×

শেষের পাতা

উপকূলে যে কোনো সময় রেমালের ছোবল

Icon

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

উপকূলে যে কোনো সময় রেমালের ছোবল

কাগজ ডেস্ক : ঘূর্ণিঝড় রেমাল উপকূলীয় এলাকার দিকে ধেয়ে আসছে। যে কোনো মুহূর্তে আছড়ে পড়বে। মানুষকে নিরাপদে আশ্রয়ে থাকার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় গতকাল শনিবার পটুয়াখালী, বাগেরহাট ও ভোলার উপকূলীয় এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ-

বরিশাল : ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়েছে। গতকাল সকালে সভায় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে মোকাবিলায় কী করতে হবে তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রসহ স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি গোটা বিভাগজুড়ে ৩ হাজার ৯৭৪টি আশ্রয়কেন্দ্র ও সাড়ে ৪ শতাধিক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। সভায় ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, র‌্যাব সদস্য, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, স্কাউটের প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে মধ্যে ৪৭০-৪৭২টির মতো মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। যারা দুর্যোগকালীন ও পরবর্তীতে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেবেন। বিভাগের হাসপাতালগুলোয় পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় ওষুধ রয়েছে। আশা করি কোনো সমস্যা সমস্যা হবে না।

বরিশালের জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম বলেছেন, দুর্যোগকালে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি চাল, শুকনা খাবার ও অর্থসহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি দপ্তরগুলো কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : নিম্নচাপের প্রভাবে কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। গভীর নিম্নচাপটি আরো

ঘনীভূত হয়ে ঘূর্নিঝড় রেমালে রূপান্তরিত হয়ে উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করতে পারে। এর মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গতকাল সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন হল রুমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুর্যোগকালীন ১৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ২০টি মুজিব কেল্লা প্রস্তুতের পাশাপাশি শিশু খাদ্য ও শুকনা খাবার মজুত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপত্বি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (্ইউএনও) রবিউল ইসলাম।

বাগেরহাট : উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল দুপুরে শুরু হয়েছে বৃষ্টিপাত। নদীতে থাকা মাছ ধরা ট্রলারগুলো উপকূলের ছোট ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে জনসচেতনামূলক প্রচার-প্রচারণা। এরই মধ্যে রেমাল মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক খালিদ হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় বাগেরহাটে ৩৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ও ৩ হাজার ৫০৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ৬৪৩ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে মোংলা বন্দরের সভাকক্ষে গতকাল বেলা ১১টায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমানের সভাপতিত্বে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস (ইপিজেড), এনএসআই, ডিজিএফআই প্রতিনিধিসহ মোংলা বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি ও জুমের মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে।

ভোলা : উপকূলীয় এলাকায় মানুষকে সচেতন করতে মাইকিং করছে কোস্ট গার্ড। গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়। কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট এইচ এম এম হারুন-অর-রশীদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় জেলার উপকূলীয় অঞ্চলে কোস্ট গার্ড মাইকিং করে জেলে ও নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষকে সচেতন করছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোয় ৩ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংকেত বেড়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এতে সংকেত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্ষয়-ক্ষতি এড়াতে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে।

ভোলা জেলা প্রশাসন গতকাল সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রস্তুতি নিয়ে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App