খাতে বাজেট বরাদ্দেরও দাবি জানান বক্তারা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App