×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

শেষের পাতা

বনের জমি না মেলায় আটকে আছে উন্মুক্ত কারাগার নির্মাণ

Icon

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 বনের জমি না মেলায় আটকে আছে উন্মুক্ত কারাগার নির্মাণ

ইমরান রহমান : কারাগার মানেই এক বিচ্ছিন্ন বন্দি জীবন- থালা বাটি কম্বলই যেন একমাত্র সম্বল। সারাদিন চার দেয়ালের সঙ্গে সখ্যতা গড়া আর দীর্ঘশ্বাসে আপনজনদের কাছে ফেরার দিন গুনাই যেন একমাত্র কাজ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে কারাগারের পরিবেশ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত কারাগারকে সংশোধনাগার করার লক্ষ্যে অনেক দূরই এগিয়েছে কার্যক্রম। কারাগারের ভেতরেই বন্দিরা পাচ্ছে উপার্জন, পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণ নেয়ার সুবিধা। কারাগারের এই উন্নতির পালে নতুন হাওয়া দিচ্ছে উন্নত বিশ্বের আদলে হতে যাওয়া উন্মুক্ত কারাগার। বন্দি কারাগার হবে উন্মুক্ত- বিষয়টি অনেকটা স্বপ্নের মতো হলেও কক্সবাজারের উখিয়াতে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে এটি। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সংসদে বলেছেন, উন্মুক্ত কারাগারের কাজ দ্রুতই শুরু হবে।

উখিয়াতে উন্মুক্ত কারাগার করতে যে জায়গা ঠিক করা হয়েছে, সেটি বন বিভাগের। কারা কর্তৃপক্ষ চাইছে, বন বিভাগের ১৬০ একর জায়গাতেই বাস্তবায়িত হবে দেশের প্রথম উন্মুক্ত কারাগার। এজন্য তারা নামমাত্র মূল্যে জমিটির মালিকানা চায়। কিন্তু বন বিভাগ সেটিতে এখনো সম্মতি দেয়নি। ফলে উন্মুক্ত কারাগারের কাজো থমকে রয়েছে। বন বিভাগ সম্মত হলে নামমাত্র এক লাখ টাকায় জমিটির মালিকানা বুঝে নেবে কারা কর্তৃপক্ষ। এরপর মালয়েশিয়ায় যাবে একটি প্রতিনিধি দল। সেখানে উন্মুক্ত কারাগার কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, বন্দিদের জন্য কি কি সুবিধা রাখা হয়েছে, সেগুলো পরিদর্শনের পর সেভাবে স্থাপনা নির্মাণ ও সুযোগ সুবিধা রাখার কাজ শুরু হবে। যদিও প্রাথমিকভাবে কারা কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা রয়েছে- উন্মুক্ত কারাগারে শুরুতে কম সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের রাখা হবে। যাতে তারা পালিয়ে না যায়। কারণ পালিয়ে গেলে পুলিশ তাদের আবার গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনলে বন্দি জীবন দীর্ঘায়িত হবে। ফলে কম সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা পালাতেও চাইবে না সহজে।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, জমি অধিগ্রহণ পর্যায়েই আটকে গেছে উন্মুক্ত কারাগার নির্মাণের উদ্যোগ। তবে কারাগারটিতে বড় বড় পুকুর থাকবে। যেখানে বন্দিদের বৈজ্ঞানিক উপায়ে মাছ চাষ শেখানো হবে। এমনকি ওই পুকুরে উৎপাদিত মাছের লভ্যাংশের ভাগও পাবেন বন্দিরা। থাকবে ডেইরি ফার্ম, পোল্ট্রি ফার্ম, অর্গানিক সবজি উৎপাদন, ফল চাষসহ নানারকম কার্যক্রম। পর্যায়ক্রমে যুক্ত হবে কুটির শিল্প, তাত, গার্মেন্টসসহ অন্যান্য কাজ করার সুযোগ। বন্দিদের পছন্দ অনুযায়ী এসব কাজ শেখার সুযোগ

দেয়া হবে। যারা ভালো করবেন তাদের কারাগারের বাইরেও কাজ করার সুযোগ দেয়া হতে পারে। যদি সেই সুযোগ দেয়াও হয়- সেটি দিনের বেলায়। রাতে আবার কারাগারে ফেরত আসতে হবে। জানা গেছে, দেশে যে ৬৮টি কারাগার রয়েছে, সেগুলোতে যেসব নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়; উন্মুক্ত কারাগারে তেমন নিয়ম থাকবে না। বন্দিরা ওই ১৬০ একর জমিতে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে।

কারা কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নত দেশের আদলে উন্মুক্ত কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনাটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের। ২০১৬ সালে মালয়েশিয়ায় কমিউনিটি রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রামের (সিআরপি) একটি কনফারেন্সে যোগ দিয়ে উন্মুক্ত কারাগার সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। পরে দেশে এসে উন্মুক্ত কারাগার করার উদ্যোগ নেন। শুরুতে ৩২৫ একর জায়গায় উখিয়াতেই উন্মুক্ত কারাগার নির্মানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বর্তমানে ১৬০ একর জায়গায় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে চায় কারা কর্তৃপক্ষ। এজন্য সব প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (সদর দপ্তর) মনির আহমেদ ভোরের কাগজকে বলেন, উন্মুক্ত কারাগার নির্মাণ প্রকল্পটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। উখিয়াতে আমরা ১৬০ একর জায়গা দেখেছি। বন বিভাগের সঙ্গে আলাপ চলছে। জমি পেয়ে গেলে আমাদের একটি প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়ায় যাবে। এরপর পরবর্তী সময়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। উন্মুক্ত কারাগার নিয়ে এর বেশি বলার তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। আমরা আশা করছি, প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

উল্লেখ্য, গত ২ মে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার সিআরপির আদলে উন্মুক্ত কারাগার নির্মাণের জন্য কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায় ১৬০ একর জমি পাওয়া গেছে। উন্মুক্ত কারাগার নির্মাণের কার্যক্রম শিগগিরই শুরু করা হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App