×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

শেষের পাতা

পানিপ্রবাহ-নাব্য কমছে কর্ণফুলী ও হালদার, বাড়ছে পানি সংকট

Icon

চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পানিপ্রবাহ-নাব্য কমছে কর্ণফুলী ও হালদার, বাড়ছে পানি সংকট

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পানি সংকট বাড়ছে। উৎসে প্রবাহ কমে যাওয়ায় পানি পরিশোধনও কমে গেছে চট্টগ্রাম ওয়াসার। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে সংস্থাটি। তবে ওয়াসা কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী মাসে চট্টগ্রাম ওয়াসার ভাল্ডালজুরি পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী নদী থেকে প্রতিদিন ৭ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হলে সংকট কিছুটা কমবে। কিন্তু ক্রমশ পানিপ্রবাহ এবং নাব্য কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামে পানির প্রধান উৎস কর্ণফুলী ও হালদা নদী রক্ষা করা সম্ভব না হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চট্টগ্রামবাসী সুপেয় পানির বিপর্যয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ওয়াসা সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্র জানায়, চট্টগ্রামবাসীর প্রতিদিনের ৫০ কোটি লিটার সুপেয় পানির যোগান দিচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসার চারটি পানি শোধনাগার। ওয়াসার এই চারটি পানি শোধনাগার প্রতিদিন হালদা এবং কর্ণফুলী থেকে মিঠা পানি পরিশোধন করে নগরীতে সরবরাহ করে। সাধারণত বছরের বর্ষা মৌসুমে কর্ণফুলী এবং হালদায় পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকায় ওয়াসা নির্বিঘ্নে পানি পরিশোধন করে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ একেবারেই কমে যায়। তখন চট্টগ্রাম ওয়াসাকে নগরবাসীর প্রতিদিনের চাহিদা মোতাবেক পানি সরবরাহে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। তবে গত এক দশক ধরে কর্ণফুলী নদীতে শুষ্ক মৌসুমের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমেও পানিপ্রবাহ ক্রমশ কমতে থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম ওয়াসার একটি বিশেষজ্ঞ টিম (ইঞ্জিনিয়ারদের সমন্বয়ে) কালুরঘাট থেকে কাপ্তাই বাঁধ পর্যন্ত নদী পথে সরজমিন পর্যবেক্ষণ করেছেন। এ সময় বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্যরা নদীর কোনো জায়গায় পানির স্তর কত সেটা পরীক্ষা করেন এবং নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার বিভিন্ন কারণ তাদের পর্যবেক্ষণে শনাক্ত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত কাপ্তাই জল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পানি নির্গমণ একেবারেই কমে যায়। যার ফলে হালদা নদীতে মিঠা পানির প্রবাহের পরিমাণ কমে যায়। এ সময় হালদায় উজানের পানির চাপ কমে যাওয়ায় কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের লবণাক্ত পানি হালদায় প্রবেশ করে। হালদা

নদীর যে পয়েন্ট থেকে ওয়াসা মোহরা প্রকল্পের পানি সংগ্রহ করা হয় সেখানে গত এপ্রিল মাসে লবণের পরিমাণ প্রতি লিটারে ১৭০০ মিলিগ্রাম ছিল। স্বাভাবিক সময়ে এই লবণের পরিমাণ থাকে প্রতি লিটারে ১০০ থেকে ৩০০ মিলিগ্রাম। একই অবস্থা মদুনাঘাটস্থ শেখ রাসেল পানি শোধনাগার প্রকল্পেরও। এভাবে পানির প্রবাহ যেমন কমতে থাকে- তেমনি বাড়তে থাকে লবণের মাত্রা। এই অবস্থা আগামীতে অব্যাহত থাকলে আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে চট্টগ্রামবাসী সুপেয় পানির বিপর্যয়ে পড়বে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ওয়াসার ইঞ্জিনিয়ারদের একটি টিম কালুরঘাট থেকে কাপ্তাই বাঁধ পর্যন্ত সরজমিন পর্যবেক্ষণ করেছি। এ সময় আমরা বিভিন্ন স্থানে নদীর নাব্য পরীক্ষা করেছি। আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, হালদা এবং কর্ণফুলী নদীতে পানিপ্রবাহ এবং নাব্য দুটোই কমে গেছে। পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত আমাদের চারটি পানি শোধনাগার প্রকল্পে পানি উৎপাদন অনেকাংশে কমে যায়। নদীতে যে গভীরতা থাকার কথা সেই গভীরতা নেই। নদীর স্বাভাবিক নাব্য নেই কোথাও। কর্ণফুলী-হালদায় পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার তিন কারণ আমরা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছি।

এ কারণগুলো হলো- নদীর নাব্য কমে যাওয়া, নির্বিচারে গাছ এবং পাহাড় কাটার ফলে পাহাড়ি মাটি নদীতে পরে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া। বিশেষ করে রাঙ্গুনিয়ার পর থেকে বিভিন্ন পাহাড়ি বনাঞ্চলে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে, পাহাড় কাটা হচ্ছে। এর ফলে পাহাড়ি কাদা-মাটি নদীতে পড়ছে। নদীর পানির মধ্যে কাদার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে একদিকে নদীর নাব্য কমে যাচ্ছে, অপরদিকে আমাদের পানি শোধনাগারে পানি পরিশোধন করার ক্ষেত্রে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের লাইফ লাইন কর্ণফুলীকে নিয়ে এখনই ভাবা দরকার। কর্ণফুলী মরে গেলে চট্টগ্রামে বিপর্যয় নেমে আসবে। হালদাও দুর্দশাগ্রস্ত। কর্ণফুলী এবং হালদাকে বাঁচানোর জন্য এখনই এগিয়ে আসা উচিত। কাপ্তাই লেক খনন করতে হবে। কর্ণফুলীর এই অংশে নিয়মিত ড্রেজিং করতে হবে। নির্বিচারে বনাঞ্চল থেকে গাছ কাটা এবং পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম ওয়াসার চারটি পানি সরবরাহ প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বড় দুটি শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার প্রকল্প-১ ও শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার প্রকল্প-২ প্রতিদিন ২৮ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করে কর্ণফুলী থেকে। অপরদিকে শেখ রাসেল পানি শোধনাগার প্রকল্পটি প্রতিদিন ৯ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করে হালদা থেকে (মদুনাঘাট)। আর মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্পে প্রতিদিন ৯ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করা হয় হালদা থেকে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App