×

শেষের পাতা

প্রমাণ দিন মানবাধিকারের প্রতি আপনাদের অঙ্গীকার আছে

‘অনগ্রসর, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকের তথ্য অধিকার’ বিষয়ক কর্মশালায় ডয়চে ভেলের উদ্দেশে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

Icon

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রমাণ দিন মানবাধিকারের প্রতি  আপনাদের অঙ্গীকার আছে

কাগজ প্রতিবেদক : গাজায় গণহত্যা নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও প্রচারের মাধ্যমে ডয়চে ভেলেকে মানবাধিকারের প্রতি তার অঙ্গীকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রমাণের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও স¤প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। তিনি বলেন, সম্প্রতি মানবাধিকার নিয়ে ডয়চে ভেলে একটি রিপোর্ট করেছে, যেখানে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করা হয়েছে। আমি সমালোচনা করব না। মানবাধিকার নিয়ে যে কোনো সংস্থার অঙ্গীকারের আমি প্রশংসা করি। শুধু আহ্বান জানাব, ডয়চে ভেলের যদি মানবাধিকারের প্রতি এত অঙ্গীকার থাকে তার প্রমাণ তারা দিক। ফিলিস্তিনের গাজায় মানবাধিকারের যে লঙ্ঘন হচ্ছে, গণহত্যা হচ্ছে, সেটার ওপর আরেকটি প্রামাণ্যচিত্র তারা বানিয়ে দিক। একইসঙ্গে তাদের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটুকু আছে সেটাও প্রমাণ করুক। আর যদি তারা সেটা না করতে পারে তাহলে আমরা ধরে নেব- ডয়চে ভেলের প্রামাণ্যচিত্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি বিশেষ মহল বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এটি করেছে। যারা প্রকৃত অর্থে আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনের সমস্যা ও তাদের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলে না। বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে খাটো করে দেখানোর যে অপচেষ্টা- তার অংশ হচ্ছে এই প্রামাণ্যচিত্র।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তথ্য কমিশনের সম্মেলন কক্ষে ‘অনগ্রসর, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকের তথ্য অধিকার’ বিষয়ক কর্মশালায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। তথ্য কমিশন বাংলাদেশ, ইউএস এইড, দ্য কার্টার সেন্টার যৌথভাবে এ কর্মশালা আয়োজন করে।

প্রধান তথ্য কমিশনার ড. আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত, ইউএস এইডের অফিস পরিচালক অ্যালেনা তানসে, তথ্য কমিশনার শহীদুল আলম ঝিনুক ও মাসুদা ভাট্টি, দ্য কার্টার সেন্টারের চিফ অব পার্টি সুমনা সুলতানা মাহমুদা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরিন। কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন তথ্য কমিশনের সচিব জুবাইদা নাসরীন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার অবিশ্বাস্য। তার শক্ত নেতৃত্বে বিশ্বমঞ্চে আমাদের অবস্থান যখন বদলানোর চেষ্টা করছি, তখন এক ধরনের আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ষড়যন্ত্র আমরা লক্ষ্য করি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের হতদরিদ্র মানুষের জন্য, বিশেষ করে ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প করে তাদের আশ্রয়ণের ব্যবস্থা করেছেন। তাদের মানবাধিকারের ব্যবস্থা করেছেন। ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার থাকবে। এজন্যই তথ্য অধিকার আইন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন পাস হয়। এ আইন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সুশাসন ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার প্রমাণ করে। এ আইনের দুটি পক্ষ আছে। একটি পক্ষ হচ্ছে যারা তথ্য দেবেন, আরেকটি পক্ষ হচ্ছে যারা তথ্য নেবেন। তথ্য কমিশন দুপক্ষকেই তথ্য অধিকার আইনের বিষয়টি বোঝাতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। যারা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছেন তাদের একটা জিনিস বুঝতে হবে যে, তথ্যের মালিক জনগণ। জনগণের তথ্য চাওয়ার অধিকার এ আইনে নিশ্চিত করেছে। জনগণের পক্ষ থেকে যদি গণমাধ্যম তথ্য চায়, সেই তথ্য দিতে হবে। যারা তথ্য দেবেন তাদের এ বোধের জায়গাটা তৈরি হওয়া দরকার। একইসঙ্গে যারা তথ্য নেবেন তারা অনেক সময় এ তথ্যের যথাযথ ব্যবহার করে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য অধিকার হচ্ছে মানবাধিকার। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে এ সমাজে এটি আমরা নিশ্চিত করতে চাই। কারণ এই সমাজ যত জবাবদিহিমূলক হবে, স্বচ্ছ হবে, আমরা তত এগিয়ে যাব। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ছাড়া স্মার্ট সমাজ অসম্ভব, টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব।

পরে প্রতিমন্ত্রী তথ্য কমিশনের তথ্য অধিকার নিউজ লেটার-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App