×

শেষের পাতা

মাছ সুনামগঞ্জে হাওরের ১২ স্থানে কাটা হলো বাঁধ

পানি স্বল্পতায় ডিম ছাড়তে পারছে না

Icon

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, সুনামগঞ্জ থেকে : হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার হাওরে এ সময়ে পানিতে টইটুম্বুর থাকার কথা। কিন্তু হাওরে পানি স্বল্পতায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ নানা জলজ জীববৈচিত্র্য পড়েছে হুমকির মুখে। তাই হাওরের ১২টি স্থানে ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর, ধর্মপাশাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে হাওরে পানি প্রবেশ করানো শুরু হয়েছে। এর আগে জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাওরের সøুইস গেট খুলে দেয়া হয়েছিল।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশ্মীর রেজা বলেন, এ সময় হাওরে পানিতে টইটুম্বুর করার কথা থাকলেও হাওর এখনো পানিশূন্য। ফলে ডিম ছাড়তে পারছে না মাছ এতে করে মাছের বংশবৃদ্ধি ও হাওরের নানা প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য পড়েছে হুমকির মুখে। হাওরে মাছের বংশবৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আরো আগেই ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে হাওরে পানি প্রবেশ করানো প্রয়োজন ছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, গত তিন দিন ধরে পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের প্রধান নদী সুরমাসহ অন্যান্য উপজেলার ছোট-বড় নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি।

গতকাল শুক্রবার সকালে সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি বলেন, নদীতে পানি বাড়লেও অধিকাংশ হাওর এখনো রয়েছে পানিশূন্য। এ কারণে কাবিটা মনিটরিং কমিটির বৈঠকে হাওরের নির্দিষ্ট পয়েন্টে ফসলরক্ষা বাঁধ কাটার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন বাঁধ কেটে হাওরে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে। এতে করে হাওরের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নানা প্রকার জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্যও উপকার হবে।

সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রনজিত চন্দ্র সরকার বলেন, এ পর্যন্ত জেলার ১২টি পয়েন্টে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে হাওরের জীববৈচিত্র্যের রক্ষা ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ বন্যার ঝুঁকিও কমবে। কেননা হাওরে পানি প্রবেশ করলে নদীর পানির চাপ কমবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App