×

শেষের পাতা

পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী

বিশ্ববাসীকে পাহাড়-পর্বত রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

Icon

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ববাসীকে পাহাড়-পর্বত রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

কাগজ প্রতিবেদক : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, পাহাড় সুস্থ থাকলে পৃথিবী সুস্থ থাকবে, তাই পাহাড়-পর্বতকে ভালো রাখতে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গতকাল বুধবার নেপালের কাঠমান্ডুর চন্দ্রগিরি হিল রিসোর্টে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল এক্সপার্ট ডায়লগ অন মাউন্টেইন, পিপল অ্যান্ড ক্লাইমেট’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।

সাবের হোসেন চৌধুরী আরো বলেন, হিন্দুকুশ হিমালয় পর্বতমালা জলবায়ু পরিবর্তনের গ্রাউন্ড জিরো। যদি বুঝতে চান যে, পৃথিবীতে কী ঘটতে চলেছে, দেখতে হবে আজ হিমালয়ে কী ঘটছে। এটি কেবল পাহাড় নয়, সুপেয় পানির উৎস। হিমালয়ের সমস্ত হিমবাহ গলে গেলে আমরা কী করব? সুপেয় পানি না থাকলে বাংলাদেশের মানুষ বাঁচবে কী করে? তাই পাহাড় রক্ষায় বৈশ্বিক নেতৃত্বকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে।

গতকাল বুধবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল নেপালের কাঠমান্ডুতে চন্দ্রগিরি হিল রিসোর্টে এ অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী ভাষণ দেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল প্রচন্ড। সভাপতিত্ব করেন নেপালের বন ও পরিবেশমন্ত্রী নওল কিশোর সাহ সুরি। ভুটানের মন্ত্রী, ইউএনএফসিসিসি সাবসিডিয়ারি বডির চেয়ারম্যান নেপালে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, কিরগিজস্তানের রাষ্ট্রপতির বিশেষ প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নেপাল সরকারের মুখ্য সচিব ড. বৈকুণ্ঠ আরিয়াল।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, কার্বন নিঃসরণ বন্ধ না করলে, অভিযোজন এবং প্রশমন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আমরা যা কিছু করার চেষ্টা করি, তা যথেষ্ট হবে না। অভিযোজন এবং স্থিতিস্থাপকতার সীমা রয়েছে। বাংলাদেশ এবং নেপালের মতো দেশ আগামীকাল নেটজিরো অর্জন করলেও বৈশ্বিক নির্গমনে কোনো পার্থক্য ঘটবে না, কারণ জি-২০ দেশগুলো বিশ্বব্যাপী নির্গমনের ৮১ শতাংশের জন্য দায়ী।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজনে বাংলাদেশ

প্রচুর ব্যয় করছে। উন্নত দেশগুলো জীবাশ্ম জ¦ালানিতে বছরে সাত ট্রিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দিতে পারে, কিন্তু জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনাগুলোতে অর্থায়ন করে না। এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বন্ধ করতে হবে। আমাদের এখন দ্রুত পদক্ষেপ দরকার, এটা পৃথিবীর সমস্যা। বিশ্ব নেতাদের সদিচ্ছা প্রকাশ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গেলে বাংলাদেশে লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত হবে। লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ আমাদের উৎপাদনশীলতাকে প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশের উত্তরে হিমবাহ গলছে এবং দক্ষিণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। আমরা খরা, বন্যাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের সব নেতিবাচক প্রভাব অনুভব করছি।

লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে পরিণতি ভয়াবহ : পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ। বিশ্বব্যাপী নির্গমনের ৮১ শতাংশের জন্য জি-২০ দেশগুলো দায়ী। উন্নত দেশগুলো নিঃসরণ বন্ধ করেই উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করতে পারে। যতক্ষণ না আমরা ডি-কার্বনাইজ করি, আমরা অভিযোজন এবং প্রশমন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে যা কিছু করার চেষ্টা করি, তা যথেষ্ট হবে না।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনাগুলোর শতভাগ বাস্তবায়িত হলে আমরা এখনো ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্মুখীন হব। এখন আমরা যা করতে পারি তা হলো, ভবিষ্যতের ক্ষতি সীমিত করা। মন্ত্রীর ভাষণটি ছিল কার্যকর জলবায়ু নীতিগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়ার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুর্বল দেশগুলোকে সমর্থন করার জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি একটি শক্তিশালী আহ্বান। পরে মন্ত্রী আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সংলাপের ফাঁকে নেপাল, ভুটান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App