×

শেষের পাতা

সিলেটের নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

টানা বৃষ্টি ও ঢলে ৩ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুর্ভোগ চরমে

Icon

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

টানা বৃষ্টি ও ঢলে ৩ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুর্ভোগ চরমে

সিলেট অফিস : গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু কিছু নদনদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে তিনটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে আগামী তিন দিন সিলেটে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আর বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা।

পাউবোর তথ্য মতে, সিলেটে গত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এছাড়া ভারতের মেঘালয়ে টানা বৃষ্টির ফলে উজান থেকে সিলেটে পানি আসছে। এতে সিলেটের নদনদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল বুধবার জেলার তিনটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

বুধবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি ১৩ দশমিক ৮৪ মিটারে অবস্থান করছিল, যা বিপৎসীমার ১ দশমিক ০৯ মিটার উপরে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে পানি ১৬ দশমিক ১২ মিটারে অবস্থান করছিল, যা বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৭২ মিটার উপরে। একইভাবে গোয়াইনঘাটের সারি নদীতে পানি ১৩ দশমিক ১৮ মিটারে অবস্থান করছিল। এ নদীর পানি এখন বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৮৩ মিটার উপরে আছে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদী ছাড়াও জেলার লোভা, ডাউকি, সারি-গোয়াইন, ধলাইসহ সব কটি নদনদীর পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আর পানি বৃদ্ধির ফলে সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুরের নিজপাট, জৈন্তাপুর ও চারিকাটা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উপজেলার নিজপাট লামাপড়া, বন্দরহাটি, ময়নাহাটি, জাঙ্গালহাটি, বড়খেল, মেঘলী, তিলকৈপাড়া, ফুলবাড়ী, নয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, গোয়াবাড়ী, ডিবির হাওর, ঘিলাতৈল, বিরাইমারা হাওর, খারুবিল, লমানীগ্রাম, কাটাখাল, বাউরভাগ, চাতলারপাড়, ডুলটিরপাড়, ল²ীপুর, আমবাড়ী, ঝিঙ্গাবাড়ী, কাঠালবাড়ী, নলজুরী, কেন্দ্রী, থুবাং, কালিঞ্জি, লালা, তুমইর ও বাওন হাওরসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

একইভাবে সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটের পিয়াইন নদী ও ধলাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন হাওরে পানি প্রবেশ করায় অনেক গ্রামীণ সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে জাফলং-রাধানগর সড়ক ও গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়ক অন্যতম। এছাড়া বিছনাকান্দি ইউনিয়নের ঝারিখাল কান্দি, দমদমা, পাতনিকোনা, বগাইয়া হাওর, হাদারবিল গ্রামের নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পানি দ্রুত বাড়ছে। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু গ্রামের বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি সড়কও ডুবেছে। ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে কিছু মানুষ এসে উঠেছেন। অব্যাহত বৃষ্টিপাত থাকায় পাহাড়ি ও টিলা এলাকার পাদদেশে বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে উপজেলা প্রশাসন অনুরোধ জানাচ্ছে।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালিক রুমাইয়া বলেন, পাহাড়ি ঢল টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। আমরা বন্যার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং নিম্নাঞ্চলের জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে গবাদিপশু সরিয়ে আনতে বলা হয়েছে। এছাড়া জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। বন্যা মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া সব নদী পথে যাতায়াতকারীদের সতর্কভাবে চলাচলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, মূলত উজান থেকে নেমে

আসা ঢলের কারণে আমাদের নদনদীর পানি বৃদ্ধি পায়। ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বৃষ্টিও ছিল। তাছাড়া প্রাক-বর্ষাকালে বৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। আর বৃষ্টি হলে নদনদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়াটাও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমের হিসেবে সিলেটে নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে আছে। এই পানি আরেকটু বৃদ্ধি পাবে, তারপর নেমে যাবে। তবুও আমাদের বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।

বুধবার সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসেন বলেন, আগামী তিন দিন সিলেটে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App