×

শেষের পাতা

এডিটরস গিল্ডের আলোচনা

‘জেনারেল আজিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক’

Icon

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ কিংবা সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ওপর দেয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের ওপর কোনো দায় চাপাতেই চাইতো তবে ক্ষমতায় থাকার সময়ই প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। গতকাল শনিবার রাজধানীর বনানীতে এডিটরস গিল্ড আয়োজিত দেশে দেশে ‘ক্ষমতার রাজনীতি’ শিরোনামে এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ এখন ভূরাজনীতির শিকার। পরাশক্তিগুলো নিজেদের ক্ষমতা, শক্তি বাড়াতে ছোট যে রাষ্ট্রগুলো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং ভৌগোলিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তাদের ওপর চাপ তৈরি করছে। আর এই চাপ তৈরিতে নিষেধাজ্ঞাকে হাতিয়ার করছে। নিষেধাজ্ঞার ধরনে বোঝা যাচ্ছে এগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক।

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে তারা বলেন, যদি সত্যিকার অর্থে যুক্তরাষ্ট্র আজিজ আহমেদের বিষয়টি গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখতো তাহলে তিনি যখন পদে ছিলেন তখন নিষেধাজ্ঞা দিত। এই নিষেধাজ্ঞা মূলত রাজনৈতিক। এখানে অন্য কিছু চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

আলোচকরা বলেন, সবাই চায় বড় শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে চলতে। তবে এখন পৃথিবী মাল্টিপোলার (বহুমুখী) হয়েছে। এখন ছোট ছোট দেশগুলোর অবস্থান ভালো হয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হতে হবে। কারণ বাংলাদেশ এখন ভূরাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলোচকরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যি সত্যি গণতন্ত্রের ধারক-বাহক হতো তবে তারা ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার প্রতিবাদ করতো এবং বন্ধের উদ্যোগ নিত। কিন্তু তারা তা না করে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের আয়ত্তে আনতে চায়। ক্ষমতার রাজনীতির কারণে সৎ থাকা যায় না। ক্ষমতাকেন্দ্র থেকে দুর্নীতি শুরু হয়। রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া আমেরিকা বা ব্রিটেন থেকে আমরা গণতন্ত্র শিখছি এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। ভারববর্ষে অনেক আগে থেকেই এটির চর্চা ছিল। এখন সারা বিশ্বেই গণতন্ত্র আর আগের মতো নেই। নষ্ট হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য এখনো সম্ভাবনা আছে নিজেদের গণতন্ত্র ঠিক রেখে বিশ্বে একটি রোল মডেল হওয়ার।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আমাদের মধ্যে অনেকের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আমাদের গণতন্ত্র তৈরি হয়েছে। কিন্তু তথ্য-প্রমাণের সঙ্গে এটি যায় না। আমাদের গণতন্ত্র পশ্চিমা রাষ্ট্রের ওপর ভিত্তি করে হয়নি। তিনি আরও বলেন, মনে রাখতে হবে ’৭১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আমাদের সঙ্গে ছিল আর আমেরিকা ছিল না। আজিজকে যা দিয়েছে তা রাজনৈতিক। কারণ যারা ফিলিস্তিনে গণহত্যা চোখে দেখে না। এরকম নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কী হবে। আর যদি দিতেই হয় তবে জারদারিকে দেয়া উচিত। ধারণা করা হচ্ছে, আজিজ বা বেনজিরের জন্য প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেল। তাহলে পশ্চিমা দেশে কোনো প্রতিষ্ঠানই দাঁড়াতো না।

এডিটরস গিল্ডের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন লেখক-গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহফুজা খানম, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খান (বীর বিক্রম), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের (এসআইপিজি) সিনিয়র ফেলো ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আব্দুর রব খান, দুদক আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান ও এনটিভির বার্তা প্রধান জহিরুল আলম।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App