×

শেষের পাতা

ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁঁকিতে ১৮ ওয়ার্ড

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁঁকিতে ১৮ ওয়ার্ড
  • দক্ষিণের ১৩ ও উত্তরের ১২ নম্বর ওয়ার্ড বেশি  ঝুঁকিতে  

মৌসুম শুরুর আগেই চোখ রাঙাচ্ছিল ডেঙ্গু। অন্য যে কোনো বছরের তুলনায় চলতি বছর পাঁচ মাসে (জানুয়ারি থেকে মে মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী এবং এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা অনেক। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মৌসুম পরবর্তী ও মৌসুম পূর্ব এডিস জরিপ-২০২৪ এর তথ্য বলছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মৌসুমপূর্ব জরিপে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনেই এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি বেড়েছে।

ঢাকার দুই সিটির ৯৯টি ওয়ার্ডের ৩ হাজার ১৪৯টি বাসায় জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, ১৫ শতাংশ বাড়িতে এডিসের লার্ভা ও পিউপারের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মিরপুর, বনানী, নিকেতন, হাতিরঝিল, মোহাম্মদপুর, খিলক্ষেত, মালিবাগসহ গতবারের ঝুঁঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোই সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এডিসের ঘনত্ব সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৩৩ শতাংশ পাওয়া গেছে বহুতল ভবনে। এরপরই স্বতন্ত্রবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনে লার্ভার হার ২১ দশমিক ৬ শতাংশ।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য ভবনের সভা কক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার আওতাধীন জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অধীনে গত ১৭ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত চালানো হয় প্রাক-বর্ষা জরিপ। জরিপের তথ্য উপস্থাপন করেন অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ দাউদ আদনান।

উচ্চ ঝুঁকিতে যে ১৮ ওয়ার্ড : জরিপের তথ্য বলছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে ১২ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে এডিসের ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে ৪৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ১৩ নম্বর ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড, এগুলোতে ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে ৪০ শতাংশ। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ৩১ নম্বর ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ৩০ শতাংশ, ১৭ নম্বর ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে।

আর ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে ঢাকার সবচেয়ে বেশি ৭৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৪৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ৫২ নম্বর ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে। এছাড়াও ৩ নম্বর, ৫ নম্বর, ১৫ নম্বর, ১৭ নম্বর এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৩০ শতাংশ ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, অধিদপ্তরের এম আই এসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহাদাত হোসেন, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ডা. এম এম আক্তারুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, সারাদেশের ঘরে ঘরে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। এই রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। রোগীর লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে রোগটি যেন না হয়।

অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম বলেন, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় পৌনে ৩ হাজার মানুষ। এ সময়ে রোগটিতে মৃত্যু হয় ৩৪ জনের। যেখানে গত বছরের ২৭ মে পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছিল ১ হাজার ৭০৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১৩ জনের। এই পরিসংখ্যানই বলছে, এবারের ডেঙ্গু কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেকেই মনে করেন ঢাকায় ভালো চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব। তাই জেলা বা উপজেলা হাসপাতাল থেকে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন। দীর্ঘ যাত্রাপথে শরীরে জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং পথেই মৃত্যুবরণ করেন।

অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, দেশের প্রতিটি হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপনের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। জানিয়েছি প্রতিটি হাসপাতালে যাতে ডেঙ্গু কর্নার আলাদা করে রাখা হয়। সেই ডেঙ্গু কর্নারে টিমও গঠন করে দেয়া হয়েছে, যেখানে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি ও পেডিয়াট্রিকস বিভাগের ডাক্তার একটি টিমে কাজ করবে। বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি ও মৃত্যুর হার বেশি থাকে। তাই এদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা যাতে সমন্বিতভাবে সেবা দিতে পারে সেজন্যই টিম করে দেয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু রোগীর সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা করা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, টেস্টের লাইভ ডেটা সংগ্রহ করা হবে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ল্যাবের তথ্য সরাসরি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আসবে। মোবাইলে ম্যাসেজের মাধ্যমে পজেটিভ বা নেগেটিভের তথ্য দেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপের সূচক ‘ব্রুটো ইনডেক্স’ নামে পরিচিত। স্বীকৃত এই মানদণ্ডে লার্ভার ঘনত্ব ২০ শতাংশের বেশি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে মনে করা হয়। দুই সিটির ৯৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টিতে ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি। এর অর্থ হচ্ছে, এসব এলাকার ১০০টির মধ্যে ২০টির বেশি পাত্রে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এই এলাকাগুলো ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি প্রতি বছর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মৌসুমপূর্ব, মৌসুম, মৌসুমপরবর্তী তিনটি জরিপ পরিচালনা করে আসছে। তারই অংশ হিসেবে অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার কীটতত্ত্ববিদদের ২১টি টিমের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App