×

শেষের পাতা

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ‘জাতীয় কৌশল পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের তাগিদ

Icon

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ‘জাতীয় কৌশল পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের তাগিদ

কাগজ প্রতিবেদক : দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। আক্রান্তের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সরকারের করা ‘জাতীয় কৌশল পরিকল্পনা’ অনুযায়ী সব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ‘ম্যানেজমেন্ট অব এডিস মসকুইটো : হলিস্টিক পাবলিক হেলথ অ্যাপ্রোচ’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এমনটাই মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গতকাল রবিবার জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) এই সেমিনারের আয়োজন করে। প্রতিষ্ঠানের অডিটরিয়ামে সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিপসমের অ্যান্টোমোলোজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ছারোয়ার। প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গিয়াসউদ্দীন মিয়া। বক্তব্য রাখেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি অনুপমা হাজারিকা, নিপসমের রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ডা. জিয়াউল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক তানজিন আখতার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. শেখ দাউদ আদনান ও বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন প্রধান প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সব ধরনের পদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। জাতীয় কৌশল পরিকল্পনা অনুযায়ী সব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের এই সংকট মোকাবিলা সহজ হবে। একই সঙ্গে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। লার্ভিসাইড এবং অ্যাডাল্টিসাইডের যৌক্তিক প্রয়োগ গুরুত্ব সহকারে নিশ্চিত করতে হবে। ড্রাগনফ্লাই নিম্ফ, ব্যাঙ ইত্যাদির মতো মশার শত্রæদের সংরক্ষণ করতে হবে। ভেক্টর, এজেন্টের ওপর গবেষণা পরিচালনা করার জন্য উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন পরীক্ষাগার স্থাপন করতে হবে। এডিস মশা নিয়ে সামগ্রিক গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ থাকতে হবে।

অধ্যাপক ড. মো. গিয়াসউদ্দীন মিয়া বলেন, মশা জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে দায়ী জিনকে ধ্বংস করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে। এ বিষয়ে উচ্চতর গবেষণাগার প্রয়োজন।

ড. নজরুল ইসলাম বলেন, মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করে মশার ঘনত্ব সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে। এতে সচেতনতার বিকল্প নেই। অনুপমা হাজারিকা বলেন, এডিস ইজিপ্টাস কোথায় থাকে, আমরা জানি। কিন্তু এডিস অ্যালবোপিকটাস সম্পর্কে আরো পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার।

অনুষ্ঠানে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো- মানুষের সচেতনতা বাড়াতে জনস্বাস্থ্যকেন্দ্রিক পন্থা ব্যবহার করা; মশা নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষ, নীতিনির্ধারক, স্বাস্থ্যকর্মী, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যুক্ততা আরো বাড়ানো; অন্য দেশের সফল অভিজ্ঞতা দেশে জুতসইভাবে প্রয়োগের উদ্যোগ নিতে হবে। অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম বলেন, এডিস অ্যালবোপিকটাস বিষয়ে গবেষণা এবং এডিস মশার স্বভাব পরিবর্তনের বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের উদ্যোগ নিয়েছে নিপসম।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App