×

শেষের পাতা

দুর্যোগকালের সমন্বয়হীনতা ঘোচাতে চায় ডিএমপি

Icon

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্যোগকালের সমন্বয়হীনতা ঘোচাতে চায় ডিএমপি

কাগজ প্রতিবেদক : অগ্নিকাণ্ডসহ যে কোনো মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রায়ই দেখা দেয় সমন্বয়হীনতা। বিশেষ করে এই সময়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখা ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, আনসার-ভিডিপিসহ সংশ্লিষ্ট কেউই সমন্বিতভাবে নিজেদের কাজটি করতে পারেন না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দু-একটি সংস্থা জানেই না উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের দায়িত্ব কী। ফলে উৎসুক জনতার পাশাপাশি ওই সব বাহিনীর সদস্যরা অতিরিক্ত ভিড় করে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। আবার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে ওয়াসা, তিতাস ও ডেসকোর মতো প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় দুর্বল হওয়ায় দুর্যোগকালীন সময়ে কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। এতে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। দুর্যোগ পূর্বকালীন সময়েও সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও সিটি করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় না থাকায় চিহ্নিত হওয়ার পরও বছরের পর বছর টিকে থাকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন।

এই সমন্বয়হীনতা দূর করে অগ্নিকাণ্ডসহ যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এজন্য একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রসিডিউর (এসওপি)’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। এই এসওপি দুর্যোগসংশ্লিষ্ট সব

সংস্থাকে এক ছাতার নিচে রাখবে। এতে করে দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগপরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্টদের কাজ আরো সহজ হবে। গতকাল বুধবার ডিএমপি সদরদপ্তরে আয়োজিত ‘অগ্নিনির্বাপনসহ দুর্যোগকালীন সংযোগ মোকাবিলা, প্রস্তুতি ও দুর্যোগ পূর্ববর্তী সচেতনতা’বিষয়ক কর্মশালায় এসওপি গঠনের প্রস্তাব তোলা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (শিক্ষা) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহবুবা নাসরীন। মূল প্রবন্ধে তিনি বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্যোগের কারণ ও তা মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেন।

কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) ড. খ মহিদ উদ্দিন, অতিরিক্ত কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) আশরাফুজ্জামান, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান, রাজউকের পরিচালক সাইফুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ারুল হক, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিনসহ আনসার-ভিডিপি, রিহ্যাব, জেলা প্রশাসন, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি, ডেসকো, ডিপিডিসি, দুই সিটি করপোরেশন, স্থাপত্য অধিদপ্তর, বিজিএমইএ, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মতো সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা। এ সময় তারা নিজেদের সীমাবদ্ধতা, দুর্যোগ মোকাবিলার সময় সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় সম্পর্কে মতামত দেন।

বক্তারা বলেন, দুর্ঘটনা ঘটার পর একের পর এক অনিয়ম বেরিয়ে আসে। একে অপরের ওপর দায় চাপানো হয়। অথচ ভবন নির্মাণের শুরু থেকেই যদি বিল্ডিং কোড অনুযায়ী সব কিছু করা হয়- তাহলে ঝুঁকি অনেকটা কমে আসবে। এক্ষেত্রে ভবনের স্থপতিকেও আইনের আওতায় আনার বিধান করতে হবে। কেননা স্থপতি নিজে এই দায় কোনোভাবেই এড়াতে পাড়েন না। যদিও ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরের মালিকানা হাতবদল হওয়ায় সেটি বাস্তবায়ন করা বেশ কষ্টসাধ্য হবে। আধুনিক সরঞ্জাম বৃদ্ধিসহ ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। পাশাপাশি রাজউকের বিধিতে ১০ তলা হলে বহুতল ভবন আবার ফায়ার সার্ভিসের বিধিতে ৭ তলা হলেই বহুতল ভবন- এই যে অমিল সেটি দ্রুতই সমাধান করা হবে বলে রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়, অগ্নিনির্বাপনের এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবকদের খুঁজে পাওয়া যায় না। ফায়ার সার্ভিস এই স্বেচ্ছাসেবকদের আরো ত্বরান্বিত করে কোন এলাকায় কে কে স্বেচ্ছাসেবী সেই তালিকা দিলে কাজ আরো সহজ হবে। অগ্নিনির্বাপনে দেরিতে যাওয়ার অভিযোগে প্রায়ই ফায়ার সার্ভিসের ওপর হামলা হয়। ফায়ার সার্ভিস চাইলে অগ্নিনির্বাপনে যাওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের পেট্রোল টিম ফায়ারের গাড়ির নিরাপত্তা দেবে বলেও আশ্বাস দেয়া হয়। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট থানায় তিতাস, ওয়াসা, ডেসকো ও পানির উৎস সম্পর্কে আপডেট তথ্য রাখা হবে বলে জানায় ডিএমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। কারণ আমাদের দেশে আইন অমান্য করার প্রবণতা মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। আইন অমান্য করে পার পেলে হিরোইজম মনোভাব কাজ করে। এই সংস্কৃতি থেকে বের হতে মানুষকে বুঝতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। কমিশনার বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় পুলিশসহ যেসব সংস্থা কাজ করে তাদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক ঢিলেঢালা। এজন্য একটি কমিটি হওয়া প্রয়োজন। যে কমিটি ঢাকাকে নিরাপদ করতে, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেনে-বুঝে সব সিদ্ধান্ত নেবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App