×

শেষের পাতা

ব্র্যান্ডিং সেমিনার

‘মেট্রোরেলের উত্তরা টঙ্গী রুটে হবে ৫ স্টেশন’

Icon

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

‘মেট্রোরেলের উত্তরা টঙ্গী রুটে হবে ৫ স্টেশন’

কাগজ প্রতিবেদক : রাজধানীতে এমআরটি-৬ লাইনের বর্ধিতাংশে উত্তরা উত্তর থেকে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত মেট্রোরেলের মোট পাঁচটি স্টেশন হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক। মেট্রোরেল রুটের স¤প্রসারণের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দিয়াবাড়ী বাজার, সোনারগাঁও জনপদ রোড পূর্ব, পশ্চিম, টঙ্গী বাজার, টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন-মেট্রোরেলের এই পাঁচ স্টেশন। এই পথটি চালু হলে টঙ্গী থেকে কমলাপুর পর্যন্ত যেতে সময় লাগবে ৪৮ মিনিট। সাড়ে সাত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই অংশ চালু হলে আরো ৫ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।

গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) আয়োজিত ঢাকা মেট্রোরেলের ব্র্যান্ডিং সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, লাইন-৬ এর রুটটি বর্তমানে মতিঝিল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত স¤প্রসারণের কাজ চলছে। এখন মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে টঙ্গী রেলস্টেশন পর্যন্ত কাজ স¤প্রসারণের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে।

তিনি বলেন, এমআরটি-৬ লাইন চালু হওয়ায় ১২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। অন্য ৫টি লাইন চালু হলে আরো হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মেট্রোরেল চালু হওয়ার পর বিদ্যুতের দাম ২২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, তবে সরকারের উদারতায় এটা ভাড়ার সঙ্গে যোগ হয়নি। বিদ্যুতের দাম, ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ডিএমটিসিএলের কমিশন যোগ হলে ভাড়া অনেক বেড়ে যাবে। এই টাকা যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা কঠিন হবে। এটা হলে মেট্রোরেলের ছন্দপতন হবে। রাজধানীজুড়ে মেট্রোরেল লাইন বাড়ানোর জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। মেট্রোরেল ইতোমধ্যেই ৩ কিস্তিতে ৭৫ কোটি টাকা লোন পরিশোধ করেছে। মেট্রোরেল ব্যবহারে যাত্রীদের আরো সচেতন হতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ঢাকা সিটি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নে অর্জনে এখন বিশ্বের বিস্ময়। আমাদের মেট্রোরেল অনেক সুন্দর, শব্দদূষণ নেই। অথচ পিলারগুলো পোস্টার দিয়ে ভরা। অপরিচ্ছন্ন নোংরা। মেট্রোরেল আমাদের সম্পদ। ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের টার্গেট ৬টি এমআরটি লাইনের কাজ শেষ করা। ১ ও ৫ নম্বর লাইনের গ্রাউন্ড ম্যাপিং হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্রেইনে আজ মেট্রোরেল, এলিভ্যাটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

ব্র্যান্ডিং সেমিনারে অতিথিদের আমন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সামনে যারা বসে আছেন তাদের বেশির ভাগই আমাদের মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা। কিন্তু যাদের কাছে ব্র্যান্ডিং করা দরকার তারা নেই। ৩ লাখ যাত্রী প্রতিদিন উত্তরা থেকে মতিঝিল আসছে, আবার মতিঝিল থেকে উত্তরা যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে তাদের কাউকে রাখার দরকার ছিলো। মন্ত্রণালয়ের লোকদের কাছে ব্র্যান্ডিং করার দরকার আছে কি না- এটা আমি আগেও বলেছি। আমরা কাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছি সেটা আমাদের মনে রাখতে হবে।

ঢাকায় চলাচলরত বাসের চিত্র তুলে ধরে হতাশা প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই শহরে যে বাসগুলো চলে এগুলো এত গরিব বাস। টিভিতে দেখি আফ্রিকান ছোট ছোট গাড়ি চলে, সেগুলো দেখতে অনেক সুন্দর। অথচ ঢাকা শহরের বাসগুলো জরাজীর্ণ। বিআরটিএ উদ্যোগ নিয়ে এবং মালিকদের সঙ্গে কথা বলেও সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। উন্নয়নের ঢাকার সঙ্গে এসব বাস যায় না। বাস মালিকরা কি বিদেশে যান না? তারা দেখেন না, তাদের কি লজ্জা হয় না?

ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আপনারা দুই মেয়র এই বাস সমস্যার সমাধানে আমাকে সহযোগিতা করুন। যে বাসগুলো চলে তা দেখলে ভীষণ খারাপ লাগে। মফস্বল শহরের বাসগুলোও অনেক সুন্দর। এত আধুনিক মেট্রোরেল থেকে নেমে গরিব, জীর্ণশীর্ণ বাস দেখতে কেমন লাগে।

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, উন্নয়নের কারণে আজ বিদেশিরাও বাংলাদেশে ছুটে আসছে। এর কারণ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ও উন্নয়ন। এখন আমাদের নিজেদের স্মার্ট হতে হবে। মেট্রোরেল ব্যবহারে যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে। আমাদের একটি কার্ডের মাধ্যমে মেট্রোরেল ও গণপরিবহনে চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ আরো স্মার্ট হবে।

বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরি বলেন, মেট্রোরেলের কারণে ঢাকার বাতাস দূষণমুক্ত থাকবে। আরো মেট্রোরেল হলে আরো বেশি যাত্রী কম সময়ে যাতায়াত করতে পারবেন। বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকারও আশ্বাস দেন তিনি।

মেট্রোরেল প্রকল্পে দাতা সংস্থা জাইকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইচিগুচি টমিহিদো বলেন, জাইকা বাংলাদেশের মানুষ ও উন্নয়নে পাশে আছে এবং থাকবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিনুল্লাহ নূরী। আরো উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App