×

শেষের পাতা

পুরোদমে সচল হলো চট্টগ্রাম বন্দর

Icon

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাব কেটে যাবার পর চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজে পণ্য ওঠানামা শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে জেটিতে জাহাজ ভেড়ার পরপর পণ্য ওঠানামার কাজ শুরু হয়। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত বহির্নোঙর থেকে ১৩টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটি জেটিতে ভেড়ানো হয়। তবে ভেড়ানোর সময় কার্গো পণ্যবাহী একটি জাহাজ কর্ণফুলী নদীতে বয়ার সঙ্গে আটকে যায়।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাব কাটলেও এখনো সাগর উত্তাল। বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলী নদীতে প্রচণ্ড ঢেউয়ের কারণে গত সোমবার প্রস্তুতি নেয়ার পরও জাহাজগুলোকে জেটিতে আনা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সকালে ১৯টি জাহাজের মধ্যে ১৩টি জাহাজ বন্দরের জেটিতে ভিড়ে। এখন পণ্য ওঠানামার কাজ শুরু হয়েছে। জোয়ারের ওপর নির্ভর করে বাকি ৬টি জাহাজ বহির্নোঙর থেকে নিয়ে আসা হবে। পণ্য খালাস বন্ধ করে গভীর সাগরে ফেরত পাঠানো ৪৯টি খোলা পণ্যবাহী জাহাজও বহির্নোঙরে ফিরতে শুরু করেছে। এর আগে গত শনিবার রাতে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বন্দরকে ৬ নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে বলার পর চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা ‘অ্যালার্ট-৩’ জারি করা হয়। এ সতর্কতা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামা ও খালাসের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে রবিবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখাতে বলার পর চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা ‘অ্যালার্ট-৪’ জারি করা হয়। ঘূর্ণিঝড় রেমালের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে গত রবিবার সকালে জোয়ারের সময় বন্দরের জেটি থেকে ১৯টি জাহাজ সাগরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। তাতে বন্দর জেটি ফাঁকা হয়ে যায়। বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানো-নামানো ও বন্দর চত্বর থেকে পণ্য খালাসের মতো সব কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর গত সোমবার ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাব কমে আসায় চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ফেরত আনার উদ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় পাইলটরা গিয়েও বহির্নোঙর থেকে জাহাজ আনতে পারেননি। জাহাজ আসতে না পারলেও দুপুরে ইয়ার্ডে অপারেশন আংশিকভাবে শুরু হয়েছিল। জেটিতে কোনো জাহাজ না থাকায় পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ বন্ধ ছিল। তবে মঙ্গলবার থেকে জাহাজগুলো ভেড়ানো শুরু করতেই বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমও পুরোদমে চালু হতে শুরু করে। স্বাভাবিক হয় আমদানি পণ্য ও কনটেইনার ডেলিভারি কার্যক্রমও।

অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতের আশঙ্কায় টানা ১৭ ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা চালুর দিনও সোমবার ৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তসলিম আহমেদ। তিনি জানান, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২টি, ইউএস বাংলার ৫টি, এয়ার অ্যাস্ট্রা ও নভোএয়ারের ১টি। আবহাওয়া অধিদপ্তর ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেত জারির পর রবিবার দুপুর ১২টা থেকে সব ধরনের ফ্লাইট অপারেশনসহ বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবার ভোর ৫টা থেকে পুনরায় যাত্রীসেবাসহ রানওয়ের কার্যক্রম শুরু হয় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App