×

শেষের পাতা

পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

Icon

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে যথাযথ বর্জ্য  ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

কাগজ প্রতিবেদক : শিল্পায়নকে পরিবেশবান্ধব করতে শিল্পকারখানা নির্মাণে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিল্পের বর্জ্য নদীতে ফেলে যেন দূষণ ঘটানো না হয় সে বিষয়েও সবাইকে সজাগ থাকতে বলেছেন তিনি। গতকাল রবিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘১১তম জাতীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প পণ্য (এসএমই) মেলা-২০২৪’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্প আমাদের গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবশ্যই সবাইকে করতে হবে এবং সেটা মেনে নিতে হবে। সামান্য একটু কেমিক্যাল ব্যবহারের ওই পয়সাটা বাঁচাতে গিয়ে দেশের সর্বনাশ, সঙ্গে সঙ্গে নিজের সর্বনাশটা কেউ করবেন না- আমার অনুরোধ থাকল। তিনি বলেন, যারা যেখানেই কোনো শিল্প গড়ে তুলবেন- সেখানে অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন, আপনার এই শিল্পের এই বর্জ্য যেন নদীতে না পড়ে। আমাদের পানি যেন কোনোভাবে দূষণ না হয়, মাটিতে দূষণ যেন না হয়। সেদিকে দৃষ্টি দেয়ার জন্য আমি বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। বাংলাদেশেকে ‘আয়তনে ছোট ও জনসংখ্যায় বড়’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নিজেদের দেশের পরিবেশ ও সবকিছু অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হওয়া উচিত। স্বাস্থ্যসম্মত হওয়া উচিত। সেইসঙ্গে জলবায়ুর অভিঘাতে যেন আমরা ক্ষতিগ্রস্ত না হই সেদিকে সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে।

সরকার প্রধান বলেন, আমরা আমাদের শিল্প খাতকে আরো পরিবেশবান্ধব করতে চাই। কারণ শিল্প খাত একান্তভাবে পরিবেশবান্ধব হওয়া উচিত। দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে শ্রমঘন শিল্প গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ডিজিটালাইজেশনে যেন কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতেও অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু পণ্য উৎপাদন নয়, বাজারজাতকরণে দৃষ্টি দিতে হবে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে হবে। পাশাপাশি দেশে অভ্যন্তরীণ বাজার যাতে সৃষ্টি হয় সেজন্য দারিদ্র্য বিমোচন করে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ সময় তরুণ ও যুব সমাজকে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান শেখ হাসিনা। বলেন, দেশের অগ্রযাত্রায় নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। আর সেক্ষেত্রে আমাদের নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে হবে। তরুণ সমাজ, যুব সমাজকে এটাই বলব- কোনো রকম একটা পাস করে চাকরির পেছনে ছুটে না বেরিয়ে নিজে উদ্যোক্তা হয়ে নিজেই

চাকরি দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধা নিতে পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, স্টার্ট-আপ প্রোগ্রামে আমরা বিশেষ সুবিধা দিচ্ছি। আলাদা বাজেট রয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আমরা যে সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি ছেলে-মেয়েদের সেটি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বিশেষ করে নারীদের উদ্যোক্তা হতে হবে। রপ্তানি বাজারে হস্তশিল্পের চাহিদার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে হস্তশিল্পের আলাদা কদর আছে, এটিও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

বক্তব্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ফলে বিশ্ব অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে যে পণ্যগুলো আমদানি করতে হয়, প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে। যার একটা প্রভাব আমাদের দেশে পড়ছে। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। আমরা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। এটি শুধু করতে পারব যখন আমরা নিজস্ব উৎপাদন বাড়াতে পারব।

সাত বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী : বিজয়ীদের সাত উদ্যোক্তার হাতে নগদ পুরস্কার, ট্রফি ও সার্টিফিকেট তুলে দেন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- বর্ষসেরা নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা স্বপ্না রাণী সেন, বর্ষসেরা পুরুষ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা মো. শাফাত কাদির, বর্ষসেরা পুরুষ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা মো. ওয়ালিউল্লাহ ভূঁইয়া, বর্ষসেরা ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা তাসলিমা মিজি, বর্ষসেরা পুরুষ মাঝারি উদ্যোক্তা আশরাফ হোসেন মাসুদ, বর্ষসেরা মাঝারি নারী উদ্যোক্তা সীমা সাহা ও বর্ষসেরা স্টার্ট আপ মদিনা আলী। এদিকে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা চলবে ২৫ মে পর্যন্ত। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় তিন শতাধিক উদ্যোক্তা অংশ নেন। এসএমই মেলায় ১০০ শতাংশ দেশীয় পণ্য প্রদর্শন করা হবে। এবারের মেলায় সাড়ে তিন শতাধিক কোম্পানি অংশ নিচ্ছে যার ৬০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তা।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা, এফবিসিসিআই সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম, এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাসুদুর রহমান প্রমুখ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App