×

শেষের পাতা

দোকানপাট ও বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর লুটপাট

রূপগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

Icon

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রূপগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের  দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলি-ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ সংঘর্ষে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকা থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে আনা হয়। সংঘর্ষে পথচারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। অন্তত ২০টি দোকান ও ১৫টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় হামলাকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় হৃদয় খাঁন (২৫) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় উপজেলার তারাব বাজার এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারাব পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তারাব বাজার এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধের সঙ্গে দুটি কিশোর গ্যাং জড়িত। একটির নেতৃত্বে তারাব উত্তরপাড়া এলাকার বকুল ভূঁইয়ার ছেলে শিমুল ভূঁইয়া। অপরটির নেতৃত্বে রোবেল মিয়া, শ্রাবণ ওরফে কুত্তা শ্রাবণ ও আকবর বাদশা। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে শিমুলকে মারধর করে রোবেল মিয়া, শ্রাবণ ও আকবর বাদশা গ্রুপ। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে চনপাড়া পুুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকা থেকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে দুই গ্রুপের সদস্যরা রামদা, চাপাতি, পিস্তলসহ নানা ধরনের অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে রাত ১০টার দিকে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ফাঁকা গুলি বর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা রাস্তায় টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংঘর্ষে পথচারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কহিনুর বেগম ও বাদল মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উভয় গ্রুপের সন্ত্রাসীরা তারাব বাজারে আব্দুল সাত্তারের দোকানে হামলা চালিয়ে ফ্রিজ ভাঙচুর ও মালামাল লুট করে। পান ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদের পান, আমিনুল ইসলামের মালিকানাধীন সাদিয়া ট্রেডার্স থেকে টিন ও টাকা এবং রফিক মিয়ার দোকান থেকে ফল লুট করা হয়। মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী রাসেল মিয়ার গলায় ছুরি ধরে ১০টি মোবাইল ফোন লুট করে। এছাড়া কোরবান আলী, শাওন মিয়ার দোকান থেকে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীরা কবির ভূঁইয়া, হাজী তোফাজ্জল হোসেন, তামিম মিয়া, হাশেম ভূঁইয়া, শামিম প্রধান, সুরুজ প্রধান, তাবেল, হাবু ভূঁইয়ার ঘরে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে লুটপাট চালায়। সাপ্তাহিক রূপকণ্ঠ পত্রিকা অফিস ভবনের গøাসও ভাঙচুর করা হয়।

খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৮ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়া হয়। উভয় গ্রুপের হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশেরও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রায় ২ ঘণ্টা পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও নিরীহ মানুষ। হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অপহরণ, জমি দখল থেকে শুরু করে তারা নানা ধরনের অপরাধ ঘটিয়ে আসছে। এসব গ্রুপের সদস্যদের পুলিশ মামলা দিয়ে আদালতে পাঠালেও জামিনে বের হয়ে এসে ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে হামলার শিকার হচ্ছে। তাই অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে সাহস করে না কেউ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সামনে আরো ভয়াবহ ঘটনা ঘটাবে।

রূপগঞ্জ থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ হৃদয় খাঁন নামের একজনকে আটক করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)সহ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App