×

শেষের পাতা

৪০ বছরের কাজ চার বছরে শেষ করেছেন মেয়র তাপস

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

৪০ বছরের কাজ চার বছরে  শেষ করেছেন মেয়র তাপস

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, গত চার বছরে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে, তা দেখাতে চাইলে ২০ মিনিটের ভিডিও চিত্র দিয়ে হবে না। অন্তত দুই দিন লাগবে। ৪০ বছরের কাজ ৪ বছরে সম্পন্ন করেছি।

গতকাল রবিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে গত চার বছর কী কী উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে, তার একটি ভিডিও চিত্র দেখানো হয়।

এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন মেয়র। এমন কোনো কাজ আছে কিনা, যেটা গত চার বছরে করতে না পারার কারণে আক্ষেপ আছে? পাশাপাশি আগামী এক বছরে কী কী কাজ অগ্রাধিকারে থাকবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, কোনো ব্যর্থতা নেই, দুর্বলতা থাকতে পারে।

ঢাকাকে সচল করতে না পারা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে একাধিক সাংবাদিক মেয়রকে প্রশ্ন করেন। এ বিষয়ে মেয়র জানান, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে তিনটি রুটে ঢাকা নগর পরিবহন চালু করেছিলেন। তবে সচল ঢাকা নির্মাণে নতুন বিনিয়োগকারী না পাওয়ায় আক্ষেপের কথা জানান তিনি। বলেন, পুরনো বাস দিয়ে আর ঢাকা নগর পরিবহন চালু করব না। আমরা সরকারের শীর্ষ মহলে অনুরোধ করব, নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য কর মওকুফ করা যায় কিনা, প্রণোদনামূলক কিছু সুযোগ-সুবিধা দেয়া গেলে আমরা মনে করি নতুন বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মেয়র তাপস। তিনি বলেন, রোগীর সংখ্যা কত হলো না হলো, সেটা কিন্তু চিন্তার বিষয় না। বিষয় হলো কর্মপরিকল্পনা এবং ব্যবস্থাপনা। এমন কোনো রোগী বলতে পারবে না, আজ অবধি সেই রোগীর বাসায় মশককর্মী যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকা ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ঠিকানায় গিয়ে ওষুধ ছিটানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভুল তথ্য দিক আর সঠিক তথ্য দিক, সেখানে লার্ভা ধ্বংস করা হয়েছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তালিকা ধরে ২০২৩ সালে ২৭ হাজার স্থাপনায় গিয়ে সঠিকভাবে ঢাকার স্থানীয় ৯ হাজার ৭৬৮ রোগী শনাক্ত করেছেন বলেও জানান মেয়র শেখ তাপস। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেয়র বলেন, গত চার বছরে নিজস্ব অর্থায়নে ১ হাজার ২০০ কোটির বেশি টাকা দিয়ে নানা অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নয়ন ও সংস্কার করা

হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে প্রায় ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে চলমান অর্থবছরে আগের সব মাইলফলক অতিক্রম করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। মেয়র তাপস বলেন, মেয়র নির্বাচনের প্রাক্কালে আমি ঢাকাবাসীর ওপর কোনো রকমের করের বোঝা না চাপিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিলাম।

সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, গত চার বছরে আমরা কোনো খাতে কোনো কর বাড়াইনি। বরং এ সময়ে ২৫টি নতুন খাত সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ১৪টি নতুন খাত থেকে আমরা রাজস্ব আদায় শুরু করেছি। ফলে করোনা মহামারির মতো বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও রাজস্ব আদায়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতিহাস সৃষ্টি করে চলেছে, যা আজ পর্যন্ত অগ্রসরমান।

মেয়র বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এক সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও তাদের জিপিএফ-সিপিএফের লভ্যাংশ, ঠিকাদারদের বকেয়া, ডিপিডিসি-ওয়াসা-তিতাস গ্যাসসহ সেবা সংস্থাগুলোর বকেয়া পাওনা দীর্ঘদিন পরিশোধ করতে পারেনি। সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে সবার সহযোগিতায় এবং আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ফলে আমরা প্রায় সব বকেয়াসহ পাওনা পরিশোধ করেছি। একই সঙ্গে করপোরেশনের প্রায় সব গাড়ির নিবন্ধন করেছি। দীর্ঘ ৫০ বছরের ভূমি উন্নয়ন করসহ অন্যান্য পুঞ্জিভূত বকেয়া পাওনাদিও আমরা পরিশোধ করেছি।

তিনি বলেন, আগের সব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য করপোরেশনকে প্রকল্পনির্ভর থাকতে হতো। কিন্তু রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ঢাকাবাসীর কল্যাণে অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য আমাদের এখন আর প্রকল্পনির্ভর থাকতে হয় না। গত চার বছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নিজস্ব অর্থায়নে এক হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি নানাবিধ অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নয়ন ও সংস্কার করেছে।

ফজলে নূর তাপস বলেন, রাস্তা-মার্কেটের দোকান, অলি-গলি, কাঁচাবাজার, পথচারীদের হাঁটার পথ, নর্দমা এমনকি নদী-নালায়ও ভূমিদস্যুরা পাকাপোক্ত আস্থানা গেড়ে বসেছিল। দখলদারিত্ব যেন নিয়মে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আমরা কঠোরতা দেখিয়ে চলেছি এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আমাদের অনমনীয় মনোভাব আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। আমরা যেমন দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হওয়া ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট, সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেট, গুলিস্তান ট্রেড সেন্টারের বেইজমেন্ট, নিউ সুপার মার্কেটসহ অনেকগুলো মার্কেটের নকশাবহির্ভূত দোকান নির্মাণকারী অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করেছি, তেমনই দখলমুক্ত করা হয়েছে বুড়িগঙ্গা আদি চ্যানেল ঘিরে গড়ে ওঠা ১৫৫টি স্থাপনা। আমরা আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ১০ তলা ভবন, পান্না ব্যাটারি ও ম্যাটাডোর বলপেনের অবৈধ বর্ধিতাংশসহ কয়েক ডজন অবৈধ বহুতল ভবন ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। জলাবদ্ধতার সমস্যা ৭০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে বলেও জানান তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App